পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


や8 বিভূতি-রচনাবলী আশ্রয় মিলিতেছে কই ? এই আস্তাবল হইতেও বাড়ীওয়ালা নাকি ইহাদের তাড়াইয়া দিবে বলিতেছে । এই কাহিনীটি দার বেশিদূর অগ্রসর করিয়া লইয়া যাইবার পূৰ্ব্বে মুলোচনা কে ছিল, তাহার সহিত আমার কি ভাবে আলাপ—ইহা বলিব। নতুবা গল্পের অংশও ভয়ানক খাপছাড়া ঠেকিবে। ૨ ১৯০৬ সালে দেশের ইস্কুল হইতে এষ্ট্রান্স পাশ করিয়া কলিকাতার কলেজে পড়িতে আসিয়াছি। বেচু চাটুজ্জের স্ট্রীটে আমারই স্বগ্রামস্থ এক বন্ধুর বাবা ছেলেপুলে লইয়া বাসা করিয়া থাকিতেন, সেইখানেই উঠিয়াছি। আমার বন্ধুটির দাদা তখন বি. এ. পড়েন এবং তাহারই সঙ্গে দেখা করিতে প্রকাশচন্দ্র বসু নামে তাহারই এক বন্ধু বাসায় ঘন ঘন যাতায়াত করিতেন। এই প্রকাশবাবু বড় অদ্ভুত লোক। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে মনেপ্রাণে যোগ দেওয়ার ফলে পুলিশের হাতে গুরুতর প্রহার খাইয়া নাকি কিছুদিন হাসপাতালে এবং কিছুদিন জেলে ছিলেন। তিনি নিজের হাতে কাহাকেও বোমা মারিয়াছিলেন বলিয়া শুনি নাই—কিন্তু আলিপুর বোমার মামলার সময় পুলিশ দিনকতক তাহার পিছু পিছু ঘুরিয়াছিল। খুব বলিষ্ঠ, দীর্ঘ চেহারা, মুখের ভাবে বুদ্ধিমত্তা ও মননশীলতার ছাপ অতি মুম্পষ্ট। প্রেসিডেন্সি কলেজের বি.এ. ক্লাসের ছাত্র, ছাত্র হিসাবেও যথেষ্ট মেধাবী। আমরা প্রকাশদাকে যথেষ্ট খাতির করিয়া চলিতাম। তিনি বাড়ীতে আসিলে বাড়ীর মেয়ের পর্য্যস্ত খুশী হইয়া উঠিতেন। প্রকাশের জন্ত এ-খাবার করা, প্রকাশের জন্ত ও-থাবার করা ; চা কোথায়, চেয়ারের উপর পাতিবার কুশন কোথায় ; মিনি তাহার হাতের উলের কাজ দেখাইতে ছুটিতেছে ; ডলি পড়া বলিয়া লইবার ছুতা করিয়া প্রকাশদার সঙ্গে দুটি কথা বলিবার সুযোগ খুজিতেছে—প্রকাশদার কাছে যেন বাড়ীমুদ্ধ লোকের মন বাধা পড়িয়া গিয়াছে। র্তাহার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলিবার অধিকার ছিল না বাড়ীতে, তাহা হইলে সকলেই একসঙ্গে তুমুল প্রতিবাদ তুলিবে। 營 প্রকাশদার সঙ্গে মাঝে মাঝে সতীশ রায় বলিয় তাহার এক বন্ধু আসিতেন, মেডিকেল কলেজের ছাত্র, খুব বড় বড় চোখ, শু্যামবর্ণ দোহার চেহারা। ইহারা সবাই খুব স্ফৰ্ত্তিবাজ আমুদে ধরনের লোক—আসিবার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ী মাতাইয়া তুলিতেন হাসি গল্পে গানে। মাঝে মাঝে.আবার কয় বন্ধুতে ঘরে খিল দিয়া কিসের পরামর্শ করিতেন—তখন আমাদের জানালা দিয়া উকিঝুকি মারাও নিষেধ ছিল । 聯 so কৌতুহল চাপিতে না পারিয়া একদিন বন্ধু শরৎকে জিজ্ঞাসা করিলাম—ওরা ঘরে দোর দিয়ে কি করে রে ? শরৎচুপিচুপি বলিল—কাউকে বলিস নি ভাই, ওরা সব অ্যানফিস্ট। —তোর দাদাও ?