পাতা:বঙ্গসাহিত্যে নারী.pdf/১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
বঙ্গসাহিত্যে নারী

বাধা সর্ব্বপ্রথম দূর করেন, তৎকালীন সরকারী শিক্ষা-সংসদের সভাপতি ভারত-হিতৈষী ড্রিঙ্কওয়াটার বীটন (বেথুন)। তিনি রামগোপাল ঘোষ, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়মদনমোহন তর্কালঙ্কার-প্রমুখ এদেশের কয়েকজন সুসন্তানের সহায়তায় ১৮৪৯ সনের ৭ই মে কলিকাতা বালিকাবিদ্যালয় (বর্তমানে বেথুন কলেজ) প্রতিষ্ঠা করেন।[১] তদবধি দেশে প্রকাশ্যে স্ত্রীশিক্ষা প্রসার লাভ করিতে থাকে। ইহারই প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ অনতিকালমধ্যে আমরা কোনো কোনো বঙ্গমহিলাকে পর্দার অন্তরাল ভেদ করিয়া সাহিত্যক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইতে দেখি। তাঁহাদের রচিত কবিতাবলী ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রে সাদরে গৃহীত হইতে থাকে।

 ১৮৫৬ খ্রীস্টাব্দে বঙ্গমহিলা-রচিত সব প্রথম পুস্তক প্রকাশিত হয়; উহা ‘চিত্তবিলাসিনী’ নামে একখানি নাতিদীর্ঘ কাব্য (পৃষ্ঠা-সংখ্যা ৭২), লেখিকা—কৃষ্ণকামিনী দাসী[২] গুপ্ত-কবি ইহার সমালোচনা প্রসঙ্গে ‘সংবাদ প্রভাকরে’ (২৮-১১-১৮৫৬) লেখেন:

 “আমরা পরমানন্দ-সাগর-সলিলে নিমগ্ন হইয়া প্রকাশ করিতেছি যে ‘চিত্তবিলাসিনী’ নামক অভিনব গ্রন্থ প্রাপ্ত হইয়া পাঠানন্তর চিত্তানন্দে আনন্দিত হইয়াছি, অঙ্গনাগণের বিদ্যানুশীলন বিষয়ে যে সুপ্রণালী এ-দেশে প্রচলিতা হইতেছে, তাহার ফলস্বরূপ এই গ্রন্থ,.. অবলাগণ বিদ্যানুশীলন পূর্ব্বক অবনীমন্ডলে প্রতিষ্ঠিতা হয়েন ইহাই আমারদিগের প্রাথনা।”

  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত-সম্পাদিত ‘সংবাদ প্রভাকর’ (দ্র ১৫, ২৬, ৩০ মে, ১৮৪৯) ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রবর্তিত ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ (১৪ মে), এই বিদ্যালয়টিকে বিক্টরিয়া বালিকাবিদ্যালয়’ নামে অভিহিত করিয়াছেন। প্রথমাবস্থায় ইহা এই নামেই পরিচিত ছিল, এরূপ মনে করা অসঙ্গত হইবে না।
  2. মিসেস মুলেন্স (Mullens) ১৮৫২ খ্রীস্টাব্দে “স্ত্রীলোকদের শিক্ষার্থে বিরচিত” ‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ (পৃ ৩০৬) প্রকাশ করেন। স্থানীয় লোকের মুখে শনিয়াছি, ইনি একজন বঙ্গমহিলা, চক্রবেড়িয়া-নিবাসী খ্রীস্টধর্মাবলম্ববী ভগবানচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কন্যা, পাদরি মুলেন্সকে বিবাহ করেন। ‘ফুলমণি ও করুণার বিবরণ’ সম্পবন্ধে পাদরি লং তাঁহার পুস্তক-তালিকায় এইরূপ বিবরণ দিয়াছেন: “In the guise of fiction, written for native Christian women, to shew the practical effects of Christianity in forming marriage connections, behaviour to husbands, moral training of children and women's duty to the poor and sick, the bad effects of debt, and of secluding females; of domestic economy, cleanliness, cheerfulness, industry, attending God’s house, reading the Bible. Appended to it is a very useful list of suitable names for Native Children.”