পাতা:বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র - মহেন্দ্রনাথ গুহ.pdf/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

২৭

বাঙ্গালীর প্রতিভা ও সুভাষচন্দ্র


দিগন্তে ছড়াইয়া পড়িয়াছিল। বাঙ্গালার বাঘ আশুতোষের অধ্যয়ন স্পৃহা বাল্যকালে অত্যন্ত বলবতী ছিল। তাঁহার এই তীব্র আকাঙ্ক্ষা, দমন করিবার জন্য তাঁহার পিতা ডাক্তার গঙ্গাপ্রসাদ তাহাকে একদিন গৃহমধ্যে আবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছিলেন। সন্ধ্যার প্রাক্কালে গৃহদ্বার উন্মুক্ত করিলে দেখা গেল, বালক আশুতোষ একখানি কয়লার সাহায্যে দেওয়ালে ছবি আঁকিয়া জ্যামিতির কয়েকটী দুরূহ প্রতিজ্ঞার সমাধান করিয়াছেন। বড় হইয়া তিনি গণিতশাস্ত্রের একজন শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত হইয়াছিলেন।

 সুভাষচন্দ্রের পিতা জানকীবাবু প্রচুর অর্থ উপার্জন করিতেন। সমস্ত পরিবারবর্গের চালচলনে পূর্ণ মাত্রায় সাহেবিয়ানা বিদ্যমান ছিল। পূর্ব্বেই বলা হইয়াছে, ২৪-পরগণার অন্তর্গত কোদালিয়া গ্রাম জানকীবাবুর পৈত্রিক নিবাস। পূজার সময়ে জানকীবাবু সপরিবারে দেশের বাড়ীতে আসিতেন। রেলপথে আসিবার সময়ে মহিলাদের জন্য প্রথম শ্রেণীর টিকিট লওয়া হইত। জানকীবাবু নিজে পুত্রগণকে লইয়া দ্বিতীয় শ্রেণীতে যাতায়াত করিতেন। কিন্তু বালক সুভাষচন্দ্রের প্রকৃতি অন্য উপাদানে গঠিত ছিল। তিনি তৃতীয় শ্রেণী ভিন্ন অন্য কোনও শ্রেণীতে ভ্রমণ করিতে চাহিতেন না। সুতরাং তাঁহার। জন্য একখানি তৃতীয় শ্রেণীর টিকিট ক্রয় করিতে হইত।

 বালক সুভাষের প্রথম শিক্ষা হয় প্রটেষ্ট্যাণ্ট স্কুলে। বাড়ীর ছেলেরা সকলেই সাহেবী পোষাক পরিয়া স্কুলে যাইত।