পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* বিভূতি-রচনাবলী বছর পাঁচ-ছয় পরের কথা । কলেজ হইতে বাহির হইয়া কলিকাতার বাহিরে চাকুরি করি। কি একটা ছুটি উপলক্ষে হাওড়া স্টেশনে নামিয়া শেয়ালদহ দিয়া বাড়ী ফিরিতেছি। তখনকার আমলে শেয়ালদহ নর্থ স্টেশন হয় নাই—যেখানে আজকাল নর্থ স্টেশনের সম্মুখে ভাড়াটে গাড়ীর আডড, ওখানে অনেক চ পান শরবত ইত্যাদির দোকান ছিল। একটি দোকানে শরবত থাইতে গিয়াছি, দেখিলাম একটি ছোকরা এবং তাহার সহিত একটি সুবেশ৷ তরুণী সেখানে দাড়াইয়া ভীড়ে করিয়া শরবত খাইতেছে । দু-একবার গোপনে মেয়েটির দিকে চাহিয়া দেখিলাম—বয়স বাইশ-তেইশ হইবে—চোখ যেন ফিরানো যায় না তাহার দিক হইতে । না, অপূৰ্ব্ব রূপসী বটে মেয়েটি ...আমিই শুধু চাহিয়া নাই, আশপাশের অনেকেরই দেখিলাম আমার দশ । হঠাৎ আমাকে ভীষণ চমকিত ও আশ্চৰ্য্য করিয়া দিয়া তরুণী আমার একেবারে সামনে আসিয়া হাসিমুখে বলিল—আরে যদুদা যে ! Q * বলিয়াই সে আমার পায়ের ধূলা লইয়া প্রণাম করিল। চিনিতে অবশ্ব বিলম্ব হইল না, বলিলাম—স্তলোচনা যে ! কোথা থেকে ? তোমার মা কোথায় ? কি করছ এখন ? সুলোচনা এ-সব কথার কোন উত্তর না দিয়া সৰ্ব্বপ্রথম আমায় প্রশ্ন করিল-প্রকাশদ্বার কোন খবর পেয়েছ ? প্রকাশদার মৃত্যুসংবাদ তখন আমি শুনিয়াছি, কিন্তু সেকথা বলিলাম না। সুলোচনা আমায় ছাডিতে চায় না, তখনকার পরিচিতদের মধ্যে এ কেমন আছে, ও কেমন আছে, আমার বন্ধু শরৎ এখন কোথায়, তাহার দাদা বিনোদ কি করে, তাহদের বিবাহ হইয়াছে কিনা—নানা মেয়েলি প্রশ্ন। আমার হাত ধরিয়া টানিতে টানিতে বলিল—অনেকদিন পরে দেখা, খাওয়াও দেথি, চল তো রায় মশায়ের হোটেলে ! সেই পুরানো দিনের মতই নিঃসংকোচ ব্যবহার স্বলোচনার ; মেয়েমাহৰ হইয়াও ছেলের মত-ব্যবহার, ধরন-ধারণ, সেই সবই বজায় আছে অবিকল । তবে তাহার পরনে চওড়া জরিপাড় ফিকে নীল-শাড়ি ও ব্লাউজের বাহার, গলায় চিকচিকে সরু চেন ও পেনডেন্ট, পায়ে রুপালি ব্রোকেডের জুতা, মুগঠিত পেলব মুগৌর হাতে সোনার চুড়ির সঙ্গে সরু-ফিতা বাধা হাতঘড়ি প্রভৃতি দেখিয়া মনে হুইল স্বলোচনার অবস্থা ফিরিয়াছে। মুলোচনার শৌখিনতার প্রতি স্নেহ হইল—এমন সুন্দরী মেয়ের বেশভূষা না করিবে, সেন্ট-পাউডার না মাখিবে—তবে সেসব স্বষ্টি হইয়াছে কাহাদের জন্ত ? স্বলোচনার অঙ্গে শাড়ী রাউজ অলংকার উঠিয়া নিজেরাই ধন্ত হইয়া যায় নাই কি ? আমি বলিলাম—আরে ছাড় ছাড়, হাত ধরে ওরকম টানাটানি ক’রো না—রায়মশায় কেন, চল ট্রামে স্কাশনাল হোটেলে যাই কলেজ ষ্ট্রটের মোড়ে। কিন্তু সঙ্গের ছোকরাটি বাদ বালি, নতুবা স্বলোচনাকে লইয়া যাওয়া কষ্টকর হইত না। ঘড়ি দেখিয়া বলিয়া বসিল—ট্রেনের দেরি নেই, কোথায় যাবে এখন বৌদি ? এল, চল