পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান ›8ፃ ঠিক সেই সময় একটি নিম্নশ্রেণীর প্রেত দুটি অল্পবয়সী মেয়েকে একাকী দেখে পূর্বসংস্কারবশত ওদের দিকে ছুটে এল। মুখে দু-একটি অশ্লীল কথাও উচ্চারণ করলে, ঘোর কামালক্তিতে তার চোখ ও মুখের অবস্থা উন্মত্ত পশুর মত । , - ওর বিকট হাবভাব দেখে আশা ভয়ে পুষ্পকে জড়িয়ে ধরে চীৎকার করে বঙ্গে—এই দ্যাথো ভাই কে একটা আসচে–মাগো— পুষ্পও ভয় পেয়েছিল, সেও প্রথমটা আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছিল—কিন্তু হঠাৎ একটা আশ্চর্ষ কাণ্ড ঘটলো, লোকটা ওদের কাছে এসে পড়ে পুষ্পের দিকে চেয়েই জড়সড় হয়ে কুঁকড়ে এতটুকু হয়ে গেল। ত রপর দিগ বিদিগ, জ্ঞানশূন্য ভাবে ছুটু দিলে সোজা । হঠাৎ আশা ভয়ে ও বিস্ময়ে পুষ্পের কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে বল্লে—ওকি ! তোমার কপাল দিয়ে আগুন বেরুচ্চে যে !... এ কি ! ওমা –কি সর্বনাশ ! পুপ অবাক হয়ে নিজের কপালে হাত দিয়ে দেখতে গেল । সে আবার কি। পরক্ষণেই ওর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো দরার করে। সে হাত দিয়ে মুছে বল্পে—ভাই বৌদি– আশার ভয় ও বিস্ময় তখনও যায়নি। সে দূর থেকেই আপন মনে বললে—বাবাঃ– কি এ । আর দেখা যাচ্চে না । কি আগুন ! ••• তারপর সে ছুটে এসে পুষ্পের পা দুখান জড়িয়ে ধরে বল্পে—কে আপনি ? অামায় বলুন কে আপনি ? আপনি তো সহজ কেউ নয় । স্বগ গো থেকে দেবি এসেচেন আমায় দয়া করতে ? আশার মুখ দিয়ে অজ্ঞাতসারে একটা বড় সত্য কথা বেরুলে।... - . যতীন সব শুনলে। আশার এই পরিণতি, সেই আশা ! কি জানি কেন শুধুই মনে পড়ে ওদের কাটালগাছের দিকের ঘরের সেই ফুলশয্যার বৃষ্টিধারামুখর রাত্রিটি, সেই সব দিনের কথা আজও যেন মনে হয় কাল ঘটে গেল । কেন এমন অসারত সংসারে, কেন এমন মিথ্যার উৎপাত ! যা ভালো বলে মনে হয়, জীবন যাতে পরিপূর্ণ হোল মনে হয় –তা কেন ছুদিনও টেকে না ? অমৃত বলে ঘা মনে হয়, -তা থেকে বিষ ওঠে কেন ?••• க . এই ঘোর বিষাদের দুর্দিনে যতীন সবদিক থেকে সব আলো একেবারে হারিয়ে ফেললে । কালো কালিতে সব লেপে একাকার হয়ে গেল। কেবল পুষ্প তাকে কত করে বুঝিয়ে রাখতে । 鬱 যতীন বল্লে—জীবনে আর কি রইল আমার ওর সঙ্গে দেখাটা করিয়ে দাও— —তোমাকে ও দেখতে পাবে না । —তবে তোকে দেখতে পেলে যে ? —সে রঘুনাথদাস ঠাকুরের মহিমায়। তুমি কষ্ট পাৰে। বৌদির সে কষ্ট তুমি কি করে দেখবে ? 酸 তখনকার মত যতীন বুঝে গেল। পুষ্পও কিছু নিশ্চিন্ত হোল। একটা অন্ত ঘটনাতেও যতীনের মন একটু অন্যদিকে চলে গেল। ওদের গ্রাম কুডুলে-বিনোদপুরের রায় সাহেৰ