পাতা:বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (কায়স্থ কাণ্ড, প্রথমাংশ, রাজন্য কাণ্ড).djvu/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

Se বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস [ sभ अशांबं । শক ও আন্ধরাজগণ সকলেই সাম্যবাদী ছিলেন। তাহারা ব্রাহ্মণ ও শ্রমণ উভয়কেই সমাদর করিয়া গিয়াছেন। শকসম্রাটু কনিক্ষের যত্নে মহাযান-ধর্মের স্বত্রপাত এবং নাগাৰ্জুনের যত্নে মহাযানমতের প্রতিষ্ঠা হয়। চীন-পরিব্রাজক যুয়ঙ চুঙ, খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীতে লিখিয়া গিয়াছেন, সাতবাহনরাজ নাগাৰ্জুনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।” ব্ৰাহ্মণ ও শ্রমণদিকে একতাস্থত্রে আবদ্ধ করিবার জন্তই নাগাৰ্জুন মহাযানধৰ্ম্ম প্রচার করিয়াছিলেন। ব্রাহ্মণসমাজ যে গীতা ও উপনিষদের চিরদিন আদর ও সন্মান করিয়া আসিতেছেন, যে সকল দেবদেবীকে প্রধান উপাস্ত বলিয়া মনে করিতেন, নাগাৰ্জুন সেই সকল তত্ত্বগ্রন্থ ও দেবদেবীকে সসন্মানে গ্রহণ করিয়াছিলেন। বিশেষতঃ দক্ষিণাপথের অধীশ্বর নাগাৰ্জুনের সহায় থাকায় অল্পদিনমধ্যেই তৎপ্রবৰ্ত্তিত মহাযানধৰ্ম্ম আব্রাহ্মণ সাধারণে রাজধৰ্ম্ম ভাবিয়া গ্ৰহণ করিয়াছিলেন। শকসাম্রাজ্য ধ্বংসের পর উত্তরাপথে নাগবংশই প্রবল হইয়াছিল, সেই নাগবংশেই নাগাৰ্জুনের আবির্ভাব। স্ববংশীয় মহাপুরুষ নাগাৰ্জুনের প্রভাব সহজেই নাগরাজবংশের মধ্যে বিস্তৃত হইয়াছিল। এইরূপে অল্পদিনমধ্যেই সমস্ত ভারতবর্ষে নাগাৰ্জুনের মহাযানধৰ্ম্ম পরিগৃহীত হয়। মহাযানধৰ্ম্মে দেবদেবী ও গুরুপূজার বিধান থাকায় প্রথমতঃ ব্রাহ্মণসমাজ এই নবধৰ্ম্মের বিরুদ্ধাচরণ করিতে প্রবৃত্ত হন নাই, বরং অনেকেই এই নবধৰ্ম্মের আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিলেন। সেই সঙ্গে রাজপুরুষ কায়স্থগণ অনেকেই মহাযানসম্প্রদায়ভুক্ত হইয়াছিলেন। অহিংসা ও শূন্তবাদ যে ধর্থের মূলম, বলিপ্রিয় বৈদিকু বিপ্রসারে কখনই তাহ অনুমােদিত হইতে পারে না। কিছুকাল পরে ব্রাহ্মণসমাজ দেখিলেন, মহাযানের সাধারণ লোকের জন্ত দেবদেবীর পূজা প্রচলিত করিলেও আর্য্য ব্রাহ্মণ্যধৰ্ম্মের মূল বৈদিক কৰ্ম্মকাও গ্রহণ করিতেছে না। যাগযজ্ঞাদি বৈদিক কৰ্ম্মে পুৰ্ব্ববৎ সাধারণের মতিগতি নাই। যে আচার লইয়া ব্রাহ্মণসমাজের প্রতিষ্ঠা, সেই বৈদিক আচার ও বৈদিক ক্রিয়াকাও বিলুপ্ত হইতেছে ; সুতরাং বৈদিক বিপ্ৰকুল আবার চিন্তাকুল হইলেন। কিরূপে এই নব বৌদ্ধধর্মের প্রভাব খৰ্ব্ব করিবেন, তজ্জন্ত তাহারা সকলেই বদ্ধপরিকর হইলেন। উত্তরভারতে নাগবংশ যতদিন প্রবল ছিল, ততদিন সেখানে বৈদিক সমাজ মন্তকোত্তলন করিতে পারে নাই। দক্ষিণাপথের সাতবাহনবংশীয়গণ ব্রাহ্মণভক্ত হইলেও বৌদ্ধবিদ্বেষী ছিলেন না। সেখানেও বৈদিকগণের উদেপ্তসাধনের স্থযোগ ঘটে নাই। বরং এ সময়ে অনেকেই কতকটা মহাযানধর্শ্বের পক্ষপাতী ছিলেন। দক্ষিণাত্যে ত্ৰৈকূটক ও আভীরবংশের অভু্যদয়ি শক ক্ষত্রপগণ কিছু অবসর হইয়া পড়েন। ত্ৰৈকূটক ও আভৗরদিগের সহিত শকক্ষত্রপগণ কিছুকাল যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত থাকেন, এই বিপ্লবের সময় গুপ্তবংশের অভু্যদয়। উত্তরাপথে নাগবংশ দমন করিয়া ওগুগণ দাক্ষিণাত্যের প্রতিও লোলুপদৃষ্টি নিক্ষেপ করেন। যখন চারিদিকে এইরূপ গোলযোগ চলিয়াছিল, সেই সময়ে বৈদিক বিপ্রগণ স্ব স্ব অবস্থা কতকটা হৃদয়ঙ্গম করেন। এই সময়ে রাজস্ববিভাগের প্রধান প্রধান কৰ্মচারী কায়স্থগণও প্রভুত্বলাভের জন্য অনেকে বৈদিকবিপ্ৰগণের পক্ষাবলম্বন করেন। (ss) Watter's On Yuang Chuang, Vol, ll, p. 2oo.