পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S8 e বিভূতি-রচনাবলী অনেক সময় আসে তার করুণা। কাজেই অবুঝের গালাগালি তাকে সহ করতে হয়। পুষ্প বঙ্গে—আপনি দেবী, কি আনন্দ হোল আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে । আমার সঙ্গী মহুর্লোকে বেশিক্ষণ থাকতে পারবেন না, জ্ঞান হারিয়ে ফেলবেন। আজ আমি যাই— —আবার এসো ভাই, আসবে ঠিক ? আমার পায়ে হাত দেওয়া কি ভাই ? তুমিও তো কম নও। আমি তোমাকে চাই । এসো-আনন্দে থাকো ভাই । মেয়েটির অব্যৰ্থ আশীর্বাদ। সত্যিই এক অপূর্ব আনন্দের প্রসন্ন হিঙ্গোল বয়ে গেল পুষ্পের মনে । এ জগতে ভয় নেই, অমঙ্গল নেই—মেয়েটি বলেচে, ভগবানের আশীৰ্বাদ রয়েচে বিশ্বের ওপরে । بین ফিরে এসে বুড়োশিবতলার ঘাটে বসে সেদিন সন্ধ্যায় পুষ্প যতীনকে ওই অদ্ভুত মেয়েটির গল্প শোনালে । সেদিন ফিরে আসবার পর আরও কিছুকাল কাটলো। বুড়োশিবতপার ঘাটে যে সংসার পেতেছিল পুষ্প, তাতে যেন ভাঙন ধরেচে। আজ সাত বছর আগে প্রথম যেদিন যতীন এখানে আসে, সেদিনটি থেকে পুষ্পের কত সাধ, কত আনন্দ, ছেলেবেলার সেই প্রিয় সাথীকে নিয়ে এখানে সংসার পাতবে । তাই অনেক আশা করে সাজিয়েছিল বুড়োশিবভলার ঘাটের সংসার । ওপারের খামান্বন্দরীর মন্দিরে আরতি ঘণ্টাধ্বনি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুষ্প আগে নিজেদের ঘরে প্রদীপ দেখায়, গৃহদেবতার সামনে মুগন্ধি ধূপ জালিয়ে ফলফুলের অর্ঘ্য নিবেদন করে, মনে মনে দেবদেবীকে স্মরণ করে। রঘুনাথদাস ওকে একটি স্বন্দর স্ফটিক-বিগ্রহ এনে দিয়েচেন, তিনি বলেন একজন শিল্পী মননশক্তি দ্বারা ভুবর্লোকের পদার্থে ইচ্ছামত রূপান্তর ঘটিয়ে এই সব দেবদেবীর মূর্তি তৈরি করেন—এই লোকেরই চতুর্থ স্তরে কোথায় তিনি থাকেন । পুষ্প বলেছিল একদিন সেখানে গিয়ে দেখে আসবে। কিন্তু কি জানি পুষ্পের ভাগ্যে কোথায় যেন কি গোলমাল আছে। সব মিথ্যে হয়ে যায় কেন ? হঠাৎ আশা-বৌদিদি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেচে। সেই মুহূর্তেই পুষ্প টের পেয়ে গেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যতীন তার কিছুই জানে না। যতীনের মুখের দিকে চেয়ে ওর কষ্ট হোল। Eআশা প্রারব্ধ কর্মের ফলে ভুবর্লোকের কোনো নিম্নস্তরে হয়তো ঘুরচে—যতীনদার সঙ্গে দেখা হওয়া সম্ভব নয় এ অবস্থায়, পুপ এঃসত্য বুঝেচে । স্বতরাং মিছিমিছিকেন যতীনদীকে আশার স্মরণের কথা জানিয়ে কষ্ট দেওয়া। পৃথিবীতে থাকলেও তারা যেমন কোনো সাহায্য করতে পারেনি, এখানেও ঠিক তেমনি অবস্থা দাড়াবে। এ-লোকেও নিম্ন স্তরের অধিবাসী আশার কাছে সে ও যতীনধা যেমনি অদৃশু ছিল পৃথিবীতে থাকতে, তেমনিই থাকবে । কিন্তু আশা কোথায় আছে একবার দেখা দরকার । সেদিন সে রঘুনাথদ্বাসের কাছে গেল, যতীনকে কিছু না জানিয়ে। দেখা পাবে কিনা সন্দেহ ছিল, কারণ এ সব মহাপুরুষ নিজের খেয়ালে থাকেন, আজ আশ্রম আছে, কাল নেই। সর্বপ্রকার