পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান さや পরক্ষণেই তিনি অতীব জ্যোতিষ্মান দুটি চোখ দিয়ে ভাল করে চেয়ে দেখলেন। একটু বিস্ময়ের স্বরে বল্লেন, কে তোমরা ? পুষ্প প্রণাম করে বল্লে—সবই তো বুঝচেন, দেব । o এইবার যেন দেবতার অন্যমনস্ক একাগ্রতা কিছু ভগ্ন হোল–বর্তমান সম্বন্ধে তিনি সচেতন হয়ে উঠলেন। বল্লেন—কি বলে তো? আমার যোগ নেই এ স্তরের সঙ্গে । বুঝতে পারবো না । পুষ্প নিজেদের পরিচয় দিয়ে তার গন্তব্যস্থানের কথা ও যতীনের অবস্থা সব বললে । আত্মা বল্লেন—ওকে যেখানে এনে ফেলেচ, এখানেও তো ওর চৈতন্য হবে না-ওর পক্ষে এও তো অতি উচ্চ স্থান ; নিচে নামিয়ে নিয়ে যাও ওকে। 象 পুষ্প বল্লে—আপনি কে বলুন দেবতা, আমার কত শুভদিন আজ, আপনাকে দেখলাম। এতকাল তো আছি এ জগতে, আপনার মত আত্ম কখনও দেখার সৌভাগ্য আমার হয় নি। আপনি কে দেব ? আত্মা অতি মধুর প্রসন্ন হাসি হেসে বল্লেন—তুমি অত জানতে চাও কেন ? তুমি ভারতবর্ষের কন্যা, ভক্তি তোমার জন্মগত । বিশ্বাস কর, এই মাত্র। তুমিও খুব উচ্চ স্তরের আত্মা, নইলে আমায় দেখতে পেতে না । তোমার সঙ্গীকে যদি আমি জাগিয়েও দিই, ও আমায় দেখতে পাবে না । যাও ওকে নামিয়ে নিয়ে যাও । তবু পুপ সাহসে নির্ভর করে বল্লে—আপনি কে দেব ? --পাহাড়ের চুড়োতে বসে ছিলেন কেন ? এ স্তর তো আপনার নয় । 剷 কথাটা শেষ করেই পুষ্প বুঝলে আত্মা তখনই বড় হয়, যখন প্রেমে সে বড় হয়। সামান্য পৃথিবীর মেয়ের এই প্ৰগলভ কথায় আত্মা চটে তো গেলেনই না, কৌতুকমিশ্রিত গভীর স্নেহে র্তার স্বত্র বিশাল জ্যোতির্ময় চোখ দুটি স্নিগ্ধ হয়ে এল। বল্লেন –দেখবে কি দেখছিলাম ? এসো এখানে । তোমায় দেখাবে, তুমি তার উপযুক্ত হয়েচে । পুষ্প আগ্রহের সঙ্গে এগিয়ে গেল। আত্মা শৈলশৃঙ্গের প্রান্তসীমার দিকে দাড় করিয়ে হাত দিয়ে ওকে স্পর্শ করে বল্লেন—দেখচ ? পুষ্পের সারাদেহ শিউরে উঠলো। সামনে এ এক অন্য পৃথিবী, বিশাল জলাভূমিতে বড় বড় অতিকায় জীবজন্তু কৰ্দমে ওলট-পালট থাচ্ছে—গাছপালার একটিও পরিচিত নয়। বাতাসে অস্বাচ্ছন্দ্যকর গরম জলীয় বাষ্প—ম্বর্ষের তেজ আতিশয় প্রখর। --তারপর ছবির পর ছবি---কত দেশ, কত যুদ্ধ কত সৈন্যদল--"কত প্রাচীন দেশের বেশভূষা পরা লোকজন-“প্রশস্ত রাজপথ, প্রাচীন দিনের শহর-পচা ড়োবা খানা শহয়ের রাজপথের পাশেই.ঘোর মহামারীতে দলে দলে লোক মরচে, কী বীভৎস দৃপ্ত ! আত্মা বল্পেন—বহু দূর অতীতে ফিরে চাইছিলাম। কত কল্প আগেকার আমারই বহু পূর্ব জন্মে। কত লোককে হারিয়েচি, কত মধুর হৃদয়—আর কখনো খুজে পাইনি। বিশ্বের দূর প্রান্তের মোহনায় বসে তাদের কথা মনে পড়ছিল। যা দেখলে, সব আমার জীবনের বিভিন্ন অঙ্কের রঙ্গভূমি। লক্ষ্মী মেয়েটি এখন তোমার সঙ্গী ছেলেটিকে নিয়ে নেমে যাও।