বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক বক্তৃতা.pdf/৮০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৭৬
বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য।

উপযুক্ত সময়েই এই সভা সংস্থাপন করিয়াছেন। তাঁহাদিগের যত্ন ও অধ্যবসায় দেখিলে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হইতে হয়। নিরুৎসাহ বৃদ্ধত্বের একটি প্রধান লক্ষণ, কিন্তু তাঁহাদিগের উৎসাহ দেখিয়া বৃদ্ধেরা পর্য্যন্ত যৌবনের উৎসাহে উৎসাহান্বিত হইয়াছেন। উৎসাহ সাংক্রামিক গুণ; এই উৎসাহানল তাঁহারা ক্রমশঃ চতুর্দ্দিকে বিকীর্ণ করিতে থাকুন। তাঁহারা অচিরাৎ সুসিদ্ধির সহিত সাক্ষাৎ করিবেন। তাঁহাদিগের মধ্যে অধিকাংশই যুবক, তাঁহারা অনেক দিন বাঁচিবেন। তাঁহাদিগের নিকট হইতে আমরা এক্ষণে অনেক প্রত্যাশা করিতে পারি। যৌবন অতি মনোহর কাল। এক্ষণে আশা তাঁহাদিগের সম্মুখে,—উৎসাহ তাঁহাদিগের দক্ষিণে,—আনন্দ তাঁহাদিগের বামে। এক্ষণে তাঁহাদিগকে কে পায়?— ঈশ্বর তাঁহাদিগের মঙ্গল চেষ্টা সফল করুন।[]

সম্পূর্ণ।

PRINTED AT THE NEW BENGAL PRESS, 102, GREY STREET, CALCUTTA.―1878.

  1. এই প্রবন্ধে ভুলক্রমে যথাস্থানে হেমবাবুর “বৃত্রসংহার” নামক শ্রেষ্ঠ বীররস প্রধান কাব্য এবং বঙ্কিম বাবুর “বিজ্ঞানরহস্য” গ্রন্থের উল্লেখ করা হয় নাই। বঙ্কিমবাবুর “বিজ্ঞানরহস্য” কেবল মাত্র অনুবাদ অথবা সংগ্রহ নহে! এই পুস্তক এবং তাঁহার প্রণীত “লোকরহস্য”, “বিবিধসমালোচন” এবং উচ্চভাবের বহুতর তানবিশিষ্ট “কমলাকান্তের দপ্তর” প্রমাণ করিতেছে যে, তিনি কেবল উপন্যাস রচনাতে অদ্বিতীয় এমত নহে; অন্যান্য বিষয়েও লিখিতে অসাধারণরূপে পারগ। গভীর চিন্তাশীল বান্ধব সম্পাদক শ্রীযুক্ত কালীপ্রসন্ন ঘোষের “প্রভাত চিত্তা", সাধারণীর সুযোগ্য ও সুরসিক সম্পাদক শ্রীযুত অক্ষয়চন্দ্র সরকারের প্রণীত “উদ্দীপনা” প্রভৃতি প্রবন্ধেরও কোন উল্লেখ এই বক্তৃতাতে করা হয় নাই, কিন্তু উক্ত প্রবন্ধগুলি বঙ্গদর্শন ও বান্ধবে প্রথম প্রকাশিত হইয়াছিল। যখন এই বক্তৃতায় ঐ সাময়িক পত্রিকাদ্বয়ের বিষয় বলা হইয়াছে, তখন ঐ সকল প্রবন্ধের কথাও বলা হইয়াছে গণা করিতে হইবেক।