বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বাংলার পুরনারী - দীনেশচন্দ্র সেন.pdf/৩৫৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
শিলা দেবী
২৫৩

 আর দুঃখ হয় বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ রাজার জন্য। যিনি দয়ায় বিগলিত হইয়া মুণ্ডাকে স্থান দিয়াছিলেন, কিন্তু সেই দয়ার জন্য তাঁহার কতই না বিপদ উপস্থিত হইল! সংসারে করুণার ক্ষেত্র যদি এরূপ কণ্টক-সঙ্কুল হয়, তবে কে আর করুণা দেখাইবে, পরের দুঃখে কাতর হইয়া তাহার প্রতি সহানুভূতি দেখাইবে কে ?


আলোচনা

 শিলাদেবীর আর একটি গান পাওয়া গিয়াছিল। বহুদিন পূর্ব্বে ময়মন- সিংহের আরতি নামক পত্রিকায় বাবু গোপালচন্দ্র বিশ্বাস সেই গানটির সারাংশ সঙ্কলন করিয়া প্রকাশিত করিয়াছিলেন, কিন্তু সে পালাটি হারাইয়া গিয়াছে ৷ তাহার সংক্ষিপ্ত যে বিবরণ আরতি পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিল, তাহা হইতে জানা যায়, এই গানটি সেই আরতিতে প্রকাশিত গানের প্রায় সর্বাংশে একরূপ, শুধু শেষের দিকে একটু পার্থক্য আছে। সেই গানটিতে বর্ণিত হইয়াছে, বামুন রাজা মুণ্ডার হস্তে লাঞ্ছিত হইয়া কোন প্রতাপশালী মুসলমান বাদসাহের শরণাপন্ন হন,—সেই মুসলমানের কনিষ্ঠ পুত্র শিলার রূপে মুগ্ধ হওয়াতে বামুন রাজা কন্যাকে লইয়া ত্রিপুর-রাজের আশ্রয় লাভ করেন। ত্রিপুরেশ্বরের এক পুত্রও শিলার অনুরক্ত হন । উভয়ে উভয়ের অনুরাগী দেখিয়া বামুন রাজা শিলাকে রাজকুমারের হস্তে সমর্পণ করিতে স্বীকৃত হন। রাজপুত্র শিলার পাণিগ্রহণের পর বহু সৈন্য লইয়া মুণ্ডাকে আক্রমণ করেন, পুরুষের বেশে শিলা অশ্বারোহণপূর্ব্বক স্বামীর সহিত ত্রিপুর-সৈন্য পরিচালনা করেন ; মুণ্ডা এই বিশাল বাহিনীর হস্ত হইতে নিষ্কৃতির সম্ভাবনা না দেখিয়াও তাহার স্পর্দ্ধা ও সাহস হারায় নাই। সে কোন এক স্থানে গোমতী নদীর বাঁধ ভাঙ্গিয়া দেয়, তখন ঘোরতর বন্যার জল উন্মত্তবেগে আসিয়া ত্রিপুর-সৈন্য এবং যুবরাজ ও