পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२७ বিভূতি-রচনাবলী আমি ছিলাম ভাড়ার ঘরে, একটা হৈ চৈ শুনে ছুটে বাইরে গেলাম। মুখুয্যে জ্যাঠার ছেলে হারান হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে, হাতে মাছের বালতি, আমায় দেখে বললে—একটু এগিয়ে যান দাদা—আপনি দেখুন একটু— রণাঙ্গনে ঝাপ দিয়ে পড়লাম। এর সামনে হাতজোড় করি, ওর সামনে মুখ কাচুমাচু করে মাপ চাই ! মাছ ? কে দেয়নি মাছ ? অর্বাচীন যত কোথাকার। এই, এদিকে-নিয়ে এসো মাছের বালতি। যত সব হয়েচে–মানুষ চেনো না 7 রায়মশায়ের পাতে ঢালো মাছ। উনি যত পারেন, দেখছে না খাইয়ে লোক ? খান, খান, আজকাল সব কেউ কি খেতে পারে ? আপনাদের দেখলেও আনন্দ হয়। নিয়ে এসো, মুড়ো একটা বেছে এই পাতে। সন্দেশের বেলা এই পাত ভুলো না যেন । দয়া করে খান সব । আপনার প্রবীণ, সমাজের মাথার মণি, ছেলে-ছোকরাদের কথায় রাগ করে ? ছিঃ, আপনারা হকুম করবেন, আমরা তামিল করবো । খান । দু-একজন ভিন্ন গ্রামের নিমন্ত্রিত ব্রাহ্মণ বললেন—এই তো ! এতক্ষণ আপনি এলেই পারতেন ডাক্তারবাৰু। কেমন মিষ্টি কথাবাৰ্ত্ত ছাখে৷ তো! পেটে বিদ্যে থাকলে তার ५ज्ञमझे एञ्च श्रॉब्लांi । হেঁকে বললাম—এদিকে মাছ নিয়ে এসো বেছে বেছে । মুড়ো দাও একটা এখানে— যে বেশি ঝগড়াটে, তার পাতে মাছের মুড়ো দিয়ে ঠাণ্ডা করি। সামাজিক ভোজে মাছের মুড়ে দেওয়া হয় সমাজের বিশিষ্ট লোকদের পাতে। চাপাবেড়ের ঈশান চক্কত্তির পাতে কস্মিনকালে ভোজের আসরে মাছের মুড়ে পড়ে নি—কারণ সে ঝগড়াটে ও মামলাবাজ হোলেও গরীব। সে আজ বাধিয়ে তুলেছিল এক কাও, ওর পাতে মাছের মুড়ে দেওয়ার দুর্লভ সম্মানে লোকটার রাগ একেবারে জল হয়ে গেল। আমার দিকে চেয়ে হাসি-হালি মুখে বললে—সম্বেশের সময় তুমি নিজে দাড়িয়ে থেকে বাবাজি— —ই্যা হ্যা, নিশ্চয়ই। এই আমি দাড়ালাম, কোথাও যাচ্চি নে। ভোজনপর্ব সমাধানান্তে যে যার বাড়ী চলে গেল, সন্ধ্যার কিছু পূৰ্ব্বে আমি ভাড়ার ধর থেকে ভালঝোলদধিসন্দেশ মাখা হাতে ও কাপড়ে বেরিয়ে নিজের বাড়ী যেতে উষ্ঠত হয়েছি, মুখুয্যে জ্যাঠা পেছন থেকে ডেকে বললেন—কে যায় ? -ञांदखा, श्रांभि **ांश । —খেয়েচ ? —অাজে না । —কোথায় যাচ্চ তবে ? সোনা ফেলে আঁচলে গেরো ? —সমস্ত দিনের ইয়ে—বাড়ী গিয়ে গা ধুয়ে— —সে হবে না। গা এখানেই ধোও পুকুরঘাটে। সাবান কাপড় সব দিচেত। —আজ্ঞে তা হোক জ্যাঠামশায়। আমি বরং— মুখুষ্যে জ্যাঠামশায় এলে আমার হাত ধরলেন।