পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান S eV) পুষ্পের মনে পড়ে গেল কৈলাস পর্বতে অনেক সিদ্ধ মহাপুরুষ লোকচক্ষুর অগোচরে বাস করেন—ওঁদের কাউকে দেখবার ইচ্ছা অনেকদিন থেকেই আছে তার ৷ করুণাদেবীর কাছে সেকথা তুলতেই তিনি তরুণদেবতাকে পুষ্পের বাসনা জানালেন । তিনি বল্পেন—একজন জীবন্মুক্ত সাধু ওখানে আছেন, আমি দু-একবার তাকে সাহায্য করেছিলাম কোনো কাজে । তবে তিনি আমাকে দেখেননি—চলো নিয়ে যাই । কৈলাসপর্বত ও সম্মুখবর্তী গুরলা মান্ধাতা চূড়ার মধ্যে বরফের বিশাল ক্ষেত্ৰ—যতীন কখনো গ্লেসিয়ার বা তুষারপ্রবাহ দেখেনি, ওর মনে কথাটা উঠলো, যা সামনে দেখচে, সেটাই বোধ হয় গ্লেসিয়ার। তরুণদেবতা ওর মনের ভাব বুঝে বল্লেন –তুমি যা ভাবচো, তা এ নয়। চলো এখান থেকে তোমায় শতপস্থ বরফস্রোত দেখিয়ে আনবো— ওরা কৈলাসপর্বতে গিয়ে দেখলে কৈলাস একটি সম্পূর্ণ আলাদা পর্বত, তার তুষারমণ্ডিত পিনাকসদৃশ শিখরের নিম্নভাগে অনেকগুলি গুহা সাধু যোগীদের আবাস। একটি গুহায় একজন শীর্ণকায় সাধুকে দেখিয়ে দেবতা বল্লেন-এর কথা বলছিলাম। উনি এখন স্থূলদেহের স্থলচক্ষে আমাদের দেখতে পাবেন না—নিবিকল্প সমাধিস্ত অবস্থায় ইনি ব্রহ্মের সঙ্গে এক হয়ে যান, তখন আমাদেরও অনেক ওপরে চলে যান উনি । তবে স্থল দেহে ওঁরা সাধারণ মামুষের সমান । যতীন বল্লে—আচ্ছ, এরা একা আছেন কেন ? –নির্জনতা আত্মার উন্নতির একটি প্রধান উপায় । নিম্নজগতের কোনো প্রভাব এই উত্তর জনহীন পর্বতচূড়ায় এদের দেহমন স্পর্শ করে না। নির্জনতায় এরা শক্তি অর্জন করেন —ব্রহ্মজ্যোতিঃ এদের মনে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে এ অবস্থায় । —আমি এর সঙ্গে দু-একটা কথা বলতে পারি? —কি করে ? তুমি স্থল দেহ ত্যাগ করেচ, উনি এখন দেহে অবস্থান করচেন। তা সম্ভব নয় । —আচ্ছা, ওই যে একজন তিব্বতী লোক মানস-সরোবরের ধারে বেড়াচ্ছিল তখন, ওরা কি অবস্থায় আছে? ওদের মুক্তি বা উন্নতি— 婚 দেবতা হেসে বল্পেন— ওদের থাকৃ আলাদা। ওরা নিম্নস্তরের চৈতন্য নিয়ে জন্মেচে– সঙ্কুচিত চেতন । ওরা মরবে, অমনি অল্পদিন পরেই আবার দেহ নিয়ে পৃথিবীতে জন্মাবে, কারণ ভুবর্লোকে ওদের চৈতন্য মোটেই থাকে না। যদিও থাকে, খুব কম। দেহ না নিলে উপায় হয় না—স্বতরাং দীর্ঘ সময় ধরে ওদের, প্রায় স্থূলদেহেই বর্তমান থাকতে হয়-পৃথিবীর কামনা বাসনার উধেব ওদের উঠতে অনেক দেরি । সভ্য সমাজেও এমন অনেক আছে—খুনী, দম্বা, অলস, চোর, পরপীড়ক ইত্যাদি । করুণাদেবী হেসে দেবতার দিকে বক্রষ্টিতে চেয়ে বল্লেন-এ তুমি খুব ভালই জানো কারণ তোমার হাতের কাজ এটা, কে কতদিন ভূবর্লোকে বাস করবে কি নতুন জন্ম নেবে। উঃ, দুএকটা ব্যাপার এমন নিষ্ঠুর আর করুণ হয়ে ওঠে তখন আমি অনুরোধ করতে ৰাধ্য হই— তরুণদেবতা হাসলেন মাত্র—সে হাসির মধ্যে অসীম দয়া, অনন্ত জ্ঞান ও গভীর শক্তির