তিনি কোন কথা বলিলেন না, কোন কথা বলিতে পারিলেন না, কিন্তু শত শত অগ্ৰদূত যাইয়া ত্রিপুরেশ্বরকে এই দুঃসংবাদ পূর্ব্বেই শুনাইয়াছিল। বামুন রাজা ত্রিপুরেশ্বরের সিংহাসনের নীচে গড়াইয়া পড়িয়া গেলেন, রাজা তাঁহাকে হাত ধরিয়া উঠাইয়া বলিলেন, “সান্ত্বনা দেওয়ার কিছু নাই— তবে আমি প্রতিশোধ লইব।” তীরন্দাজ, গোলন্দাজ, সৈন্য যার যার হাতিয়ার ঘোড়ার পিঠে বাঁধিয়া বামুন রাজার দেশে ছুটিল।
মুক্তার দণ্ড
মুণ্ডা এবার প্রমাদ গণিল। এত সৈন্য, এত অস্ত্র শস্ত্র দেখিয়া সে একেবারে হতবুদ্ধি হইয়া গেল। যেন সে বেড়া আগুনে পড়িয়াছে,— পলাইবার পথ নাই :—
“একে ত জংলী দল লড়াই নাহি জানে।
ডাকাইতি দাগাবাজি করেছে জীবনে॥
দড়ি বেড় দিয়া সবে মুণ্ডারে ধরিয়া।
ত্রিপুরার সহরে সবে দাখিল করল গিয়া॥
রাজার হুকুমে মুণ্ডারে ময়দানে আনিল।
তিন তোপ মারিয়া শেষে শূন্যে উড়াইল॥”
কত চোর-দশ্য-বর্বর মুণ্ডার মতই এরূপ স্পর্দ্ধা করিয়া নিজের বল না বুঝিয়া জগতে প্রাণ দিয়াছে ৷ মুণ্ডার মৃত্যুতে পৃথিবীর একটা বড় আপদ খণ্ডিল ৷ দুঃখ হয়—দুটি সুকুমার জীবনের জন্য, — যাহারা বসন্ত ঋতুর সমস্ত সম্পদ লইয়া জগতে আনন্দের স্বপ্নরাজ্য সৃষ্টি করিতে উদ্যত হইয়াছিল, যাহাদের নিষ্পাপ হৃদয়ে প্রেমের হোমানল জ্বলিতেছিল, তাহাদের এই অতি দুঃখকর বিয়োগান্ত জীবন-রহস্য মানুষ সমাধান করিতে পারে না, নর-বুদ্ধির অগম্য স্বভাবের এই বিপর্যয়ে ভগবানের নির্মম বিধানের উপর দ্বিধার ভাব আসে।