পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


هلها த স্বপ্ন, তার ধ্যান । সেই স্বল্প-কল্পনা তার রচনার ছত্রে ছত্রে তার কল্পিত চরিত্রের স্বভাবে-র্তার নিজের জীবনেও প্রতিফলিত হয়েছে । • ছেলেমেয়েদের অটোগ্রাফের খাতায় চিরদিন তিনি একই motto লিখে গেছেন—‘গতিই জীবন, গতির দৈন্যই মৃত্যু ৷ তীর পথের পাঁচালীও শেষ হয়েছে সেই অসীম পথের ইঙ্গিত দিয়ে—পথ আমার চলে গেল সামনে, সামনে, শুধুই সামনে-দেশ ছেড়ে বিদেশের দিকে, স্বর্যোদয় ছেড়ে স্বর্যাস্তের দিকে, জানার গওঁী এগিয়ে অপরিচয়ের উদ্দেশে চল এগিয়ে যাই ।” র্তার দিনলিপিতেও এই এগিয়ে চলার স্বর পাই বার বার : * মাহুষকে শুধু চলতে হবে, চলাই তার ধর্ম। পথের নেশ তোমাকে আশ্রয় করুক। যুগে যুগে তোমাকে আসতে যেতে হবে-পথের বঁাকে বাকে ডালি সাজিয়ে তোমার জন্যে অপেক্ষা করছে—অনন্ত জীবনপথে কতবার তুমি তাদের পাবে, আবার পেছনে ফেলে চলে যাবে— আবার পাবে।“চরণ বৈ মধু বিন্দতি।.জীবনে অনন্তকে চিনতে হবে-গতির মধ্যে দিয়ে অনন্তের স্বরূপ চোখে ধরা দেবে। হে জীবন পথের পথিক, পথের ধারে ঘুমিয়ে পড়ে না। ‘নির্জন গ্রহের নির্জন পর্বতে যুগ যুগ অক্ষয় তরুণ দেবতার কথা মনে পড়ে.সম্মুখে তার বিশাল অজানা বিশ্ব । দেবতা হয়েও সব জানে নি ।” ‘অশাস্ত প্ৰাণ-পাপ্পী আর মানে না—সব দিকের বন্ধনহীন, নিঃসঙ্গ, উদাস, অনন্ত, অকুল নীলবোমে মুক্তপক্ষে ওড়বার জন্যে ছটফট করছে—উড়তে চায় উড়তে চায়--পরিচিত বহুবারদৃষ্ট একঘেয়ে গতানুগতিক গণ্ডীর মধ্যে আর নয়,...হয়তো দূরে দূরে কত খামহশর অজানা দেশ সীমা-তুহিন শীতল বোমপথে দেবলোকের মেরু পর্বত। আলোর পক্ষে ভর দিয়ে শুধু যেখানে পাওয়া যায়, অন্তভাবে, নয়।.জীবনটাকে বড় করে উপভোগ করে, খাচার পাখীর মতো থেকে না।’ উপরের উদ্ধতিগুলি ‘স্মৃতির রেখা গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত । লেখকের এই মানসব্যক্তিত্ব, এই আশা ও আকৃতিই দেবযানের পথিক দেবতা হয়ে দেখা দিয়েছে। যে দেবতা লক্ষ লক্ষ আলোক-বর্ষ ধরে শুধুই ঘুরে বেড়াচ্ছেন : দেবতা তার ভ্রমণের কাহিনী বলতে লাগলেন। “কত লক্ষ বৎসর পূর্বে তিনি বেরিয়েছেন বিশ্বভ্রমণে । কত গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্রজগৎ, কত ছায়াপথ, নীহারিকাপুঞ্জ মানসগতিতে ভ্রমণ করেচেন। আঁলো বা বিদ্যুতের যেখানে পৌঁছতে লক্ষ লক্ষ বৎসর লাগে—সে সব স্বদুর নক্ষত্রমূগুলী পার হয়েও লক্ষ আলোকবর্ষ দূরের অঞ্চলে চলে গিয়েচেন । তখনও দেখেচেন বহু দূরে আর এক অজানা বিশ্বের সীমা মহাশূন্যের প্রান্তে আবছায়া দেখা যায়। আবার সে বিশ্বেও পৌছেচেন...আবার দূরে দেখতে পেয়েছেন আর এক রহস্যময় অজ্ঞাত রিশ্বের ক্ষীণ সীমান্তবর্তী ক্ষীণালোক তারকামণ্ডলী । ( দেবযান ১ম সংস্করণ ৩৯ পৃ: ) এছাড়াও আর একটি জিনিস আছে দেবযানের মধ্যে, ধর্মাচরণ ও উপাসনা সম্বন্ধে তার নিজস্ব ধারণা। সাধারণ অনুষ্ঠান-সর্বস্ব ধর্মাচরণে বিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। প্রেম