পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/১৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬০
বাগেশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী

আচরণ করলে কি না। কর্মের সুসম্পন্নতার দিকে চেয়েই শিল্পীর ক্রিয়া ক’রে চলা। কর্মটা কার ভাল লাগবে কি মন্দ লাগবে এ লক্ষ্য রেখে চলা যারা হুকুমে কিছু করছে তাদেরই পক্ষে অত্যাবশ্যক। কিন্তু ভিতরের তাগিদে যে মানুষ কর্ম করছে তার লক্ষ্য মনিব নয়—কর্মের সুচারুতার দিকেই তার দৃষ্টি। অন্য কৰ্ম্মের কথা থাক, শিল্পকর্মের যে নানা ক্রিয়া ত৷ কর্মভেদে শিল্পীকে অভ্যাসের দ্বারা এবং পরীক্ষার পর পরীক্ষার দ্বারা দিনের পর দিন ধরে' দখল করতে হ’ল। এসব জিনিষ হাতে কলমে করে’ শিখতে হ’ল। শিল্পশাস্ত্র ছন্দশাস্ত্র এমনি সব নানা পুঁথি পড়ে' গেলেই কেউ কারিগরিতে পাকা হ’ল না। করার অভ্যাসই কারিগরকে নিপুণ করে' তুল্লে। পড়ার অভ্যাস শাস্ত্রপাঠে নিপুণ করে, করার অভ্যাস কর্মে দক্ষতা দেয়, এটা ভারি সত্য কথা। যে কাজে যে যখন মজবুদ হ’তে চেয়েছে সে সেই কাযের নানা ক্রিয়া নিয়ে নাড়াচাড়া এমন কি খেলা করতে করতেও কর্ম সম্পাদনে পাকা হয়েছে। শিল্পশাস্ত্র পড়ে' শাস্ত্রী এবং একখানা শাস্ত্র না পড়েও লোকে শিল্পী হয়ে উঠলো এমন ঘটনা মানুষের ইতিহাসে বিরল নয়। ভাষা ও পুঁথির অক্ষর সৃষ্টি হবার পূর্বে গুহাবাসী মানুষ যে সব ছবি লিখলে এখানকার অনেকেই তেমন ক’রে হরিণ মহিষ বাঘ এ সব আঁকতে একেবারেই পারে না বলতে চাইনে, শুধু এইটুকু আশ্চর্য্যের বিষয় হয় যে প্রাচীনতম যুগের মানুষের হাতে শিল্পশাস্ত্র ছিল না অথচ তারা ভারে ভারে আশ্চর্য শিল্পসামগ্রী রেখে গেল পরবর্তিকালের পণ্ডিতদের শিল্পশাস্ত্র লেখার কার্যের সুবিধার জন্য। আফ্রিকার নিরক্ষর বর্বরদের মূর্তিশিল্প অতি আশ্চর্য ও মনোহর বলে' এখন ইউরোপে আদর পাচ্ছে বড় বড় শিল্পীর কাছে। কিন্তু সেই সব বর্বর জাতির মধ্য থেকে লিখিত শিল্পশাস্ত্র একখানিও পাওয়া যায়নি। তারা শিল্পক্রিয়া করে' চলেছে মাত্র। মানুষের এই ক্রিয়াশীল নিরক্ষর অবস্থায় গড়া জিনিষের থেকে পরবর্তীকালের ভাষাবিদ্‌ কলাবিদ্‌ বসে বসে আদিম শিল্পের একটা শাস্ত্র রচনা করলে, অলিখিতকে লিখিতের মধ্যে ধরলে। এই ভাবেই সব কালে সব দেশে শিল্পশাস্ত্র দেখা দিয়েছে। এখন আমাদের হাতে মূর্তি-লক্ষণ, চিত্র-লক্ষণ, বাস্তুশাস্ত্র এমনি নানা পুঁথি যা পড়ছে সে সব শাস্ত্রের অনেকখানি অংশ যা গড়া হ'য়ে গেছে, যা আঁকা হ’য়ে গেছে যা লেখা হ’য়ে গেছে, গাওয়া হ’য়ে গেছে শাস্ত্র-ছাড়া অবস্থায় মানুষের দ্বারা—