পাতা:বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (কায়স্থ কাণ্ড, প্রথমাংশ, রাজন্য কাণ্ড).djvu/২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

সুচমা o সামাজিক উৎসবকালে, প্রধানতঃ বিবাহসভায় সকলকে ডাকিয়া গান করিয়া যে কুলগাখী শুনান হইত, তাহা “ডাক” নামে পরিচিত। এক সময়ে আমাদের সমস্ত কায়স্থসমাজে এরূপ শত শত “ডাক” সুপ্রচলিত ছিল। অধিকাংশস্থলে কুলপঞ্জিকাগুলি সাধারণের অধিগম্য ছিল না, কুলাচাৰ্য্যগণের অনেকটা নিজস্ব ও আয়ত্তাধীন ছিল, বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত তাহাতে অপরের সাক্ষাৎ সম্বন্ধ ঘটিষ্ঠ না। কিন্তু “ডাক”গুলি অনেকটা সাধারণ-সম্পত্তি। কি ভাষার প্রাচীনতায়, কি সমাজ-সমালোচনায়, কি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ইতিহাসের গঠনে এই ডাকগুলি জামাদের সৰ্ব্বাপেক্ষ আদরের গাথা , তাহাতে আমাদের কুলীনমৌলিক সকল সমাজের সখি, কুলপরিচয় গ্রথিত। একদিন বাঙ্গালার বিরাট কায়স্থসমাজের সর্বত্রই আমাদের মাতৃভাষা রচিত এই ডাকগুলি সবিশেষ সমাদৃত ছিল। পরবর্তী কালে সেই স্বপ্রাচীন ডাকগুলির আদর্শে: বা অনুকরণে আধুনিক ডাক, ডাকুর, ঢাকুর বা ঢাকুরী অভিধেয় কুলগ্রন্থগুলি ब्रक्लेिखः হইয়াছে। শেষোক্ত ঢাকুর বা ঢাকুরীগুলির সমধিক প্রচলনে বাঙ্গালী-সাহিত্যের আদিনিদর্শন ডাকগুলির অধিকাংশই বিলুপ্তপ্রায়,—বলিতে কি অপরাপর কায়স্থসমাজে সেই সকল সুপ্রাচীন ডাকের স্মৃতি-পর্য্যন্ত নাই, কিন্তু আমাদের নিতান্ত সৌভাগ্যের বিষয় বলিতে হইবে যে, আমাদের রক্ষণশীল উত্তররাঢ়ীয় কায়স্থসমাজ হইতে অস্থাপি ডাকের স্মৃতিলোপ ঘটে নাই। সৌভাগ্যক্রমে উত্তররাঢ়ীয় সমাজের বহুসংখ্যক কুলগ্রন্থের সহিত কয়েকখানি ডাকও আমার হস্তগত হইয়াছে। কুলপঞ্জিকা অপেক্ষ ডাকগুলির প্রাধান্ত দেখাইতেছি কেন ? তাহার কারণ, ডাকগুলি আমাদের বাঙ্গালা-ভাষার অতি পুরাতন অবস্থার সম্পত্তি,—ডাক-গাখী সৰ্ব্বসমক্ষে গীত হইত বলিয়া ও সকলের আলোচনার বিময় ছিল বলিয়া ইহার মধ্যে প্রকৃত ইতিহাস স্থানলাভ করিয়াছে,—মিথ্যা প্রবেশ করিতে পারে নাই । তাই আমি বলিতেছি যে, এ গুলি আমাদের বিশেষ পূজার সামগ্ৰী। এই ডাকগাথার অনুকরণে শতাধিক বর্ষ পূৰ্ব্বে যে সকল ঢাকুর রচিত হইয়াছে, তাঙ্গতেও সেই পূৰ্ব্ব সমাজচিত্র—অংশ ও বংশের প্রকৃত আলেখ্য—সেই পূৰ্ব্বতন রচনারই ক্রম রক্ষিত হইয়াছে। স্থধুের বিষয়, গৌড়বঙ্গের সকল কায়স্থসমাঙ্গ হইতেই এরূপ শতাধিক ঢাকুর সংগৃহীত হইয়াছে। ডাকগাথার স্থায় এই ঢাকুর' গুলিও এক সময়ে সভামগুপে কবির মুরে গীত হুইত, কুলাচাৰ্য্যগণ দলবদ্ধ স্তইয়া সমস্বরে এই ঢাকুর গান করিতেন। রাজস্থানের ইতিহাসে ভাট ও চারণগণের গ্রথিত রাজপুত-কীৰ্ত্তিগাথার পরিচয় পাইয়াছেন, আমাদের চারণরূপী কুলাচাৰ্য্যগণ ও সেইরূপ কুলগাথা গান করিতেন। আদি ডাক ও তৎপরবর্তী ঢাকুরসমূহে আমাদের সেই জাতীয় গানই हहेब्राप्छ, সুতরাং এ গুলি আমাদের কত আদবে কত যত্নে রক্ষিতব্য অমূল্যরত্ন, তাছা সহজেই বুঝিতে পারেন। প্রথমতঃ সমাজতত্ত্বজ্ঞ জ্ঞানী ও ধাৰ্ম্মিক ব্যক্তিই কুলাচাৰ্য্যপদে নিযুক্ত হইয়াছিলেন, উপযুক্ত পদে যোগ্য ব্যক্তি অধিষ্ঠিত হওয়ায় তাহারা সমাজস্থ সকলের শ্রদ্ধা, ভক্তি ও সমাদরের পাত্র হইয়াছিলেন । তাছার নিরপেক্ষভাবে সমাজের দোষগুলি সমালোচনা করিতেন,—