পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিধু মাষ্টার \ుసి এসে পৰ্যন্ত খাওয়া চলছে। তুমি নিরুদ্বেগে বসে রাধতে পার যতক্ষণ খুশি । আহারাদির পরে শাস্তি বসিয়া গল্প করিতে লাগিল। শান্তির স্বামী দু-একবার হাই তুলিয়া বলিলেন—আমার কাল খুব সকালে ডিউটি—যদি কিছু মনে না করেন, আমি গিয়ে শুয়ে পড়ি —বিলক্ষণ ! শোবেন বই কি। আমিও তাহলে-- —শাস্তি, তুমি বরং বসে গল্প কর। আমি যাই । এর বিছানা করে রেখেছ তো ? মশারিট খাটিয়ে দিও। স্বামী উঠিয়া চলিয়া গেলে শাস্তি বলিল—ঘুম পেলে শুনছি নে কিন্তু । আজ সারা রাত বসে গল্প করতে হবে। কতকাল পরে দেখা ! —সারা রাত ! বল কি ! হঠাৎ শাস্তি বলিল—কেন না ? আপনি আমায় কত কষ্ট দিয়েছিলেন জানেন ? আমি অবাক হইয়া ওর মুখের দিকে চাহিয়া বলিলাম—কিসের কষ্ট ? 酸 —কিসের কষ্ট জানেন না তো ? জানবেনই বা কি করে । আচ্ছা দাড়ান দেখাচ্ছি। বলিয়াই সে ঘরের ভিতর ঢুকিয় গেল এবং কিছুক্ষণ পরে একটি ছোট কাঠের বাক্স আনিয়া আমার সামনে খুলিল। একটা পত্র আমার সামনে ধরিয়া বলিল—দেখুন পড়ে। পড়িয়া দেখিয়া আশ্চৰ্য্য হইলাম। আমার মাসীম পরলোকে গমন করিয়াছেন আজ দশ বছর কি তার বেশি। র্তার হাত্তের লেখা খুব ভাল করিয়াই চিনি । মাসীমা শাস্তির মাকে চিঠিতে আমার সহিত শান্তির বিবাহের প্রস্তাব করিতেছেন এই চিঠিতে । বলিলাম—তুমি এ পত্র পেলে কোথায় ? —যেদিন এ পত্র এসেছিল, সেই দিনটি থেকে পত্ৰখানা আমার কাছে । আপনিও তার পর আর কখনও আজিমগঞ্জে যান নি । সেই শ্রাবণ মাসে যে চলে এলেন—এই আবার এত কাল পরে দেথা । —কিন্তু আমি এ ব্যাপারের বিন্দুবিসর্গও জানতাম না একথা বললে তুমি কি বিশ্বাস করবে শান্তি ? 龜 শাস্তি অবাক হইয়া আমার মুখের দিকে চাহিয়া বলিল—জানতেন না মানে ? সব জানতেন । —কেন বলতে তুমি একথা বলছ ? শাস্তি হাসিয়া ঘাড় নাড়িয়া বলিল—সব জানি যতীনদ, সব জানি। আমার চোখে আবার ধুলো দেবার চেষ্টা ? একবার তো করে দেখলেন,ঠকে গেলেন নিজেই। —কি চেষ্টা করলুম তোমার চোখে ধূলো দেবার ? —ওই যে বললেন বিয়ে করেছেন, চার মেয়ে হয়েছে । আমি আর জানি নে আপনাকে ? বিয়ে আবার আপনি করৱেন ! কেন বিয়ে করেন নি, তাও কি আমার অজানা ভাবছেন ? এক এক সময় তাই মনে হয়েছে, এই ষোল বছরের মধ্যে—যদি কখনও দেখা হয়, পায়ে ধরে আপনার কাছে মাপ চেয়ে নেব। আমি তে গিয়েছিই—আপনি কেন যাবেন সেই সঙ্গে ।