পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৯৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৮৯৫
পরিশিষ্ট—বিবিধ গান।

ফুলের তলাস বল কে করে।
আছে কালাবেটি বড় খাটি সে ফুলের মাথার পরে।
তার চরণ দুটি কত কোটি চাঁদ সূরযে আলো ধরে।
সেই ফুল ফেলে ধল্লে পরে যাবি রে পরপারে॥

( ৩ )

বল রে কালী মনের কালি মুছবি যদি সংসারে।
তাজা মরা বাসি পচা কিছুই নাই রে তার ঘরে॥
সে কল্লাবেটি দাড়ায় ধাটি দিয়ে পাট বাবার ঘাড়ে।
করে না লড়ন চড়ন কিরণ ঘুরণ যাদু ক’রে রাখে তারে॥
বেটির আলোকে প্রাণ আছে তাজা ডাক রে মন তাই তারে॥

পাগলা কানাই।

১৯শ শতাব্দীর মধ্যভাগ।

 পাগল কানাই যশোর জেলার ঝিনাইদহ সব-ডিভিসনে বেড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ইনি নিরক্ষর কৃষক ও জাতিতে মুসলমান ছিলেন। ইঁহার ধর্ম্ম-সম্বন্ধীয় স্বাভাবিক প্রতিভাগুণে বহু শিষ্য আকৃষ্ট করিয়াছিল। বিশেষ বিবরণ সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকার (১৩১২ সন) ২য় সংখ্যার ৮৪-৮৯ পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য।

হিন্দু-মুসলমান।

( ১ )

এক বাপের দুই বেটা তাজা মরা কেহ নয়।
সকলেরি এক রক্ত এক ঘরে আশ্রয়॥
এক মায়ের দুধ্‌ খেয়ে এক দরিয়ায় যায়॥
কারো গায়ে শালের কোর্ত্তা কারো গায়ে ছিট্‌,
দুই ভাইরে দেখ্‌তে ফিট্‌,
কেবল জবানিতে ছোট বড়, বোবা বাচাল চেনা যায়॥
কেউ বলে দুর্গা হরি,—কেউ বলে বিশমোল্লা আখেরি,—
পানি খেতে যায় এক দরিয়ায়।
মালা পৈতে একজন ধরে, কেহ বা সুন্নত করে
তবে ভাই-ভাইতে মারামারি করে
যাচ্ছিস্‌ কেন সব গোল্লায়॥