ধর্ম্মের নিকট ঋণী আছে বঙ্গভাষাও তদ্রূপ। বঙ্গভাষা তিনটি ধর্ম্মের নিকট বিশেষ উপকৃত, সে তিনটি ধর্ম্ম―বৈষ্ণবধর্ম্ম, খৃষ্টধর্ম্ম ও ব্রাহ্মধর্ম্মণ বাঙ্গালা ভাষা বৈষ্ণবধর্ম্ম ও ব্রাহ্মধর্ম্মের নিকট কত উপকৃত, তাহা আমরা বিশেষ করিয়া বলিয়াছি। কিন্তু খৃষ্টধর্ম্মের নিকট কত উপকৃত, তাহা আমরা বিশেষ করিয়া বলি নাই। খৃষ্টান মিসনরিরা বাঙ্গালা মুদ্রাযন্ত্রের বিশেষ উন্নতি সাধন করেন। খৃষ্টান মিসনরিরা দ্বিতীয় বাঙ্গালা সংবাদপত্র প্রকাশ করেন। খৃষ্টান মিসনরিরা বাঙ্গালা গদ্যের প্রথম সূত্রপাত করেন। খৃষ্টান মিসনরিরা প্রথম বাঙ্গালা অভিধান প্রকাশ করেন। খৃষ্টান মিসনরিরা উন্নতপ্রকারের বাঙ্গালা পাঠশালার সৃষ্টিকর্ত্তা। খৃষ্টান মিসনরিদিগের মধ্যে কেরি ও মার্যম্যান সাহেবের নিকট বঙ্গদেশ বিশেষ উপকৃত। সেই সকল উপকার বঙ্গবাসীরা কখনই ভুলিতে পারিবে না।
বাঙ্গালা ভাষার ক্রমোন্নতি নিম্নলিখিত কয়েক কালে বিভক্ত করা যাইতে পারে।
(১) বিদ্যাপতির কাল।
(২) চৈতন্যের কাল।
(৩) কবিকঙ্কণের কাল।
(৪) রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের কাল।
(৫) শ্রীরামপুর মিসনরিদিগের কাল।
(৬) রামমোহন রায়ের কাল।
(৭) তত্ত্ববোধিনীর কাল।
(৮) বিদ্যাসাগরের কাল।
(৯) মাইকেল মধুসূদন ও বঙ্কিমের কাল