বহুকাল অনুপস্থিতির পর তৎসন্নিহিত নদীতীরে বণিক্পত্নী চন্দ্রকলার পতির নৌকা লাগিবার সময় হঠাৎ তাঁহার মৃত্যু হয়। পতি-বিরহ-বিধুরা চন্দ্রকলার শোক কবি এইরূপে বর্ণনা করিয়াছেন:–
“ধরিয়া মায়ের গলা, কাঁদে কন্যা চন্দ্রকলা,
স্বামি-শোকে হইয়া কাতর।
ম্লান হৈল মুখশশী, মনোরমা মুক্তকেশী,
না সম্বরে অঙ্গের অম্বর॥
হাহাকার ঘন মুখে, চাপড় হানয়ে বুকে,
কপালেতে কঙ্কণ আঘাত।
ধৈরজ ধরিতে নারে, কেন্দে কহে উচ্চস্বরে,
কোথাকারে গেলে প্রাণনাথ॥
হায় এ কি অকস্মাৎ, কোথা গেলে প্রাণনাথ,
একবার দরশন দেও।
না দেখিয়া তুয়া মুখ, বিদরিয়া যায় বুক,
অভাগীরে সঙ্গে করে লও।
দেশে আইলে কত দিনে, বড় সাধ ছিল মনে,
আঁখিভরি দেখিব তোমারে।
তাহাতে দারুণ বিধি, হরিল হাতের নিধি,
বড় শেল রহিল অন্তরে।
পতির মরণে যেন, রতির বিষাদ হেন,
কান্দে কন্যা করিয়া বিলাপ।
মায়ের বিদরে বুক, বাপে দশগুণ দুঃখ,
সবে কান্দি করে মনস্তাপ॥”
“বাপে দশগুণ দুঃখ”—কবি কি সত্যই বলিয়াছেন!
শুনিতে পাই যে, রামেশ্বরের সত্যনারায়ণের পুথির ন্যায় পূর্ব্বদেশে সত্যনারায়ণের ও শনির পাঁচালী প্রচলিত আছে,