পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


९९ বিভূতি-রচনাবলী —দয়া বা সহানুভূতি তোমায় নামাবে না, ওপরে ওঠাবে। তাই ভেবে যতুম্বা, কিন্তু সাবধান, বিষয়-সম্পত্তির কথা যেন ভেবো না—ত্রিশঙ্কুর অবস্থা হবে। এসো আমার সঙ্গে । দুজনে শূন্তপথে নীলাভ শুন্ত-সমুদ্রের বুকের ওপর দিয়ে উড়ে চললো। ডাইনে বায়ে অগণিত তারালোকে, মৃদু নক্ষত্ৰজ্যোৎস্নায় ভাসানো জীবনপুলক ওদের মুক্ত দেহে এনেচে শিহরণ, প্রাণে মুক্তির আনন্দ—দূর-দূর- বহুদূর তারা চললো “কত নতুন অজানা দেবলোক--- ক্রমে আর একটা নতুন লোকের ওরা সমীপবর্তী হতে লাগলো-“দূর থেকে তার সৌন্দর্ষে যতীনের সমস্ত জৈবিক চেতনা অবশ হয়ে এল—বিলুপ্তপ্রায় চেতনার মধ্যে দিয়ে তার মনে হোল বন্ধ কদম্বক্রম যেন কোথায় মুকুলিত, লতানিকর বিকশিত, জ্যোৎস্নাপ্লাবিত গিরিগ্রামে বহু বিহগকণ্ঠের কাকলী, প্রেম স্নেহ..যুগভীর স্নেহের নিঃস্বার্থ আত্মবলি...আরও কত কি. কত কি সে সবের স্পষ্ট ধারণ ওর নেই.ওর চেতনা রইল না-পুষ্প বিব্রত হয়ে পড়লো— যতীন অতি উচ্চ স্তরে যে সচেতন থাকৃবে না, পুষ্পের এ ভয় হয়েছিল, তবুও তার আশা ছিল চেষ্টা করলে নিয়ে যাওয়া কি এতই অসম্ভব.একবার সে দেখবে। না, যতীন সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে ৷ যতীনের দেহটাকে নিয়ে যাওয়া যায়, কিন্তু ওর মন থাকবে নিদ্রিত । কিছুই দেখবে না, জানবে না, শুনবে না । নিয়ে গিয়ে লাভ কি ? পুষ্প ডাকতে লাগলো—ও যতুদা-চেয়ে থাকে, কোথায় যাচ্চ ভেবে দেখে..আমি পুপ, VG যতুদা-চোখ Stoë... নিকটেই একটা বেগুনি রঙের শৈলশৃঙ্গ-বন্ত লতাপাতার আড়ালে একটা শিলাখণ্ডে যতীনকে সে শোওয়ালে । সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যতীনের গতি বন্ধ হয়ে গিয়েচে --নিকটের ঝরণা থেকে জল এনে ওর মুখে দিয়ে পুপ আচল দিয়ে ওকে বাতাস করতে লাগলো। পরে নিজের দেহের চৌম্বক শক্তি আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে ওর দেহে সঞ্চালিত করতে লাগলো । এমন সময়ে পুষ্পের দৃষ্টি হঠাৎ আকৃষ্ট হলো ওই উচ্চ শিখরটার প্রাস্তদেশে । সেখানে পরম স্বন্দর এক তরুণ দেবতা বহুদূরে মহাশূন্যে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে বসে আছেন আনমনে। কোনো দিকে র্তার খেয়াল নেই, কি যেন ভাবচেন । র্তার অঙ্গের নীলাভ জ্যোতি দেখে বস্তুদিনের অভিজ্ঞতার ফলে পুষ্প বুঝলে এ অতি উচ্চ শ্রেণীর আত্মা, দেবতা-গোত্রে চলে গিয়েচেন— মানুষের কোনো পর্যায়ে ইনি এখন আর পড়েন না । go পুষ্প জানতো এ জগতে যে যত পবিত্র, উচ্চ, সে দেখতে তত রূপবান, তত তরুণ। তারুণ্য এখানে নির্ভর করে না জন্মের তারিখের দূরত্ব বা নিকটত্বের ওপরে। এখানে দেহের নবীনতা ও সৌন্দর্য একমাত্র নির্ভর করে অ্যাত্মিক প্রগতির ওপরে। এর রূপ ও নবীনতা পৃথিবীর হিসেবে ষোলো-সতর বছরের অতি রূপবান কিশোর বালকের মত—অত্যন্ত উচ্চ স্তরের দেবতা ভিন্ন এ রকম হয় না। দেবতার ধ্যানভঙ্গ করতে পুষ্পের সাহস হোল না। সে এত উচু আত্মা কখনও দেখেনি। কি করবে ভাবচে, এমন সময় দেবতার অন্যমনস্ক চক্ষু অল্পক্ষণের জন্যে ওদের দিকে পড়লো ।