পাতা:বিদ্যাসাগর (বিহারীলাল সরকার).pdf/৩৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বিধবা-বিবাহ।

২৯৭

সর্ব্বত্রই নানারূপ গান গীত হইত। গাড়োয়ানের গাড়ী হাঁকাইতে হাঁকাইতে, কৃষক লাঙ্গল চালাইতে চালাইতে, তাঁত বুনিতে বুনিতে গান গাহিত। শান্তিপুরে বিদ্যাসাগর-পেড়ে নামক এক রকম কাপড় উঠিয়াছিল। তাহার পাড়ে এই গান লেখা ছিল—

“সুখে থাকুক বিদ্যাসাগর চিরজীবি হয়ে!
সদরে করেছে রিপোর্ট বিধবাদের হবে বিয়ে॥
কবে হবে শুভদিন, প্রকাশিবে এ আইন;
দেশে দেশে জেলায় জেলায় বেরবে হুকুম,
বিধবা রমণীর বিয়ের লেগে যাবে ধূম,
মনের সুখে থাক্‌ব মোরা মনোমত পতি লয়ে।
এমন দিন কবে হবে, বৈধব্য-যন্ত্রণা যাবে,
আভরণ পরিব সবে, লোকে দেখবে তাই—
আলোচল কাচকলার মুখে দিয়ে ছাই,—
এয়ো হ'য়ে যাব সবে বরণডালা মাথায় ল'য়ে॥”

কবিবর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এই পদ্য রচনা করিয়াছিলেন,—

“বাধিয়াছে দলাদলি, লাগিয়াছে গোল।
বিধবার বিয়ে হবে বাজিছে ঢোল॥
কত বাদী, প্রতিবাদী করে কত রব।
ছেলে বুড়ি আদি কবি, মাতিয়াছে সব॥
কেহ উঠে শাখাপরে, কেহ থাকে মূলে।
করিছে প্রমাণ জড়ো, পাঁজি পুঁথি খুলে॥
এক দলে যত বুড়ো, আর দলে ছোঁড়া।
গোঁড়া হয়ে মাতে সব, দেখেনাকো গোড়া॥