পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেবযান રજે আশার চোখে-মুখে এতটুকু চৈতন্য জাগলো না, সে যেন ঘুমুচ্চে । যতীন চতুর্থ স্তরে যেমন অবস্থায় পড়েছিল, আশা ভুবর্লোকে অতি নিম্নস্তরেই সেই অবস্থা ; এখন ও যদি পৃথিবীর স্থল দেহটা হারায়, এ লোকে এসে মহাকষ্ট পাবে, কারণ যে দেহটা .নিয়ে এ লোকের সঙ্গে কারবার সে দেহটাই ওর তৈরী হয় নি। সদ্যপ্রস্থত অন্ধ বিড়াল ইদুর ধরবে কেমন করে ? অর্থাৎ আশা আতি নিম্নশ্রেণীর আত্মা ! যতীন আরও কয়েকবার নিজের অস্তিত্ব সম্বন্ধে আশাকে সচেতন করবার বৃথা চেষ্টা করে ব্যথিত মনে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলে । সেদিনই বুড়োশিবতলার ঘাটে গঙ্গার ধারে এক ব্যাপার ঘটলো। ఏ পুষ্প ও যতীন দুজনে নিজেদের বাড়ীর সামনে বাগানে বসে গল্প করচে । যতীন পুষ্পকে পৃথিবীতে যাওয়ার কথা কিছুই বলে নি । তবুও পুপ সব ব্যাপার জানে। পাছে মনে কষ্ট পায় এই জন্যে যতীনকে সে বলে নি যে সে জানে । হঠাৎ আকাশের এক কোণে নীল উজ্জল আলো দেখা গেল—গঙ্গার এপার ওপার, ওদের বাড়ী, ঘর, বাগান, বুড়োশিবতলার ঘাট, এমন কি ওপরের খামামুন্দরীর ঘাট পর্যন্ত সে আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো। পুপ শশব্যস্তে দাড়িয়ে উঠে বল্লে—দ্যাথো, দ্যাথো, কোনো দেবতা যাচ্চেন---চেয়ে দ্যাথো— পরক্ষণেই যতীনের মনে হোল একটা বিরাট প্রজলন্ত উল্কা তাদের বাড়ীর অদূরে উন্মুক্ত বনজ লিলির ঝোপের ধারে এত প্রখর আলো বিকাশ ক’রে এসে পড়লো যে, দুজনেরই চোখ ধ’াধিয়ে গেল তার তীয় উজ্জল তীব্রতায় । ওরা আশ্চর্য হয়ে ছুটে গিয়ে দেখলে যে এক মহাজ্যোতির্ময়দেহধারী পুরুষ ঝোপের ধারে বসে পড়েচেন । অমন মহিমময় শ্ৰী যে পৃথিবীর মাস্তষের হয় না—তা দুবার দেখে বুঝতে হয় না । দুজনেই বিস্ময়ে ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে দূরে থেকে চেয়ে দেখচে, এমন সময় দেবতার নিকট থেকে পুষ্পের নিকট পর্যন্ত একটা ম্যাজেন্ট রঙের আলোয় চওড়া শিখা সাপের মত কুটিল বক্র আকৃতি ধরে একবার খেলে গেল । একটা বড় দশ ব্যাটারির টচের আলো কে যেন একবার টিপে তখনি বন্ধ করলে । পুপ বুঝলে এটু কি। অতি উচ্চশ্রেণীর দেবতাদের বিদ্যুতের ভাষা ! পঞ্চম স্তরের সেই আত্মার কাছে পুপ একথা শুনেছিল। তিনি বলেছিলেন, উধ্বতন স্লোকে--নবম বা দশম স্তরের ওপরেও যে সব উচ্চ স্তর, সেখানে দেববিবর্তনের জীবের বাস করেন। মানুষের সর্বপ্রকার ধারণার অতীত তাদের ক্রিয়াকলাপ-- র্তাদের সে বিরাট জীবনের সম্বন্ধে পৃথিবীর লোকই বা কি, সাধারণ প্রেতলোকের আত্মারাই বা কি, কোনো খবর জানে না । মুখের ভাষায় তার কথা বলেন না—তাদের প্রকাশের ভঙ্গি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। আগুনের বা বিদ্যুতের ভাষায় চলে তাদের কথাৰাৰ্তা। 婚 পুষ্প হাতজোড় করে নীরবে দাড়িয়ে রইল। পুনরায় মুহাব্যস্ত ও ক্ষিপ্ৰ আর একটা তার