পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


es বিভূতি-রচনাবলী —তোমার বউ কোথায় ? খেমটার আসরে নাকি ? নেপাল জিভ কেটে বললে—রামোঃ, বড়বে কক্ষনো ওসব শুনতে যায় না । —শুনে বড় স্বর্থী হলাম নেপাল । না যাওয়াই ভালো । —বাবু, একটা কথা বলি, আবদুল হামিদ আর গোবিন্দ দ্বার সঙ্গে আপনি মিশবেন না। ওরা লোক ভালো না । —সে আমি জানি । —বড় বেীও বলছিল— —কি বলছিলেন ? —বলছিল, ডাক্তারবাবকে বলে দিও যেন ওদের সঙ্গে না মেশেন । ওরা কুপথে নিয়ে যাবে তাকে। কত লোককে যে ওরা খারাপ করেচে আমার চোখের ওপর, তা আর কি বলবো আপনাকে ডাক্তারবাবু। এই বাজারে ছিল হরি পোদারের ছেলে বিধু, তাকে ওরা মদে মেয়েমানুষে সর্বস্বাস্ত করে ছেড়ে দিল । —ও সব কিছু নয় নেপাল । নিজের ইচ্ছে না থাকলে কেউ কখনো কোথাও যায় না । ওসব ভুল কথা। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেউ আমায় খারাপ করতে পারে না জেনে । আমি যখন ওপথে নামবো, তখন নিজের ইচ্ছেতেই যাবো । লোকে বললেও যাবো, না বললেও যাবে। —না, আমি এমনি কথার কথা বলচি—মশারি দিয়ে যাই ? —আনতে পারে । নেপাল চলে যাবার আধঘণ্টা পরে আবার কে দোর ঠেলচে দেখে খিল খুলে দিতে গেলাম। গিয়ে দেখি পান্না দাড়িয়ে বাইরে। আসরের সাজ পরনে। ঝলমল করচে রূপ, মুখে পাউডার, জরিপাড় চাপা রঙের শাড়ি পরনে, এক গোছা সোনার চুড়ি হাতে, ছোট একটা মেয়েলি হাত-ঘড়ি চুরির গোছার আগায়, চোখে স্বৰ্ম্মা। সঙ্গে কেউ নেই। অবাক হয়ে বললাম—কি ? 廳 ও কিছু না’ বলে ঘরে ঢুকলে। বসলো একখান চেয়ার নিজেই টেনে। আমার বুকের ভেতর তখন কি রকম করচে। আমি ওর দিকে একদৃষ্টে চেয়েই আছি। পান্নাও কোন কথা বলে না। আমি একবার বাইরে মুখ বাড়িয়ে চারদিকে চেয়ে দেখলাম, কেউ নেই। ফিরে এসে একটু কড়াস্বরে বললাম—কি মনে করে ? পায় আমার মুখের দিকে চোখ তুলে খানিকক্ষণ চেয়ে রইল। তারপর আবার চোখ নিচু করে ঘরের মেঝের দিকে চাইল । কোন কথা বললে না। ঈষৎ হাসির রেখা ওর ওষ্ঠের প্রান্তে । আমি বললাম—কিছু বললে না যে ?