পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/১৬৬

উইকিসংকলন থেকে
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ჯNoyo বাগেশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী আচরণ করলে কি না । কমের সুসম্পন্নতার দিকে চেয়েই শিল্পীর ক্রিয় ক’রে চলা। কম টা কার ভাল লাগবে কি মন্দ লাগবে এ লক্ষ্য রেখে চলা যার হুকুমে কিছু করছে তাদেরই পক্ষে অত্যাবশ্যক। কিন্তু ভিতরের তাগিদে যে মানুষ কম করছে তার লক্ষ্য মনিব নয়—কমের সুচারুতার দিকেই তার দৃষ্টি। অন্ত কৰ্ম্মের কথা থাক, শিল্পকমের যে নানা ক্রিয়া ত৷ কম ভেদে শিল্পীকে অভ্যাসের দ্বারা এবং 'পরীক্ষার পর পরীক্ষার দ্বারা দিনের পর দিন ধরে দখল করতে হ’ল । এসব জিনিষ হাতে কলমে করে’ শিখতে হ’ল। শিল্পশাস্ত্র ছন্দশাস্ত্র এমনি সব নানা পুথি পড়ে গেলেই কেউ কারিগরিতে পাকা হ’ল না। করার অভ্যাসই কারিগরকে নিপুণ করে তুল্লে। পড়ার অভ্যাস শাস্ত্রপাঠে নিপুণ করে, করার অভ্যাস কমে দক্ষত দেয়, এটা ভারি সত্য কথা । যে কাজে যে যখন মজবুদ হ’তে চেয়েছে সে সেই কাযের নানা ক্রিয় নিয়ে নাড়াচাড়া এমন কি খেলা করতে করতেও কম সম্পাদনে পাকা হয়েছে। শিল্পশাস্ত্র পড়ে শাস্ত্রী এবং একখানা শাস্ত্র না পড়েও লোকে শিল্পী হয়ে উঠলো এমন ঘটনা মানুষের ইতিহাসে বিরল নয়। ভাষা ও পুথির অক্ষর স্বষ্টি হবার পূর্বে গুহাবাসী মানুষ যে সব ছবি লিখলে এখানকার অনেকেই তেমন ক’রে হরিণ মহিষ বাঘ এ সব আঁকতে একেবারেই পারে না বলতে চাইনে, শুধু এইটুকু আশ্চর্য্যের বিষয় হয় যে প্রাচীনতম যুগের মানুষের হাতে শিল্পশাস্ত্র ছিল না অথচ তারা ভারে ভীরে আশ্চর্য শিল্পসামগ্রী রেখে গেল পরবর্তিকালের পণ্ডিতদের শিল্পশাস্ত্র লেখার কার্যের সুবিধার জন্য । আফ্রিকার নিরক্ষর বর্বরদের মূর্তিশিল্প অতি আশ্চর্য ও মনোহর বলে এখন ইউরোপে আদর পাচ্ছে বড় বড় শিল্পীর কাছে । কিন্তু সেই সব বর্বর জাতির মধ্য থেকে লিখিত শিল্পশাস্ত্র একখানিও পাওয়া যায়নি। তারা শিল্পক্রিয়া করে চলেছে মাত্র। মানুষের এই ক্রিয়াশীল নিরক্ষর অবস্থায় গড় জিনিষের থেকে পরবর্তীকালের ভাষাবিদ কলাবিদ বসে বসে আদিম শিল্পের একটা শাস্ত্র রচনা করলে, অলিখিতকে লিখিতের মধ্যে ধরলে । এই ভাবেই সব কালে সব দেশে শিল্পশাস্ত্র দেখা দিয়েছে। এখন আমাদের হাতে মূতি-লক্ষণ, চিত্র-লক্ষণ, বাস্তুশাস্ত্র এমনি নানা পুথি যা পড়ছে সে সব শাস্ত্রের অনেকখানি অংশ যা গড়া হয়ে গেছে, যা আঁকা হ’য়ে গেছে যা লেখা হ’য়ে গেছে, গাওয়া হ’য়ে গেছে শাস্ত্র-ছাড়া অবস্থায় মানুষের দ্বারা—