পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


82ー বিভূতি-রচনাবলী বাজনা বাজাতো। ওর স্বামী মারা গিয়েচে আজ চার পাচ বছর । কিছু রেখে যায়নি, নেশাভাঙ করে সব উড়িয়ে দিয়ে গিয়েচে। কেউ কোথাও নেই ওদের। গেীরদাস ওই বোঁটার কি রকমের ভাগুর, তাই ওদের আশ্রয়ে এসে উঠেচে। গৌরদাসেরও তো অবস্থা খারাপ, কাজেই ওকে ভিক্ষে করে চালাতে হয়—নইলে উপায় কি। উপায় যে কিছু নেই, তা নিজেকে দেখেই আজকাল বেশ বুঝতে পারি। সে কথা অবিপ্তি আর বড় মেয়েকে বল্লুম না । (빠 ( | গৃহপ্রাঙ্গণে ভবনশিখী পাখা মেলে নেচে বেড়াচ্ছে অতিমুক্তলতার পাশে পাশে। কাল রাত্রে প্রমোদগুহে যে জাতিপুষ্পের মুগন্ধি মাল্য ব্যবহৃত হয়েছিল, সেটা বাতায়ন-বলভিতে প্রলম্বিত । বোধ হয় পরিত্যক্ত । আর সেটার কি দরকার । অতিমুক্তলতার ফাকে ফঁাকে দূরের নীল শৈলশ্রেণীর তুষার-মুকুট চোখে পড়ে। মাসটা চৈত্র, কিন্তু বেশ শীত । স্বন্দরী ভদ্রা প্রাঙ্গণ উত্তীর্ণ হয়ে বহিদ্বারের কাছে এসে তরুণ স্বামীর দিকে অপাঙ্গদৃষ্টিতে চেয়ে বললে, রও, তুমি কখন ফিরবে বলে যাও। নন্দকে অত্যন্ত অনিচ্ছায় যেতে হচ্ছে গৃহ ছেড়ে । তিনি যেতে আদৌ ইচ্ছুক নন। নবপরিণীত স্বন্দরী বধু প্রাসাদ-অলিন্দে আলুলায়িত-কুন্তল অবস্থায় দণ্ডায়মান, শাক্যবংশের প্রাসাদ একাই যেন আলো করেছে এই প্রভাতকালে, নবোদিত স্বৰ্য্যের আলো স্নান হয়েছে না ওর মুখের সপ্রেম চাহনির আলোয় ! রাজকুমার নন্দ একবার চারিদিকে চেয়ে দেখলেন। উপায় নেই, যেতেই হবে। কাল জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ভগবান জিন তথাগত গুগ্রোধারাম বিহার থেকে শাক্যদের প্রাসাদের কনিষ্ঠ নন্দের আলয়ে ভিক্ষা করতে এসেছিলেন । দাদা কতকাল পরে আবার শাক্যদের প্রাসাদ আলো করেছেন ফিরে এসে । মহাপ্রজাপতি গৌতমী যদিও নন্দকে অঙ্কে পেয়েছিলেন প্রৌঢ় বয়সে, তবুও শাক্যকুলগৌরব ভগবান বুদ্ধকে তিনিই মানুষ করেছিলেন তার মাতার মৃত্যুর পর থেকে। কুমার সিদ্ধার্থ গৃহত্যাগ ক’রে যাওয়ার পরে তার দুঃখের সীমা ছিল না। নন্দকে কোলে পেয়েছিলেন, তাই —নয়তো বাচতেই পারতেন না। স্বন্দর, স্বঠাম, স্বশীল নন্দ। র্তার চোখের পুতুল, তার কতদিনের স্বপ্ন । মহাপ্রজাপতি গৌতমীর কৈশোরকালের নাম ছিল মায়া । যখন তিনি প্রথমে শাকারাজপ্রাসাদে আসেন নববধুরূপে, তার আগেই র্তার কনিষ্ঠ ভগ্নী মহামায়ার বিবাহ হয়েছিল এখানে । যখন মহামায়ার কোন পুত্রসন্তান হল না অনেকদিন পর্য্যস্ত, তখন প্রজারা