পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী هوا لا ভুলো না । —ওসব থিয়েটারী ধরনের কথা কোথায় শিখলি রে ? তোদের দোহাই, মুক্তি-টুক্তির কথা আমায় শোনাসনে। চল তুই আর আমি পৃথিবীতে যাই, ছোট্ট নদীর ধারে কুঁড়েঘরে সংসার পাতবো । সেই আমাদের স্বর্গ, সেই আমাদের সব । পুষ্পের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো ঝরঝর করে। সে কোনো কথা বল্পে না । সেদিনই যতীনের মনে হোল কে যেন কোথায় তাকে ডাকচে-সব সময় তার প্রাণের মধ্যে কিসে যেন মোচড় দিচ্চে.আশা, অভাগিনী আশা, ভুবর্লোকের নীচের স্তরে অসহায়, একাকিনী পড়ে আছে, কেউ নেই তাকে দেখবার । সত্যি আশা তাকে ডাকচে । তার অন্তরাত্মা শুনতে পেয়েচে অভাগিনীর ডাক । সে পুপকে কথাটা বল্পে। —তোর বৌদিদি বড় কাদচে পুষ্প । , সেদিন কুডুলে-বিনোদপুরের বাড়ীতে হঠাৎ দেখা হওয়ার পর থেকে ওর ডাক প্রায়ই শুনি । —আমি যাই সেখানে বতুদা, তুমি যেও না। দেখে আসি । —কিছু ভাল লাগে না ওর জন্তে । —কেন তোমাকে যেতে বারণ করি, ও সব নীচের স্তরে তোমায় যেতে দিতে আমার মন সরে না । —তুই তো যাস দিব্যি। —আমি গিয়েছিলাম আচার্য রঘুনাথের কৃপায়। মহাপুরুষদের বিশেষ দয়ায় বিশেষ শক্তি হয় । নয় তো ওই সব স্তরে নানান রকমের নিম্নশ্রেণীর শক্তি খেলা করচে সর্বদ, মহাপুরুষদের কৃপায় বিশেষ শক্তি লাভ করে সেখানে গেলে ওই সব দুষ্ট শক্তি কোনো অনিষ্ট করতে পারে না। নয়তো বিপদ পদে পদে—এই জন্যেই তোমাকে ওখানে যেতে দিতে চাইনে যতুঙ্গা । চলে দেখি কি উপায় হয়। রঘুনাথদাসের আশ্রমে যাবার পথে কবি ক্ষেমদাসের সঙ্গে দেখা । তিনি আপন মনে একটি বৃক্ষতলায় চুপ করে বসে ; অতি স্বন্দর নির্জন স্থানটি, বনপুপ ফুটে আছে ঝর্ণার ধারে । ওরা কাছে গিয়ে দেখলে পৃথিবীর দিকে তিনি একদৃষ্টি চেয়ে কি যেন দেখছেন । ওদের দেখে সম্মিত মুখে সম্ভাষণ করলেন । যতীন ও পুষ্প দুজনেই ওঁকে প্রণাম করে পাশে গিয়ে দাড়ালো । ক্ষেমদাস বল্পেন—কোথায় যাচ্চ তোমরা? ' পুপ বল্পে-রঘুনাথদাসের আশ্রমে। বড় বিপদে পড়ে যাচ্ছি। আপনিও শুনুন দেৱ—যদি কিছু উপায় হয়। তারপর সে আশার কাহিনী সব খুলে বল্পে । ক্ষেমাস সব শুনে ধীরভাবে বল্পেন—এই দুঃখ সনাতন । আত্মা নিরস্তর সাধন করচে নিজেকে জানুবার। আমার নিজের জীবনেও এমনি হয়েছিল। আমি তাই এখানে বলে বলে ভাবছিলাম, আবার পৃথিবীতে পূর্ণিমার জ্যোৎস্ন উঠচে যেমন উঠতে পাঁচশো বছর আগে, অনান্তস্ত মহাকাল নিজের কাজ করে চলেচে যেমন করতে হাজার বছর কি ছ-হাজার বছর