পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৭৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৭২০ বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় । এক রাজহংস আসিয়া উপস্থিত হইল। বকেরা ঐ হংসকে দেখিয়া অত্যন্ত চমৎকৃত হইয়া লোহিত-লোচন লপন চরণ ধবল শরীর তুমি কে ছে ংস কহিল আমি রাজহংস। বকের কহিল ওহো তুমিই রাজহংস বটে। ভাল এক্ষণে কোথা হইতে আইলা। মানসসরোবর হইতে । সে স্থানে কি আছে। সুবর্ণবর্ণ রাজীবরাজী পীযুষ-তুল্য জল নান রত্নেতে নিবদ্ধ আলবাল যারদের এতাদৃশ পাদপপংক্তি তীরেতে বহুবিধ মণিখচিত হিরন্ময় সোপানাবলি এই সকল তথা আছে। এতদ্রুপ উত্তর প্রত্যুত্তরীনস্তর ক্রৌঞ্চেরা কহিল সেখানে শামুক আছে। হংস কহিল না। এই কথা শ্রবণ মাত্রে বকেরা হংসকে হি হি করিয়া উপহাস করিল। অতএব কহি হে পুত্র অপকৃষ্ট লোকের নিকটে যাইবে না উৎকৃষ্ট বিশিষ্ট স্থানেই যাইবে । জনকরাজ পরম ধাৰ্ম্মিক সত্যেকনিকেতন জীবন্মুক্ত সংপ্রতি ক্রতুদীক্ষা গ্ৰহণ করিয়াছেন তাহার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎকার হওয়া বড় সুখের বিষয়। অতএব আমি অদ্যই মিথিলানগরী যাত্রা করিব পাথেয়ের সঙ্গতি কর। পিতার এই আজ্ঞা পাইয়া পুত্ৰ তঙুল শক্ত ক তাত্রিকাদি কিছু পথ-খরচের সংযোগ করিয়া দিলেন। ব্রাহ্মণ মিথিলা প্রস্থান করিলেন পরে পথে আসিতে আসিতে পাথেয় ফুরাইল দিনত্রয় জলমাত্র পান করিয়া চতুর্থ দিবসে অত্যন্ত ক্ষুধাৰ্ত্ত হইয় মিথিলাতে পৌছিলেন। শাখানগর প্রাপ্তে ম্লেচ্ছ জাতি হস্তিপকের করিনিকর-আহারার্থে মাষ কুন্মাষাদি সিদ্ধ করিয়া শীতল হওয়ার নিমিত্ত প্রসারিত করিয়া রাখিয়াছিল। ঐ ব্রাহ্মণ অসহ্য বুভুক্ষতে অস্থির হইয়া নিষাদদিগকে কহিলেন ওরে হস্তিপালকের এ সিদ্ধান্ন হইতে ভক্ষণোপযুক্ত আমাকে কিছু দে আমি ক্ষুধাতে অত্যন্ত ব্যথিত হইয়া আছি আহার করিব ক্ষুধাতে আমার প্রাণ যায়। হস্তিপকের কহিল আঃ সৰ্ব্বনাশ এ কি আমরা স্লেচ্ছ এ অন্ন পাক করিয়াছি আপনি ব্রাহ্মণ কি মতে আমাদের সিদ্ধৌদন খাইবেন । ব্রাহ্মণ কহিলেন ওরে আমি যদি কিছু এক্ষণে ভোজন না করি তবে আমার প্রাণ-প্রয়াণ হয়। প্রাণাত্যয়ে নিষিদ্ধান্ন ভোজন করিতে পারে এমত উপদেশ আছে এবং বেদান্ত-শাস্ত্রে বেদব্যাসও সন্মত করিয়াছেন। স্নেচ্ছের কহিল বাপু আমরা শাস্ত্র ফাস্ত্র কিছু বুঝি না খাইতে চাহ আপনি হাতে উঠাইয়া লইয়া খাও আমরা মানা করি না কিন্তু হাতে তুলিয়া দিতে আমরা পারিব না। মৈথিলাধিপ দোর্দণ্ড প্রতাপশালী তীব্ৰশাসন তাহার কর্ণগোচর হইলে আমাদিগকে সবংশে একগাড় করিবেন। অনন্তর ব্রাহ্মণ ঐ ম্লেচ্ছপক্ক কলায় কুলখ স্বহস্তে লইয়া উদর পূৰ্ত্তি করিয়া ভক্ষণ করিলেন। পরে এক ম্লেচ্ছ সুস্নিগ্ধ নিৰ্ম্মল সলিল