পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাৰঙ্গী فه وان এই পৰ্য্যন্ত বলেই পান্না হঠাৎ থেমে গেল । ওর ব্রীড়ামূচ্ছিত হাসিটুকু বেশ দেখতে । আমি বললাম—আচ্ছা, বসো পান্না । পান্না মুখ তুলে আমার দিকে চেয়ে হাসলে। চোখের চাউনিতে আনন্দ । যে চেয়ারথানা ধরে সে দাড়িয়ে ছিল, সেই চেয়ারটাতেই বসে পড়লো। ঘরের কোনো দিকে কেউ নেই। নির্জন রাত্রি। বর্ষার মেঘ জমেছে আকাশে শেষ রাতের শেষ প্রহরে, খোলা জায়গা দিয়ে দেখতে পাচ্চি । পান্না এত কাছে, এই নির্জন স্থানে, নিজে সেধে ধরা দিতে এসেছে। আমার শরীরের রক্ত টগবগ করে ফুটে উঠলো। বৃদ্ধ হয়ে পড়ি নি এখনো। পান্না চেয়ারে বলে সলজ হাসি হাসলে আবার । ওর মুখে এমন হাসি আমি আজ রাত্রেই প্রথম দেখেচি । পুরুষের সাধ্য নেই এই হাসির মোহকে জয় করে। চেয়ারের হাতলে রাখা পান্নার স্বডৌল, মৃগেীর, সালঙ্কার বাহু আমার দিকে ঈষৎ এগিয়ে দিলে হয়তো অন্যমনস্ক হয়েই। কেউ কোনো কথা বলচি না, ঘরের বাতাস থম থম করছে—যেন কিসের প্রতীক্ষায় । নাগিনী কুহক দৃষ্টিতে আকর্ষণ করচে তার শিকারকে । এমন সময়ে বাইরের বারান্দাতে মাঝিটার জেগে ওঠবার সাড়া পাওয়া গেল । সেই হাই তুলে তুড়ি দিচ্চে, এর কারণ ঠিক সেই সময়ে বৃষ্টি এসেচে বাইরে। বৃষ্টির ছাটে মাঝির ঘুম ভেঙ্গেচে । আমার চমক ভেঙ্গে গেল, মোহগ্ৰস্ত ভাব পলকে কেটে যেতে আমি চাঙ্গা হয়ে সোজা হয়ে দাড়িয়ে উঠলাম তড়াক করে চেয়ার ছেড়ে । সঙ্গে সঙ্গে পান্নাও উঠে দাড়ালো। শঙ্কিত কণ্ঠে বললে—ও কে ? —আমার মাঝি। সেই তো যার কথা বলেছিলাম খানিক আগে। —ও ঘরে আসবে নাকি ? —নিশ্চয়ই। {} —আমি তবে এখন যাই । আপনি যাবেন, না থাকবেন ? —যাবো । —না, যাবেন না । আজ আমাদের শেষ দিন । কাল চলে যাবে। আপনাকে থাকতে হবে। আমার মাথার দিব্যি । আমি আসবে। আবার । কখনো যাবেন না । হেসে বললাম—তুমি হিপনটিজম করা অভ্যেস করেচ নাকি ? ও রকম বার বার করে একটা কথা বলচো কেন ? —সে আবার কি ? —সে একটা জিনিস। তাতে যে-কোনো লোককে বশ করা যায় । —সত্যি ? শিখিয়ে দেবেন আমাকে সে জিনিসটা ? মনে মনে বললাম—সে আমাকে শেখাতে হবে না। সে তুমি ভীষণভাবে জানো। পান্না সামনের দোর খুলে বেরিয়ে গেল চটু করে। রাত কতট ছিল আমার খেয়াল হয়নি। সে খেয়াল ছিলও না । পান্না চলে গেলে মনে