পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


किं मानि 34 করিতেছিলেন । কালু আলিয়৷ ডাকিল,—মহারাজ ! প্রতাপনারায়ণ হাকিলেন, কে ?•••ও । →এসেছে। --বিগ্রাম করতে বল। কতদূর থেকে আসছে ? —সাত ক্রোশ । —কেমন ? —আপনার প্রসাদ পাবার উপযুক্ত । —উত্তম । . প্রতাপনারায়ণ দ্রুত সাজ সমাধা করিয়া গ্রমোদগুহে উপস্থিত হইলেন । অভাগিনী তখন সেই বিলাসগৃহের এক কোণে বস্ত্রখণ্ডে সর্বাঙ্গ আবৃত করিয়া কাদিয়া মরিতেছিল। মনুষ্যপদশকে সে প্রতাপনারায়ণের পানে চাহিয়াই বিকট শব্দে আঁতকাইয়া উঠিল । তাহার আয়ত আঁখি, সর্বোপরি তাহার সেই ভীতিম্বন্দর দেহলত প্রতাপনারায়ণের প্রাণে এক উন্মাদন জাগাইয়। দিল । প্রতাপনারায়ণ তাঁহার নিকট গিয়া প্রশ্ন করিলেন, তোমার নাম ? কোন উত্তর পাইলেন না । পুনরায় বলিলেন, এই যে বিরাট প্রাসাদ, এই অতুল বিভব, সবই তোমার। তুমি আজ আমার রানী । সেই রমণী কহিল,—না—না, আমি রানী হ’তে চাই না। আমায় ভিখিরি থাকতে দিন । আপনার দুটি পায়ে পডি, আপনি আমাকে আমার স্বামী-পুত্রের কাছে ফিরে যেতে দিন। কথা শেষে সে প্রতাপনারায়ণের পদপ্রান্তে পডিল। প্রতাপনারায়ণ উৎকট হাসি হাসিয়া উঠিলেন—বলিলেন, অসম্ভব । জীবনে এখন নিখুত রূপ প্রতাপনারায়ণ আর দ্বিতীয়টি দেখেন নাই। তাহার সেই বিনাইয়া বিনাইয়া কান্না প্রতাপনারায়ণের নিকট বড় মধুর বলিয়া বোধ হইল! সেই রমণী কহিল, আমায় ছেড়ে দিন, আপনার ভাল হবে। প্রতাপনারায় হা হা করিয়া হাসিতে লাগিলেন, বলিলেন—আমার ভাল আমি চাই না। —আপনি ধ্বংস হয়ে যাবেন! আপনার সর্বনাশ হবে। আমার অভিশাপে এ বুড়ীম্বর জলে পুড়ে যাবে। প্রতাপনারায়ণ শিহরিয়া উঠিলেন । সে পুনরায় বলিল, যদি আমি যথার্থ সতী হয়ে থাকি তবে আমার অভিশাপ কখনও সহ্য করতে পারবেন না । আপনি নিধংশ হবেন । অবলা রমণীর যে এমন করিয়া মানুষকে অভিশাপ দিবার ক্ষমতা আছে ইহা ছিল প্রতাপনারায়ণের বিশ্বাসের অতীত। কিন্তু তিনি পরিণামদর্শী ছিলেন না আদৌ। তিনি ঐ অবলার সাবধান-বাণী শুনিলেন না। এই তাহার জীবনের শেষ শিকার। পরদিন সারা প্রাসাদে একটা ছাপনে বিবাদের ছায়াপাত হইল। সেদিন হইতে সেই রমণী আর উঠিল না বা আহার গ্রহণ করিল না। দুই দিন পূর্ব হইতেই সে উপবাস করিতেছিল। তিল তিল করিয়া সে শুকাইয়া মরিতে লাগিল । সকলে মূক বিস্ময়ে অভাগীর বি. র. ৮ (২)—৭ கு