পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/১৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান Xe> বলছেন। এমন একদিন আলবে, ব্ৰহ্মজ্ঞান তিনি লাভ করবেন। বাদ পড়বেন না । সন্ন্যাসিনী বল্পেন—আমারও তাই মত । ক্ষেমদাস অধীরভাবে বঙ্কেন-বেশ, বেশ । ওসব আলোচনা এখন থাক। চলে যাওয়াযাক। রাত্রি প্রভাত হয়ে এল—জ্যোংন্ন স্নান হয়ে আসচে। ওই শোনো ময়ুর ডাকচে বনে । সন্ন্যাসিনীকে পুনরায় বন্দনা করে সকলে সেই গভীর বম পরিত্যাগ করলেন । কুটীরের আশেপাশে অনেক বন্ত দেবকাঞ্চন ফুল ফুটে আছে মান জ্যোৎস্নালোকে । অদূরের শৈলচুড়া শেষরাত্রের হিমবাম্পে অস্পষ্ট দেখাচ্চে । বন্য কুকুটের রব রজনীর শেষ যাম ঘোষণা করচে । ক্ষেমদাস আকাশপথে বল্লেন -কি সন্ন্যাসী, যাবে তে রঘুনাথদ্বাসের আশ্রমে ? সন্ন্যাসী রাজী হওয়াতে ওরা চক্ষের নিমেষে বৈষ্ণবাচার্যের আশ্রমের সামনে এসে পড়লো । ওরা সকলে রঘুনাথদাসের আসনের দিকে গেল-পুপ গেল গোপাল-বিগ্রহ দেখতে ও তার প্রাণের ব্যথা গোপালের পায়ে নিবেদন করতে । নীল স্ফটিকের অপূর্ব বিগ্রহের মুখে যেন করুণার হাসি লেগেই আছে । পুষ্প বাইরে এসে দাড়ালে, ঐ বিরাট অনন্ত বিশ্ব, আকাশের পটে কোটি কোটি নক্ষত্ররাজি ( বৈষ্ণবাচার্যের আশ্রমে এখন রজনীর প্রথম যাম )—সেই যে সেদিন মহাপুরুষ উপনিষদের বাক্য উচ্চারণ করে শুনিয়েছিলেন—অস্ত ব্ৰহ্মাগুস্ত সমন্ততঃ স্থিতানি এতাদৃশান্তনন্তকোটিব্রহ্মাওনি সাবরণানি জলস্তি—এই ব্রহ্মাণ্ডের আশেপাশে আরও অনন্তকোটি ব্ৰহ্মাণ্ড জলচে-সব ব্ৰহ্মাণ্ডের যিনি অধীশ্বর, সেই বিরাট দেবতা কেন এখানে ক্ষুদ্র বিগ্রহে নিজেকে আবদ্ধ রেখেচেন কিসের টানে কে বলবে ? পুপ প্রণাম করলে সাষ্টাঙ্গে । সে বিরাটের কতটুকু ধারণা করতে পারে, মেয়েমানুষ সে । সে অতি ক্ষুদ্র নারী মাত্র। দয়া করে মধুৰ্বরূপে ধরা না দিলে সে ক্ষীরোদসাগরশায়ী মহাবিষ্ণুর কিংবা র্তার চেয়েও এককাটি সরেশ নিরাকার পরব্রহ্মের কি ধারণ করতে সমর্থ ? মন্দিরে প্রণাম করে উঠে ব্যাকুল কণ্ঠে প্রার্থনা করলে—হে ঠাকুর, আশা-বৌদিদিকে কৃপা কর । এবার যতীনদী ও আশার জন্ম তোমার আশীর্বাদে যেন সার্থক হয়ে ওঠে। আর যেন আশার কুপথে মতি না হয় হে ঠাকুর । ওর প্রারব্ধ কর্ম এবার যেন ক্ষয় হয় । ওকে দয়া কর । - মন্দিরের নিভৃত কুম্ভতলে অপূর্ব পুপস্কবাস । যেন বহু জাতী, যুর্থী, মালতী, হেনা, নাগকেশর একসঙ্গে প্রস্ফুটিত হয়েচে । সন্ন্যাসী ও ক্ষেমদাস শ্বেতপ্রস্তরের চত্বরে বৃক্ষতলে বসে রঘুনাথদাসের সঙ্গে আলোচনা করচেন । রঘুনাথদাস বলচেন—আপনি আমার বিগ্রহটি দর্শন করে আম্বন। আপনার ভক্তি হবে। উনি ভক্তি আকর্ষণ করেন। আপনার আগমনে আমার আশ্রম আজ ধন্ত হয়ে গেল। কিছুকাল এখানে থাকুন। 疊 সন্ন্যাসী বল্লেন-আপনি মহাপুরুষ, আপনার নিকটে থাকবো এ তে পরম সৌভাগ্য। তবে এবার নয়, আমি ঘুরে আসবে। বিগ্রহ দর্শন করে আসি । বিগ্রহ দর্শন করে একটু পরেই ফিরলেন। বল্পেন—আপনার বিগ্রহ দেখচি বড় বিপজ্জনক বস্তু—সত্যিই আমাকে উনি আকর্ষণ করচেন। আমায় বলেন-জামায় কেমন লাগচে ? আমি