পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


58br বিভূতি-রচনাदलों ভরসারাম কুণ্ডুর বড় ছেলে রামলাল কুতুকে একদিন ও খুব বিষন্ন অবস্থায় দ্বিতীয় স্তরে উদ্বেগুহীনভাবে ঘুরতে দেখলে। একটা গাছের তলায় সে বসে আছে গালে হাত দিয়ে, যতীন দেখে ওকে চিনতে পেরে তখনই ওকে দেখা দেওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করলে—নয়তে ওর দেহ রামলালের নিকট অদৃশুই থাকবে । রামলাল ওকে দেখতে পেয়ে আশ্চর্য হয়ে ই করে ওর দিকে চেয়ে রইল। বঙ্গে— যতীন না ? —ষ্ঠ্যা । তুমি কবে এলে ? இ க —আসা-আসি বুঝিনে, এ জিনিসটা কি বল তো ? বাড়ী যাই, সবাইকে দেখি-বাবা, মা, বৌ-কেউ কথা বলে না। আমি মরে গিয়েচি বলে আমার নাম নিয়ে সবাই কাদচে ! —ঐ তো তুমি মরে এখানে এসেচ ! এ জিনিসটাই মৃত্যু । —আমারও সন্দেহ হয়েছিল, বুঝলে । কিন্তু ভাল বুঝতে পারিনি। —কেন, তোমাকে কেউ নিয়ে আসেনি ? —আমার ঠাকুরদাদা এসেছিল, এখনও মাঝে মাঝে আসে। বড় বক্‌ বক্‌ করে, আমার পছন্দ হয় না । রামলাল যতীনের বয়সী, বড়লোকের ছেলে । স্বরা ও নারীর পেছনে গত দশ বছরে লাখখানেক টাকা উড়িয়ে দিয়েচে । অভ বড় ব্যবসা ওদের, কখনো কিছু দেখতে না, বৃদ্ধ বাপ দোকান আগলে বসে থাকতো, রামলাল দোকান বা আড়তের ধারেও যেতো না । যতীন এসব জানে । তারপর রামলাল হি-হি করে হেসে বল্লে—ঠাকুরদাদা কি করে জানো ? রোজ দোকানে. গিয়ে বাবার পাশে বসে থাকে, বেচাকেনা দেখে । বাবা হাত-বাক্সের সামনে যেখানে বসে না, ঠিক ওর পাশে রোজ ঠাকুরদা গিয়ে দুঘণ্টা তিনঘণ্টা করে বসে। মানে, ঠাকুরদাদার নিজের হাতে গড়া আড়তটা, ওর মায়া বড় বেশি । —বলো কি ! উনি তো মারা গিয়েচেন আজ কুড়ি বাইশ বছর। তখন আমি কলেজে পড়ি, বেশ মনে আছে। এখনও রোজ তোমাদের আড়তে গিয়ে বসেন ? রামলাল আবার হি-হি করে হাসতে লাগলো। বঙ্গে—আচ্ছা ভাই, সেকথা স্বাকৃগে । এখানে কেমন করে মানুষ থাকে বলতে পারো ? আজ কতদিন এসেচি ঠিক মনে নেই, তবে মাস ছুইএর বেশি হবে না। একটা মেয়েমানুষের মুখ দেখতে পাইনি এর মধ্যে। এক ফোটা মাল পেটে যায়নি-ফুর্তি করবার কিছু নেই। ছ্যাঃ, নিরিমিষ জায়গা বাপু, যা বলে। মানুষ এখানে ট্যাকে ? পরে চোখ টিপে বল্পে-বলি, সন্ধানে-টন্ধানে আছে ? যতীন ওর পাশে বসলো । মনে মনে ভাবলে—A wasted life ! আমার নষ্ট হচ্চে খেদন্তে, তা আমার নিজের দোষ নয়, কিন্তু এ নিজে জীবনটাকে বিলিয়ে দিয়ে এসেচে নিজের হাতে ।