পাতা:ফিরিঙ্গি-বণিক্.djvu/২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R ফিরিঙ্গি বণিক অধিকারভুক্ত হইল, এবং ইউরোপের পুরাতন সুখসৌভাগ্য তিরোহিত হইবার উপক্ৰম ঘটিল। খৃষ্টজন্মভূমি মুসলমানের অধিকারভুক্ত হইবার পর, ইউরোপের খৃষ্টধৰ্ম্মানুরক্ত বীরপুঙ্গাবগণ তাহার উদ্ধার-সাধন করিবার আশায়, অকুতোভয়ে যুদ্ধযাত্ৰা করিতে আরম্ভ করিলেন । ইহাত্ন, মুখ্য লক্ষ্য ধৰ্ম্মকলহ বলিয়া ইতিহাসে সুপরিচিত হইলেও, তাহার সহিত বাণিজ্যকলহ ও সম্মিলিত হইতে বিলম্ব ঘটিল না। ভূমধ্যসাগরের বাণিজ্য-পরায়ণ নাবিক বর্গ ক্ৰমে ক্ৰমে ধৰ্ম্মযুদ্ধোন্মত্ত বীরবৃন্দের সহিত মিলিত হইয়া, কিছুদিনের জন্য ভারতীয় বাণিজ্যপথ পুনরায় হস্তগত করিবার চেষ্টা করিয়াছিলেন । সে চেষ্টা সফল হইলে, অল্প দিনেই হয় তা পুরাতন বাণিজ্যপথে ইউরোপীয় বণিশ্বর্গের পুরাতন বাণিজ্যাধিকার সুসংস্থাপিত করিতে পারিত । কিন্তু মধ্য-এসিয়ার তুর্কিগণ প্ৰবল হইয়া, খৃষ্টীয় একাদশ শতাব্দী হইতে চতুৰ্দশ শতাব্দীর মধ্যে, ক্ৰমে ক্ৰমে সমগ্ৰ স্থলবাণিজ্যপথ হইতে ইউরোপের সমস্ত প্রভাব চিরকালের জন্য বিলুপ্ত করিয়া দিয়া ছিল । “মিশরীয় পথে” ভারতীয় বাণিজ্য প্রবাহিত করিয়া, তদ্বারা পুরাতন স্থল-বাণিজ্য-পথের প্রাধান্য লোপ করিবার জন্য নানা চেষ্টা প্রবত্তিত হইয়াছিল। সুয়েজ হইতে নীল নদ পৰ্য্যন্ত জলপ্ৰণালীখনিত হইয়াছিল ; লোহিতসাগরতীরে নুতন বন্দর সংস্থাপিত হইয়াছিল ,-মিশরদেশই ভারতীয় বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্ৰস্থলে পরিণত হইবে, এইরূপ অনুমিত হইয়াছিল। ইসলামের অভু্যদয়ে তাহাও ক্রমে ক্ৰমে ইউরোপের হস্তবিচু্যত হইয়া গেল। রাজ্যাধিকার অপেক্ষা বাণিজ্যাধিকারের চেষ্টাই ভূমধ্যসাগরতীরের পুরাতন জনপদবাসিগণের প্ৰধান লক্ষ্য হইয়া উঠিতে লাগিল, । স্থলপথ অপেক্ষা জলপথই কলহকোলাহলের প্রধান ক্ষেত্রে পরিণত হইল। ইসলাম স্থলপথে বিজয়পতাকাহস্তে দেশ হইতে দেশান্তরে অধিকারবিস্তার করিল। ইসলাম