পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S९ विङ्कडि-ब्रध्नांबजौ —খাওয়া দাওয়া করে ঠাণ্ড হোন, ওবেলা সকলের সামনে ওকে ডাকবো । —বেশ, তাহলে এবেলা আমি এখানে থাবো না, মণিরামপুরে একটা সুইসাইডের কেস আছে, তদন্ত করে আসি, ওবেলা বরং চা খাবো এসে । দারোগা সাইকেলে চলে গেল । বিকেলের দিকে দারোগা ফিরে এল। রামপ্রসাদের ডাক পড়লে গ্রামের পল্লীমঙ্গল সমিতির ঘরের সম্মুখবর্তী ক্ষুদ্র মাঠে। লোকজন অনেক জড় হোল ব্যাপার কি দাড়ায় দেখবার জন্যে । রামপ্রসাদ চোখে চশমা দিয়ে ফরসা পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে সভায় এসে হাজির হোল। গ্রামের সব লোকই আমার পক্ষে। ডাক্তারকে কেউ চটাবে না ! দারোগী রামপ্রসাদকে জিজ্ঞেস করলে—আপনার বিরুদ্ধে গ্রামের লোকের কি অভি যোগ জানেন ? রামপ্রসাদ শুকমুখে বললে—আজ্ঞে—আজ্ঞে—না । --আপনি গ্রামের একটা মেয়েকে নষ্ট করেছেন ! —অtজ্ঞে, আমি ! —স্থ্য, আপনি । আমার ইঙ্গিতে সনাতনদা বললে—উনি সে মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে দিনকতক রেখেছিলেন। উনি বিপত্নীক। আর একটা কথা, বাড়ীতে ওঁর একটা মেয়ে প্রায় বিয়ের যুগ্যি হয়ে উঠেছে, অথচ সেই মেয়েমানুষটাকে উনি বাড়ী নিয়ে গিয়ে রাখেন। দারোগা বললে—আমি এমন কথা কখনো শুনি নি। ভদ্রলোকের গ্রামে আপনি বাস করেন, অথচ সেই গ্রামেরই একটি মেয়েকে আপনি এভাবে নষ্ট করেছেন ? সনাতন বললে—সে মেয়েও ভদ্রঘরের মেয়ে, স্যার । উনিই তাকে নষ্ট করেছেন । —মেয়েটি কি জাতের ? —ব্রাহ্মণ বংশের স্যার। সে কথা বলতে আমাদের মাথা কাটা যাচ্ছে—ওঁর ঘরে সোমৰ্ত্ত মেয়ে, অথচ উনি— দ্বারোগা রামপ্রসাদের দিকে চেয়ে বললে—একি শুনছি ? আপনাকে এতক্ষণ ‘আপনি' বলছিলাম, কিন্তু আপনি তো তার যোগ্য নন—তুমি’ বলতে হচ্ছে এইবার। তুমি দেখছি অমানুষ । ভদ্রলোকের গ্রামের মধ্যে যা কাণ্ড তুমি করছে, ব্রাহ্মণের ছেলে না হলে তোমাকে চাব কে দিতাম ! বদমাশ কোথাকার ! སྭོ༔ ༥་༤ রামপ্রসাদের মুখ অপমানে রাঙা হয়ে এতটুকু হয়ে গেল। সে হাজার হোক, গ্রামের সন্ত্রান্ত বংশের ছেলে, চশমা চোখে, ফরসা পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে বেড়ায়, যদিও লেখাপড়া কিছুই জানে না—এভাবে সর্বসাধারণের সমক্ষে জীবনে কখনো সে অপমানিত হয় নি। লঙ্গ ও ভয়ে সে সঙ্কুচিত হয়ে পড়লে । পুলিশকে এই সব পল্লীগ্রামে বিশেষ ভয় করে চলে লোকে, তার সঙ্গে যোগ-সাজস করেছে আমার মত ডাক্তার, এ অঞ্চলে যার যথেষ্ট পসার ও প্রতিপত্তি। ভয়ে ও অপমানেরামপ্রসাদ কাঠের মত আড়ষ্ট হয়ে দারোগার টেবিলের সামনে দাড়িয়ে রইল।