পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/২৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
২৮৬
বাগেশ্বরী শিল্প প্রবন্ধাবলী

নামত বলে ছেলে। আর কবি যখন তার মনের একটি কিছুর কথা বলছেন তখন নানা কল্পনা নানা জল্পনা নানা বর্ণনা ধরে ধরে ফুটছে সেখানে মনে ধরা স্মৃতি । - রূপদক্ষ মাত্রেরই মধ্যে প্রখর স্মরণশক্তি কায করছে দেখা যায়— “The great writer is one who has profusion of words at his command, together with a great stock of observation.” এখন একটা কথা হচ্ছে এই যে, স্মৃতির ভাণ্ডারে না হয় নানা জিনিষ সংগ্রহই হ’ল, কিন্তু সেগুলো কি ভাবে কাযে খাটানো গেল তারি উপরে সমস্তটা নির্ভর করছে। জমা টাকা অনেক রইলো কিন্তু ভোগে এল না মানুষটির এমন ঘটনা বিরল নয়, কিংবা জমা টাকা অপচয় হয়ে পাঁচ ভূতের পেট ভরালে এও হয়। এইখানে রূপদক্ষের দক্ষতার কথা ওঠে —কথা বেছে বেছে নেবার, ভাব বেছে নেবার । এইজন্য অলঙ্কারশাস্ত্রে শক্তির কথা বলেই নিপুণতার কথা বল্লেন পণ্ডিতেরা—শক্তি নিপুণতা অবেক্ষণ শিক্ষা অভ্যাস এমনি পরে পরে বলা হ’ল । একটা শক্তি যা রূপ-রচনার বিশেষ সহায় হয় তা হচ্ছে এই অভ্যাস । চলার অভ্যাস যার অাছে সে সহজে স্বচ্ছন্দ গতি পেলে, লেখার অভ্যাস যার আছে, ছবি লেখার মূর্তি কাটার নানা কৌশল যার অভ্যাস আছে, সে রচনা সহজে নিম্পন্ন করলে । হাত পা সব থাকতেও অচল থাকি শুধু চলার অভ্যাস নেই বলেই। অক্লান্ত ভাবে নানা শক্তি একটা ছবি কি একটা কবিতার রচনার বেলায় প্রয়োগ করতে হয় রূপদক্ষকে । এর সব শক্তিগুলোই বহু সাধনাসাপেক্ষ কিন্তু এমন আস্তে আস্তে নিজের অজ্ঞাতে রূপদক্ষ মানুষ এই সব শক্তি অর্জন ও প্রয়োগ করে চলেন যে রচনা যেন স্বতঃক্ষত হয়ে ওঠে। কষ্টকল্পিত রচনা এবং সহজ রচন। ছটাে পাশাপাশি রাখলেই কোন খানে রচয়িত নিজের শক্তি প্রয়োগ বিষয়ে বেশ একটু সজাগ এবং কোন খানে তিনি একেবারেই তা নন, এটা ধরা পড়ে। ইঞ্জিন যখন চলে তখন শক্তি বিষয়ে সজাগ একটা দৈত্যের মতো চলে, আর নেীকে যখন চলে পাল ভরে বাতাসের প্রচণ্ড শক্তিকে ধরে চলে সে, কিন্তু দেখে মনে হয় যেন স্রোতের উপর আপনার সবখানি এলিয়ে দিয়ে ভেসে চলেছে। ঝড়ের বাতাস জানলা দরজায় ঝাকানি দিয়ে বলে, শক্তি কাকে বলে দেখ ।