পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান Σ Σ (ί করার কথা ছিল, জর এসেচে ঠেসে দুপুরের আগেই । —যেতে পারেননি বলে ভাবচেন বুঝি ? আহা ! —হঠাৎ অত শ্রদ্ধাসম্পন্ন হয়ে উঠলে যে ওর ওপর ? এত দরদই বা এল কোথা থেকে ? জানো, যতীনদা—আমার একটা ব্যাপার হয়েচে আজকাল, লোকের কাছে কিছুক্ষণ বসলে বা থাকলে আমি তার মনের চিস্তা সব বুঝতে পারি। ও বৌটির পাশে গিয়ে বসে দেখি ও শুধু কে হরিপদ, তার কথাই ভাবচে। যাকৃ গে, তোমার মা কেমন ? —এখন একটু ভালো। মায়ের মনিঅৰ্ডার এপেচে সাত টাকা কোথা থেকে । দেখতে যদি মায়ের আনন্দ । পুষ্প, কেন আমাকে নিয়ে গেলে ? এ দরিদ্র সংসারের উপকার করতে পারতাম বেঁচে থাকলে । আমি হয়তে চাকরি করে—- —আমি নিয়ে যাই সাধ্যি কি আমার ? যিনি দীনদুনিয়ার মালিক র্তার ইচ্ছে না থাকলে— —তুমি কি দীনদুনিয়ার মালিকের সঙ্গে পরামর্শ করে এ কাজ করেছিলে পুপ ? এই সময় যতীনের মা বিছানা থেকে উঠে বাইরের রোয়াকে রোদরে গিয়ে বসলেন । ম্যালেরিয়া-রোগীর ভাল লাগে রোদরে বসতে । দুটি প্রতিবেশিনী এসে উঠোনে দাড়িয়ে গল্প করতে লাগলো যতীনের মায়ের সঙ্গে। একজন বলচে—জরটা কখন এল আজ বোঁ ? —দুটাে ভাত খেয়ে উঠেচি, থালা তুলিনি—অমনি সে কি ভূতোনন্দি জর। কিন্তু এখন যেন ভালো মনে হচ্চে । হঠাৎ জরটা আজ যেন কমে গেল । —হঁ্যারে, আজ নাকি টাকা এসেচে তোর ? কটাকা এল ? —হঁ্যা দিদি, সাত টাকা । —বাচা গেল ! ক’দিন তো একরকম না খেয়ে ছিলি । বটুঠাকুর টাকা পাঠাতে অত দেরি করেন কেন ? সামনে পুজো—অত দেরি করেই যখন পাঠালেন তখন আরও কিছু— —কোথায় পাবে দিদি যে পাঠাবে। এই তো সেদিন বাড়ী থেকে গেল । পনেরো টাকা তো মোটে মাইনে--মনিব যে উনপাজুরে লোক, দু-এক টাকা আগাম চাইলে তা দেবে না । ওরও তো শরীর ভাল না, সবই জানো । সেবার সেই বড় অসুখের পরে আর শরীর ভাল সারলো না। ওই মানুষকে এক পাঠিয়ে যে কত অশাস্তিতে ঘরে থাকি—তার উপর আমার খোকা যাওয়ার পর উনি একেবারে— . যতীনের মা নিঃশব্দে কাদতে লাগরেন। প্রতিবেশিনীর সাক্ষনার কথা বলতে লাগলো । একজন বল্লে—যাও বেী, রোদরে বোসে না, বমি হবে। ঘরে শোওগে । কি করবে বলে, সবই আদেষ্ট । যতীনের মা চোখের জলে ভেজা স্বরে বল্লেন—তোমরা আশীৰ্বাদ করে দিদি, উনি ভালো থাকুন। ওই সাত টাকাই আমার সাত মোহর। পূজোর সময় আসতে পারবেন না বলে লিখেচেন কুপনে—সেই কি কম কষ্ট আমার । পোড়ারমুখে মনিব মহালে পাঠাবে খাজনা আদায় করতে—ছুটি পাবেন না—