পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


मञ्चाडि $wrč চোখের জলে অনঙ্গ কথা শেষ করিতে পারিল না। ঠিক সেই রাত্রে বাগমারী রোড ছাড়াইয়া খাল-ধারের বাগান বাড়ীতে জলসা বসিয়াছে। গদাধর সেখানে আটকাইয়া পড়িয়াছেন। এই কয় মাসের মধ্যেই শচীনের মধ্যস্থতায় আরও কয়েকটি মেয়ের সঙ্গে গদাধরের আলাপ হইয়াছে। তাহাদের সঙ্গে কথা কহিয়া গদাধরের মন ভরিয়া ওঠে। মনে হয়, এত কাল গ্রামে পাটের বস্তা লইয়া কি করিয়াই না দিন কাটাইয়াছেন ! যৌবনের দিনগুলো একেবারে নষ্ট হইয়াছে ! এখানে এই বিলাসের জগতে ইহারা মায়া-বিভ্রম জাগাইয়া তোলে। মনে হয় ব্যবসায় যদি করিতে হয় তো এই ফিল্মের ব্যবসায় ! কতকগুলো ম্যানেজার, গোমস্ত সরকার, দারোয়ান কুলির কোনো সংস্রব নাই—এমন সব কিশোরী•••তাহীদের সঙ্গে আলাপ, গানের ঝর্ণাধারা---এমন অন্তরঙ্গতা করিতে জানে, মনে হয়, পৃথিবী যেন মায়াপুরী হইয় ওঠে ! ওই শচীন খুব আলগা ভাবে কানে মন্ত্র দেয়—পাটের কারবার তো করেচো-পয়স। পিটছে। খুবই । চালু কারবার-পাক মুহুরি গোমস্ত আছে—সে-কাজ তারা অনায়াসে দেখতে পারে —আমি বলি কি ফিল্মের ব্যবসায় যদি নেমে যাও—এ ব্যবসায় সারা পৃথিবী কি-টাকাট অনায়াসে রোজগার করছে ! এ কারবারে লোকসানের কোনো ভয় নাই, শুধু লাভ আর লাভ ! তাছাড়া এই সব মেয়ে—তোমাকে একেবারে— শচীন ওস্তাদ মানুষ-মানুষ চরাইয়া খায়। জানে, কোন টোপে কোন মানুষকে গাথা যায়।--শচীন বলে—কিছু না, সামান্য পুজি ফেলো—নিজে গ্যাটু হইয়া সেখানে বসিয়া থাকে। দিনের কাজের হিসাব রাখে। স্টুডিও ভাড়া পাওয়া যায়—ফিল্মের রোল ধারে যত চাও—গাট হইতে কিছু টাকা ছাড়ো—ছবির তিন-ভাগ চার-ভাগ তোলা হইবামাত্ৰ— ডিস্ট্রিবিউটর আসিয়া কম্সে-কৰ্ম্ম আগাম ষাট-সত্তর হাজার টাকা নিজের তহবিল হইতে বার করিয়া দিবে,—তার পাচ গুণ টাকা আদায় হইয়া আসিবে—ছবি তৈয়ার হইলে সে ছবি ঘুরিবে সারা বাঙলা মুল্লুকে—তার হিন্দী করে, হোল ইণ্ডিয়া । একখানা ছবির বাঙলা-হিন্দী দু-ভার্সনে এক বছরে নিট লাভ বিশ-পচিশ লাখ হইবে। দু-চারিট দৃষ্টান্তও শচীন দিল—ঐ সব কোম্পানির মালিক ফিল্ম কোম্পানির অফিসে কেরানীগিরি করিত দেড়শো-দুশো টাকা মাহিনায়। এদিকে নজর রাখিয়া চলিত—ফস করিয়া মাড়োয়ারি ক্যাপিটালিস্ট ধরিয়া আজি অত বড় কোম্পানির মালিক ! মোটর ছাড়া পথ চলে না—কি প্রকাও বাড়ী করিয়াছে আলিপুরে । টাকার কুমীর বনিয়াছে ! কি মান, কি ইঙ্গৎ ছেলেকে বিলাত পাঠাইয়াছে •••নিরেট ছেলে একবার বিলাত ঘুরিয়া আসিলেই—ব্যস্ ! গদাধর শোনেন। গঙ্গাধরের মনে হয়, কারবার-ব্যবসা—লাভ—শুধু তা নয়, এমন মধুর সংসর্গ ! নাচ-গান-হালি-গল্প'-এ সবের সঙ্গে কোন পরিচয় ছিল না”! সেদিন শোভারাণী একটা গান গাহিতেছিল•••সে গানের কটি লাইন তাহার কানে-মমে সবসময়ে বাজিতেছে—