পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Hෂ বিভূতি-রচনাবলী তারা সবাই রয়েচে, যেমন, প্ৰহলাদ সাধুখা, ওর ভাই নরহরি সাধুর্থী, গোবিন্দ দা, ইত্যাদি। আমি যেতেই সবাই কলরব করে উঠলো—আস্কন, ডাক্তারবাবু, আস্বন। আবার সেই অল্পবয়সী মেয়েটি ঘুরে ঘুরে আমার সামনে এসে হাজির হোতেই আমি দুটি টাকা প্যাল দিয়ে দিলাম সকলের অাগে ৷ পকেট ভরে আজ টাকা নিয়ে এসেছি প্যালা দেওয়ার জন্যে। আবদুল হামিদ যে আমার নাকের সামনে রুমাল ঘুরিয়ে প্যাল দেবে, তা আমার সহ্য হবে না । কিন্তু সত্যিই কি তাই ? আবদুল হামিদের চোখে বড় হবার জন্যেই কি পকেট পুরে টাকা এনেছি প্যাল দেবার জন্যে ? নিজের কাছেই নিজের মনোভাব খুব স্পষ্ট নয়। আবদুল হামিদ আমার দেখাদেখি দুটাক প্যাল দিলে। আমার চোখ তখন কোনো দিকে ছিল না। আমি এক দৃষ্টে সেই অল্পবয়সী মেয়েটিকে দেখচি। কি অপূর্ব ওর মুখশ্ৰী ! টান টানা ডাগর চোখ দুটিতে যেন কিসের স্বপ্ন মাখা । ওর সারা দেহে কি হাড় নেই ? এমন লীলায়িত ভঙ্গিতে দেহ-লতায় হিল্লোল তুলেচে তবে কি করে ? নারীদেহ এমন সুন্দর ও হয় ! মেয়েটি আমার দিকে আবার এগিয়ে আসচে আমার দিকে চেয়ে চেয়ে। কিন্তু ওর মুখে চোখে বেপরোয়া ভাব নেই, ব্রীড়া ও কুষ্ঠায় চোখের পাতা দুটি যেন আমার দিকে এগিয়ে আসার অৰ্দ্ধপথেষ্ট নিমীলিত হয়ে আসচে। সে কি অবর্ণনীয় ভঙ্গি ! আর গান ? সে গানের তুলনা হয় না। কিন্নরকষ্ঠ বলে একটা কথা শোনাই ছিল, কখনো জানতাম না সে কি জিনিস। আজ ওর গলা শুনে মনে হোল, এই হোল সেই জিনিস। এ যদি কিন্নরকৃষ্ঠ না হয়, তবে কার প্রতি ও বিশেষণ স্বর্ভূভাবে প্রযুক্ত হবে ? আবদুল হামিদ এতক্ষণ কি বলেচে আমি শুনতে পাই নি। সে এবার আমার পা ঠেলতেই আমি যেন অনেকটা চমকে উঠলাম । ছুপাটি দাত বের করে আমার সামনে একটা সিগারেট ধরে সে বলচে—শুনতে পান না যে ডাক্তারবাবু! নি4– আমার লজ্জা হোল। কি ভেবে আবদুল হামিদ একথা বলচে কি জানি। ও কি বুঝতে পেরেচে যে আমি ওই মেয়েটিকে এক দৃষ্টে চেয়ে দেখচি ? বোধ হয় পারে নি। কত লোকই তো দেখচে, আমার কি দোষ ? গোবিন্দ দা বললে—একবার কলকাতায় গেলে আমার দোকানে পায়ের ধুলো দেবেন। —হ্যা, নিশ্চয়ই। কেন যাবে না ? —আমড়াতলা গলির রায় চৌধুরীদের দেখেচেন ? -국 ||