পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8७९ বিভূতি-রচনাবলী —বাবা, আমরা এখনো বহুদূর । কুটচকে পৌছতে এখনো দেরি আছে। কবে কোথায় থাকি ঠিক নেই। তিনি যেখানে নিয়ে যান সেখানে যাবো । তিনি এখানে এনেছিলেন তাই তোমার সঙ্গে দেখা হল । —গায়ে ফিরতে ইচ্ছে হয় না কাকাবাবু ? —আগে আগে হত, এখন আর হয় না বাবা । তোমার খুড়ীমা চলে গিয়েচেন, এখন আর কোন বন্ধনই নেই। কি দেখতে যাবো ? —খুড়ীমা মারা গিয়েচেন আমার মুখে শুনলেন তো ? -नीं । —কেউ চিঠি লিখেছিল ? —না । থাক সে কথা বাবা । ইতিমধ্যে বন্ধুবান্ধবদের দল এসে পড়লো । হরিকাকাকে তারা পাড়েপুরের পানতুয়া কিনে দিলে এক ভাড়। হাসিমুখে গ্রহণ করলেন । আমরা সবাই পায়ের ধুলো নিয়ে প্রণাম করলাম । ওঁকে এক গাছতলায় ছেড়ে দিয়ে আসতে ইচ্ছে করছিল না। আমাদের সকলকে আশীৰ্বাদ করলেন। টাঙায় উঠবার সময় আমার চোখে জল এল । পথিকের বন্ধু মহকুমার টাউন থেকে বেরুলাম যখন, তখনই বেলা যায় যায়। কলকাতা থেকে আসছিলাম বরিশাল এক্সপ্রেসে । বারাসাত স্টেশনে নিতান্ত অকারণে ( অবশ্য যাত্রীদের ব্যাখ্যা-অনুযায়ী ) উক্ত বরিশাল এক্সপ্রেস চল্লিশ মিনিট কেন যে দাড়িয়ে রইল দারুব্রহ্মবৎ অনড় অবস্থায় তা কেউ বলতে পারলে না । গন্তব্যস্থান বনগায়ে পৌছে দেখি রাণাঘাট লাইনের গাড়ী চলে গিয়েচে । বেলার দিকে চাইলাম। বেশ উচুতেই স্বৰ্য্যদেব, লিচুতলা ক্লাবে খানিকট বসে আড্ডা দিয়ে চা খেয়ে ধীরে স্বন্থে হেঁটে গেলেও এই পাচ মাইল পথ সন্ধ্যার আগেই অতিক্রম করতে পারা কঠিন হবে না ? t রামবাৰু, শুামবাৰু, যদু ও মধুবাবু সবাই বেলা পাচটার সময় ক্লাবে বসে গল্প করছিলেন । আমায় দেখে বলেন—এই যে বিভূতি, এসময় কোথেকে ? —কলকাতা থেকে । —বাড়ী যাবে ? ট্রেনে গেলে না ? —ট্রেনটা ফেল হয়ে গেল, বরিশাল এক্সপ্রেস চল্লিশ মিনিট লেট । —এসো, খুব ভাল হয়েছে এক্সপ্রেস লেট হয়ে । বোলে চা খাও । তারপর গল্পগুজবে (যার বারে আনা পরনিন্দ ) সময় হু হু করে কেটে গিয়ে কখন যে