পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S¢२ বিভূতি-রচনাবলী পক্ষাঘাতে অবশ হুইয়া যায়। গত বৎসর তাহার মৃত্যু হইয়াছে। অনঙ্গ তাহার এই দাদাকে খুব ভালবাসিত। নানারকমে তাহাকে সৎপথে ফিরাইবার চেষ্টা করিয়াও শেষ-পৰ্য্যন্ত কিছুই হইল না—তাই সে এখন মনের দুঃখে বাপের বাড়ী যাওয়া বন্ধ করিয়াছে। তাহার দাদাও ভগ্নীপতির গৃহে কালে-ভদ্রে পদার্পণ করে। গদাধর বোঝেন ব্যবসা, পয়সা উড়াইবার মানুষ তিনি নহেন ! কোনে প্রকার শৌখিনতাও নাই তাহার। এমন কি, হাতে পয়সা থাকা সত্ত্বেও বাড়ী-ঘর কেন সারাইতেছেন না—ইহা লইয়া ঘরে-পরে বিস্তর অঙ্গুযোগ সহ করিয়াও তিনি অটল। তার নিজের মত এই যে, চলিয়া যখন যাইতেছে, তখন এই অজ পাড়াগায়ে ঘর-বাড়ীর পিছনে কতকগুলা টাকা ব্যয় করিয়া লাভ নাই ! একদিন তাহার এক আত্মীয় কী কার্য্যোপলক্ষে উাহার বাড়ী আসিয়াছিল। বাড়ী-ম্বর দেখিয়া বলিল—গদাধর, বাড়ী-ঘর এমন অবস্থায় রেখেচো কেন ? —কেন বলে। তো ? —জানালা নেই—চট টাঙিয়ে রেখেচে, দেওয়াল প’ড়ে গিয়েচে, দূরমার বেড়া—তোমার মত অবস্থার লোকে কি এরকম করে ? —তুমি কি বলে ? —ভালো ক'রে বাড়ী করে, পুজোর দালান দাও, বৈঠকখানা ভালো ক'রে করো— তবে তো জমিদারের বাড়ী মানাবে। —হঁ্যাঃ, পাগল তুমি ! কতকগুলো টাকা এখানে পুতে রাখি ! —তা, বাস করতে গেলে করতে হয় বইকি। এতে লোকে বলে কি ? --যা বলে বলুকগে । তুমিই ভেবে দ্যাখো না ভাই, এই বাজারে কতকগুলো টাকা খরচ ক’রে এখানে ওসব ধুমধামের কি দরকার আছে ? —এই বাড়ীতে চিরকাল বাস করবে ? পৈতৃক-বাড়ী ভালো ক’রে তৈরি করে।—দশ জনের মধ্যে একজন হয়ে বাস করো । —এখানে আর বড় বাড়ী ক’রে কি হবে ? চলে তো যাচ্ছে । সে টাকা ব্যবসায়ে ফেললে কাজ দেবে । ইট গেড়ে টাকা খরচ করা আমার ইচ্ছে নয়। তবে গদাধরের একটা শৌখিনতা আছে এক বিষয়ে। পায়রা পুষিতে তিনি খুব ভালেবাসেন—ছাদে বঁাশ চিরিয়া পায়রার জায়গা করিয়া রাখিয়াছেন—নোটন পায়রা, ঝোটন পায়র, তিলে খেড়ি, গিরেবাজ—শাদা, রাঙা, সবুজ সব রংয়ের পায়রার দিন রাত ডানার ঝাপট, উড়ন্ত পালকের রাশি ও অবিশ্রান্ত বক্‌বকম্ শব্দে গদাধরের ভাঙা অট্টালিকার কানিশ, থামের মাথা ও ছাদ জমাইয়া রাখিয়াছে। তাহার বিশ্বাস, পায়রা যেখানে, লক্ষ্মী সেখানে বাধা । পায়রার শখে বছরে কিছু টাকা খরচ হুইয়াও যায়। পায়রার প্রধান দালাল নিৰ্ম্মল— লে কলিকাতা হইতে ভালো পায়রার সন্ধান মাঝে-মাঝে জানিয়া, টাকা লইয়া গিয়া কিনিয়া