পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


)& లీ বিভূতি-রচনাবলী —আচার্য রঘুনাথদাসের নাম জানেন ? কুণ্ডু মশাই দুহাত জোড় করে প্রণাম করে বলে—কে তার নাম না জানে ? আমরা তার জ্বালামুদাল— o —আপনি যদি আড়ত দোকানে যাওয়া ছেড়ে দিতে পারেন, তবে সেখানে নিয়ে যাবো । র্তার কাছে । r কেবলরাম কথাটা বিশ্বাস করলে না । ভাবলে এ একটা কথার কথা বুঝি । উচ্চ স্বর্গের অনেক কথা যতীন স্বতরাং ওকে বোঝাতে বসলো। পুষ্পের সঙ্গে একদিন দেখা করিয়ে দিলে। কেবলরাম হাত জোড় করে প্রণাম করে বল্লে—তুমি কে মা ? পুষ্প হেসে বল্পে—তোমার নাতনী, দাদু— কেবলরাম কেঁদে ফেললে ৷ বল্লে—আমি পাপী, নরাধম। আমার সে ভাগ্যি কি আছে মা ? —ম নয়, আমায় দিদি বলে ডাকো দাদু—পুষ্প আবদারের স্বরে বল্পে । কেবলরাম সেদিন থেকে পুষ্পের ক্রীতদাস হয়ে গেল। পুপ ম্যাজিক জানে নাকি? যতীন এক এক সময়ে ভাবে । পুষ্প কেবলরামকে ভরসা দিলে, একদিন উচ্চ স্বর্গের বৈষ্ণব ভক্তদের লোকে ওকে নিয়ে যাবে। কেবলরাম মানুষটা সরল। বলে -দিদি, তুমিই তো দেবী, তুমি কম নও । ব্রাহ্মণের মেয়ে, তার ওপর আগুনের মতো আভা তোমার রূপের । আমি আর কোথাও যেতে চাইনে—তুমি দাছ বলে ডাকলে এই আমার স্বৰ্গ হয়ে গেল ! আমরা কীটন্ত কীট। আত্মা ওঠে ভালবাসায়। ভালবেসে, ভালবাসা পেয়ে । পুপ পিতামহের সমান বৃদ্ধ কেবলরামকে পৌত্রীর মভ ভালবেসে ওকে তোলবার চেষ্টা করচে—যতীন বুঝতে পারলে ৷ যতীনের শত লেকৃচারেও এ কাজ হোভ না । যতীন ভাবে-না, এসব কাজ পুপ পারে। পতিত-উদ্ধার কাজ আমার নয়। আমার নিজের কুকুর পথ্যি করে কোথায় তার ঠিক নেই। কিন্তু রামলালের সাহায্য পুষ্পকে দিয়ে হবে না । পুষ্প অতি স্বন্দরী নারী । রামলালের আসক্তি এখনও নিম্নমুখী, মোহে পড়ে যাবে, রামলালের মন গড়ে উঠতে অনেক দেরি। অন্যভাবে ওকে সাহায্য করতে লাগলো যতীন। রামলালের দেখা পেয়ে যতীনের খানিকটা ভাল লাগে । হাজার হোক দেশের লোক, সমবয়সীও বটে। ছটে পৃথিবীর কথাবার্তা বলা যায়। দেবদেবীদের মধ্যে প্রাণ ইপিয়ে উঠেচে। শুধু বড় বড় কথা আর কাহাতক শোনা যায়—পুষ্পের মুখেই কি, বা অন্ত যেখানে মাঝে ছদশবার গিয়েচে, সেখানেই কি ! পুষ্প বোঝে সব, বুঝে দুঃখিত হয়। রামলালের সঙ্গে অত মেলামেশা পে পছন্দ করে না । 動 যতীন রামলালের কাছে এসে বলে—রামলাল-দা, কি তোমার ইচ্ছে করে ? —একটা ইচ্ছে আছে, অন্ত কিছু হোক না হোক, একটা সিগারেট যদি খেতে পারতাম, একেবারে কিছু নেই–ছা, এখানে মাম্বব থাকে কি করে ? —তোমার স্ত্রীকে তো রেখে এসেচ, তার সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছে করে না ? নরলাল ইতস্তত করে বঙ্গে—হঁ্যা-তা—ষ্ঠা—সে তো প্রায়ই দেখচি।