পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8e বিভূতি-রচনাবলী আমার বড় রাগ হইল। দম দিয়া টাকা আদায় করিয়া লইতে স্বলোচনা মায়ের মতই পটু হইয়া উঠিয়াছে। আপন মামা হইলেও আজকালকার বাজারে শুধু টাকা দিয়া মুখ দেখা সারে, আর আমি কোথাকার কে, হার কেন দিতে যাইব ? বলিলাম—এখন যাব না তোমার বাসায় । বড় ব্যস্ত আছি । ট্রাম হইতে নামিয়া আমরা একটা গ্যাসপোস্টের তলায় দাড়াইয়াছি, গ্যাসের আলোয় স্বলোচনাকে দেখিয়া সত্যই মুগ্ধ হইয়া গেলাম। এ রকম রূপসী মেয়েকে লইয়া কোন চায়ের দোকানে ঢুকিতে সংকোচ মনে হয়—বিশেষত মনে রাখবেন, ১৯১৪ সালের কলিকাতা, তখনকার দিনে মেয়ের পথেঘাটে খুব কমই বাহির হইত। হুইলও তাই, চায়ের দোকানমুদ্ধ লোক ই করিয়া একদৃষ্টে স্বলোচনার দিকে চাহিয়া রহিল। তাহার উপর স্বলোচনার মুখে খই ফুটিতেছে কথার। সে চুপ করিয়া থাকিতে জানে না, আমি বড় অস্বস্তি বোধ করিতে লাগিলাম । আমায় বলিল—যাবে না বই কি, ইঃ! ভাগনের মুখ দেখনি, দেওয়ার ভয়ে বোনের বাড়ী যাবে না—লজ্জা করে না বলতে ? যেতেই হবে, আমি নেমস্তন্ন করছি সামনের শনিবারে যাবে, ওর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেব । ইহার সব ব্যাপারই রহস্তাবৃত ; কোথায় এতদিন ইহার স্বামী ছিল, কোথা হইতে বা আবার আসিল, এ-সকল কথা জিজ্ঞাসা করিতে ইচ্ছা হইলেও চাপিয়া গেলাম। তবে মুলোচনা কখনও মিথ্যা বলে না ইহা আমি জানিতাম। পূৰ্ব্বেও দেখিয়াছি এমন সব অবস্থায় সত্য কথা বলিত যেখানে সত্য বলিলে তাহার নিজেরই ক্ষতির সম্ভাবনা । কাজেই মুলোচনার কথায় আমার অবিশ্বাস হয় নাই । চা খাওয়া ও উলবোনার কাটা কেনার পরে আমি তাহাকে গাড়ীতে উঠাইয়া দিতে আসিলাম । গাড়ীর কামরায় বসিয়া সে তাহার পাশে বেঞ্চিতে হাত চাপড়াইয়া বলিল—এস, ব’ল যত্ন-দা ! .বলিলাম-আজ নয় মুলোচনী—মাপ কর । কাজ আছে । মুলোচনা অভিমানের সুরে বলিল—ন, থাকু কাজ। এস—আসতেই হবে। কত কথা আছে তোমার সঙ্গে—রাস্তায় দেখা, কি কথাই বা হোল ! পুরোনো দিনের কথা আর কার সঙ্গে কইব ? * পর হঠাৎ আগ্রহের সুরে জিজ্ঞাসা করিল—আচ্ছা, প্রকাশদার আর কোনও খবর পাওনি ? 总 藝 বলিলাম—না, কই আর । মনে মনে ভাবিলাম—সে-কথা জেনে তোমার লাভই বা কি | }gRzى —বেঁচে নিশ্চয়ই আছেন, তবে পুলিশের ভয়ে লুকিয়ে আছেন বলে মনে হয়। তার কথা যে কইব, এমন আর লোক কই এক তুমি ছাড়া ? —কেন, সতীশদা কোথায় ? 瞬