পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৫৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কৃষ্ণচন্দ্রীয় যুগ—জয়নারায়ণ সেন–জন্ম ১৮শ শতাব্দীর পূর্বাৰ্দ্ধ। ১৪৯৩ গেলা যেন জু নখেতে তৃণ ছিড়ি যায়। (১) এত পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেম ফেলিলা কোথায় ॥ যত শোক উঠে মনে কহিতে দুষ্কর। মুকের স্বপন হেন হইছে অন্তর। (২) স্থনেত্রী এই দুঃসময়ে সত্যনারায়ণকে পূজা করেন। র্তাহার ভক্তিতে সন্তুষ্ট হইয়া ঠাকুর সিংহল-রাজকে স্বপ্নে দেখা দিয়া আদেশ করেন,— “সাধুকে মুক্তি দান কর” । প্রভাতে রাজার আদেশে চোর বন্ধন-শালা হইতে রাজার নিকট আনীত হইয়াছে। ত্বরিতে লইয়া আইল রাজার সাক্ষাতে। করেতে ইসারা করি কহিলা বসিতে ॥ সচকিত মনে সভে ভাবে চমৎকার। ধীরে ধীরে পুছিতে লাগিলে সমাচার ॥ কি নাম তোমার ঘর হয় কোন দেশ। কি মতে পাইল হার কহ সবিশেষ ॥ পরিচয় জিজ্ঞাসা ও প্ৰণমিয়া কহে বৈশু যোড় করি কর । সাধুর আত্ম-বিবরণ। ধৰ্ম্মরাজ গৌড়রাজ্যে অনাথের ঘর ॥ ধনপতি নাম মোর শুন গুণধাম । সঙ্গেতে জামাত হয় চন্দ্রভান নাম ৷ বৈশুজাতি প্রতিপোষে বাণিজ্য করিয়া। পালি পরিজন লোক-ভূবন ভ্ৰমিয়া ॥ হস্তিন কর্ণাট বঙ্গ কলিঙ্গ গুর্জর । বারাণসী মহারাষ্ট্র কাশ্মীর সফর। পঞ্চাল কাম্বোজ ভোজ মগধ জয়ন্তী । দ্রাবিড় নেপাল কাঞ্চি অযোধ্যা অবন্তী ॥ মথুৱা কাম্পিল মায়াপুরী দ্বারাবতী। চীন মহাচীন কামরূপে করি গতি ৷ (১) লোকে যেরূপ অবহেলায় দুইটি নখ দ্বারা একটু তৃণ ছিড়িয়া যায়, তুমি সেইরূপ আমার হৃদয় ছিন্ন করিয়া গেলে। (২) বাক্-শক্তিহীন ব্যক্তি যেরূপ তাহার স্বল্প-কথা কহিতে পারে না, আমিও সেইরূপ আমার দুঃখ-কথা বলিতে পারিতেছি না।