পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৮৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন গদ্য-সাহিত্য—মহর্ষির জীবনী—১৯শ শতাব্দীর মধ্যভাগ । আমি ইউনিয়ান ব্যাঙ্কে তাড়াতাড়ি চলিয়া গেলামু। ঐ সময়ে আমি ইউনিয়ান ব্যাঙ্কে কৰ্ম্ম করিতাম। আমার ছোট কাকা রমানাথ ঠাকুর তাহার ধনরক্ষক। আমি তাহার সহকারী। ১০টা হইতে যতক্ষণ না কায নিকাশ হয়, ততক্ষণ তথায় আমার থাকিতে হইত। ক্যাশ বুঝাইয়া দিতে রাত্রি ১০টা বাজিয়া যাইত। কিন্তু সে দিন শু্যামাচরণ ভট্টাচার্য্যের নিকট হইতে পুথির পাতা বুঝিয়া লইতে হইবে, অতএব ক্যাশ বুঝাইয়া দিবার গৌণ আর সহ হইল না। আমি ছোট কাকাকে বলিয়া কহিয়া দিন থাকিতে থাকিতে বাটীতে ফিরিয়া আসিলাম। আমি - আমার বৈঠকখানায় তেতালায় তাড়াতাড়ি যাইয়াই শু্যামাচরণ ভট্টাচাৰ্য্যকে জিজ্ঞাসা করিলার যে, সেই ছাপার পাতাতে কি লেখা আছে আমাকে বুঝাইয় দেও। তিনি বলিলেন, আমি এতক্ষণ এত চেষ্টা করিলাম কিন্তু তাহার অর্থ কিছুই বুঝিতে পারিলাম না। আমি আশ্চৰ্য্য হইলাম। ইংরাজ পণ্ডিতেরা ত ইংরাজি সকল গ্ৰন্থই বুঝিতে পারে। তবে সংস্কৃতবিৎ পণ্ডিতেরা সকল সংস্কৃত গ্রন্থ বুঝিতে পারেন না কেন ? আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, তবে কে বুঝিতে পারে ? তিনি বলিলেন এ তে সব ব্রহ্মসভার কথা,–ব্রহ্মসভার রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ বুঝিতে পারেন। আমি বলিলাম তবে তাহাকে ডাক। বিদ্যাবাগীশ খানিক পরেই আমার নিকট আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তিনি পাতা পড়িয়া বলিলেন, এ যে ঈশোপনিষৎ। “ঈশ বাস্তমিদং সৰ্ব্বং যৎ কিঞ্চ জগত্যাং জগৎ । তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথা মা গৃধঃ কস্ত স্বিদ্ধনং।” যখন বিদ্যাবাগীশের মুখ হইতে “ঈশ বাস্তমিদং সৰ্ব্বং” ইহার অর্থ বুঝিলাম তখন স্বৰ্গ হইতে অমৃত আসিয়া আমাকে অভিষিক্ত করিল। আমি মানুষের নিকট হইতে সায় পাইতে ব্যস্ত ছিলাম, এখন স্বর্গ হইতে দৈববাণী আসিয়া আমার মৰ্ম্মের মধ্যে সায় দিল—আমার আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ হইল। আমি ঈশ্বরকে সৰ্ব্বত্র দেখিতে চাই, উপনিষদে কি পাইলাম ? পাইলাম যে, “ঈশ্বর দ্বারা সমুদয় জগৎকে আচ্ছাদন কর” । ঈশ্বর দ্বারা সমুদায় জগৎকে আচ্ছাদন করিতে পারিলে আর অপবিত্রত কোথায় ? তাহা হইলে সকলি পবিত্র হয়, জগৎ মধুময় হয়। আমি যাহা চাই তাহাই পাইলাম। এমন আমার মনের কথা আর কোথাও হইতে শুনিতে পাই নাই। মানুষে কি এমন সায় দিতে পারে ? সেই ঈশ্বরেরই করুণা আমার হৃদয়ে অবতীর্ণ হইল, তাই “ঈশ বাস্তমিদং সৰ্ব্বং” এই গুঢ় বাক্যের অর্থ বুঝিলাম। আহা ! কি কথাই শুনিলাম—“তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথাঃ” তিনি যাহা দান করিয়াছেন তাহাই উপভোগ কর। তিনি কি দান করিয়াছেন ? তিনি আপনাকেই দান করিয়াছেন। ১৮০৭