পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/২৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবী চৌধুরী সেই সময় “গোইনদা ! “গোইন” করিয়৷ ডাকাডাকি হইতেছিল। হরবল্লভ বজরায় উঠিয়া সন্মুখস্থ আরদালীর সিপাহীকে বলিল, “গোইলাকে খুজিতেছ ? আমি গেইন্দা।” সিপাহী বলিল, “তোমাকে কাপ্তেন সাহেব তলব করিয়াছেন ।” হর । কোথায় তিনি ? সিপা। কামরার ভিতর, তুমি কামরার ভিতর श्i७ ।। হরবল্লভ আসিতেছে জানিতে পারিয়া, দেবী প্রস্থানের উদ্যোগ দেখিল । “কাপ্তেন সাহেবের জন্য কিছু জলযোগের উদ্যোগ দেখি,” বলিয়া ভিতরের কামরায় চলিয়া গেল । এ দিকে হরবল্লভ কামরার দিকে গেলেন । কামরার দ্বারে উপস্থিত হইয়া কামরার সজ্জা ও ঐশ্বৰ্য্য, দিব ও নিশির রূপ ও সজ্জা দেখিয়া, তিনি বিস্মিত হইলেন । সাহেবকে সেলাম করিতে গিয়৷ ভুলিয়া নিশিকে সেলাম করির ফেলিলেন । হাসিয়া নিশি কহিল, “বন্দেগী গ{ সাহেব ! মেজাজ সরিফ ?” শুনিয়া দিব| বলিল, “বন্দেগী গ৷ সাহেব ! আমায় একটা কুণিস হলে না, আমি হোলেম এদের রাণী ।” সাহেব হরবল্লভকে বলিলেন, “ইহার ফেরেব করিয়া দুই জনেই বলিতেছে, ‘আমি দেবী চৌধুরাণী । কে দেবী চৌধুরাণী—তাহার ঠিকানা না হওয়ায়, আমি তোমাকে ডাকিয়াছি । কে দেবী ?” হরবল্লভ বড় প্রমাদে পড়িলেন । উদ্ধ চতুর্দশ পুরুষের ভিতর কখনও দেবীকে দেখেন নাই । কি করেন, ভাবিয়া চিন্তিয়া নিশিকে দেখাইয়া দিলেন । নিশি খিলখিল করিয়া হাসিয়া উঠিল। অপ্রভিত হইয়া ‘ভুল হইয়াছে’-বলিয়। হরবল্লভ দিবাকে দেখাইলেন। দিবা লহর তুলিয়া হাসিল । বিষণ্ণ মনে হরুবল্লভ আবার নিশিকে দেখাইল । সাহেব তখন গরম হুইয়। উঠিয়া হরবল্লভকে বলিলেন, “টোম্বডজাট—শূওর । টোম্পচাণ্টে নেহি ?” তখন দিব। বলিল, “সাহেব, রাগ করিবেন না । উনি চেনেন না, উহার ছেলে চেনে। উহার ছেলে বজরার ছাদে বসিয়া আছে, তাহাকে আনুন – সে চিন্‌বে।” হরবল্লভ আকাশ হইতে পড়িল, বলিল, “আমার ছেলে !" দিব। এইরূপ শুনি । হর । ত্ৰজেশ্বর ? .দিবা । তিনিই । ૭૭ श्ब्र । দিবা । কোথা ? ছাদে । ইর ব্ৰঞ্জ এখনে কেন ? দিবা । তিনি বলিবেন । সাহেব হুকুম দিলেন, “তাহাকে আন " দিবা রঙ্গরাজকে ইঙ্গিত করিল। তখন রঙ্গরাজ ছাদে গিয়া ব্ৰজেশ্বরকে বলিল, “চল, দিব ঠাকুরাণীর হুকুম ” ব্ৰজেশ্বর নামিয়া কামরার ভিতর আসিল । দেবীর হুকুম আগেই প্রচার হইয়াছিল, দিবার হুকুম পাইলেই ব্ৰজেশ্বর ছাদ হইতে নামিবে । এমনই দেবীর বন্দোবস্ত । সাহেব ব্ৰজেশ্বরকে জিজ্ঞাসা করিল, “তুমি দেবী চৌধুরাণীকে চেন ?” ব্ৰঞ্জ | চিনি । সাহেব । এখানে দেবী আছে ? ব্রজ । না । সাহেব তখন রাগান্ধ হইয়া বলিলেন, “সে কি ? ইহার। দুই জনের এক জনও দেবী চৌধুরাণী নয় ?” ব্র । এরা তার দাসী । স! ! এঃ ! তুমি দেবীকে চেন ? ত্র । বিলক্ষণ চিনি । স। যদি এরা কেহ দেবী না হয়, তবে দেবী অবষ্ঠ এ বজরার কোথাও লুকাইয়া আছে । বোধ হয়, দেবী সেই চাকরাণীট। আমি বজরা তল্লাসী করিতেছি—তুমি নিশানদিহি করিবে আইস । ব্রজ । সাহেব, তোমার বজরা তল্লাস করিতে হয় কর–আমি নিশানদিহি করিব কেন ? সাহেব বিস্মিত হইয়। গজ্জিয়া বলিল, “র্কেও, বডজাট ? টোম গোয়েন্দা নেহি ?” “নেহি” বলিয়া ব্ৰজেশ্বর সাহেবের গালে বিরাশী সিক্কায় এক চপেটাঘাত করিল। “করিলে কি, করিলে কি ? সৰ্ব্বনাশ করিলে ?” বলিয়। হরবল্লভ কাদিয়া উঠিল । “হুজুর । তুফান উঠা !" বলিয়া বাহির হইতে জমাদার হাকিল । র্সে সে করিয়া আকাশপ্রাস্ত হইতে ভয়ঙ্কর বেগে বায়ু গর্জন করিয়া আসিতেছে শুনা গেল। . কামরার ভিতর হইতে ঠিক সেই মুহূৰ্ত্তে—ষে মুহূৰ্ত্তে সাহেবের গালে প্রজেশ্বরের চড় পড়িল, ঠিক সেই মুহূৰ্ত্তে আবার শাক বাজিল। এবার দুই ফু । বজরার নোঙর ফেল ছিল না—পূৰ্ব্বে বলিয়াছি, খোটায় কাছি বাধা ছিল, গোটার কাছে দুই জন