পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১bo বিভূতি-রচনাবলী তাহাকে লইয়া যাইতে । • বৈকালে বিমলেন্দ আবার আসিল । দু'জনে মাঠে ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করিবার পর বিমলেন্দ একটা হলদে রঙের মোটর দেখাইয়া বলিল, ঐ দিদি আসছে—আসন, গাছতলায় গাড়ি পাক করবে, এখানে ট্র্যাফিক পলিশে আজকাল বড় কড়াকড়ি করে । অপর বকে টিপা-টিপ করিতেছিল। কি বলিবে, কি বলিবে সে লীলাকে ? বিমলেন্দ আগে আগে, অপর পিছনে পিছনে । লীলা গাড়ি হইতে নামে নাই, বিমলেন্দ গাড়ির জানালার কাছে গিয়া বলিল,--দিদি, অপববাব এসেছেন, এই যে।—পরক্ষণেই অপর গাড়ির পাশে দাঁড়াইয়া হাসিমুখে বলিল—এই যে, কেমন আছ, লীলা ? সত্যই অপব্ব সন্দের । অপর মনে হইল, যে-কবি বলিয়াছেন, সৌন্দয"ই একটা মহৎ গণ, যে সন্দের তাহার আর কোন গণের দরকার হয় না, তিনি সত্যদশী, অক্ষরে অক্ষরে তাহার উক্তি সত্য । তবুও আগের লীলা নাই, একটু মোটা হইয়া পড়িয়াছে, মুখের সে তরণে লাবণ্য আর কই ? মাখের পরিণত সৌন্দয্য ঠিক তাহার মা মেজবৌরানীর এ বয়সে যাহা ছিল তাই, সেই ছেলেবেলায় বন্ধমানের বাটীতে দেখা মেজবৌরানীর মুখের মত । উদাম লালসামাখা সৌন্দয" নয়—শান্ত, বরং যেন,কিছদ বিষণ্ণ ৷ 馨 লাড়ির বাহির হইয়া গিয়াছে যে-মেয়ে, তাহার ছবির সঙ্গে অপু কিছুতেই এই বিষন্ননয়না দেবীমত্তি’কে খাপ খাওয়াইতে পারিল না। লীলা ব্যস্ত হইয়া হাসিমুখে বলিল— এসো, অপর্বে এসো। তুমি তো আমাদের ভুলেই গিয়েচ একেবারে । উঠে এসে বসো । চলো, তোমাকে একটু বেড়িয়ে নিয়ে আসি শোভা সিং, লেক— লীলা মধ্যে বসিল, ও-পাশে বিমলেন্দ, এ-পাশে অপ, অপর মনে পড়িল বাল্যকাল ছাড়া লীলার এত কাছে সে আর কখনও বসে নাই । বার বার লীলার মুখের দিকে চাহিয়া চাহিয়া দেখিতেছিল। এতকাল পরে লীলাকে আবার এত কাছে পাইয়াছে—বার বার দেখিয়াও যেন তৃপ্তি হইতেছিল না। লীলা অনগ'ল বকিতেছিল, নানারকম মোটরগাড়ির তুলনামলক সমালোচনা করিতেছিল, মাঝে মাঝে অপর সবন্ধে এটা-ওটা প্রশ্ন করিতেছিল । লেক দেখিয়া অপর কিন্তু নিরাশ হইল । সে মনে মনে ভাবিল—এই লেক । এরই এত নাম । এ কলকাতার বাবদের ভাল লাগতে পারে—ভারী তো ! লীলা আবার এরই এত সংখ্যাতি করছিল—আহা, বেচারী কলকাতা ছেড়ে বিশেষ কোথাও তো যায় নি -লীলা পাছে অপ্রতিভ হয় এই ভয়ে সে নিজের মতটা আর ব্যস্ত করিল না। একটা নারিকেল গাছের তলায় বেষ্টি পাতা—সেখানে দু'জনে বসিল । বিমলেন্দ মোটর লইয়া লেক ঘুরিতে গেল। লীলা হাসিমুখে বলিল—তারপর, তুমি নাকি দিগ্বিজয়ে বেরিয়েছিলে ? —তোমার বশরবাড়ির দেশে গিয়েছিলম-জব্বলপুরের কাছে।—বলিয়া ফেলিয়া অপর ভাবিল কথাটা বলা ভাল হয় নাই, হয়তো লীলার মনে কষ্ট হইবে-ছিঃ– কথাটা ঘরাইয়া ফেলিয়া বলিল-আচ্ছা ঐ দ্বীপ-মতন ব্যাপারগুলো -ওতে যাবার পথ নেই •• —সাঁতার দিয়ে যাওয়া যায়। তুমি তো ভালো সাঁতার জানো-না ? ও-সব কথা যাক-এতদিন কোথায় ছিলে, কি করছিলে বলো। তোমাকে দেখে আজ এত খুশী হয়েছি ।---আমার বাসায় এসো আলিপুরে-চা খাবে। একটু তামাটে রঙ হয়েছে, কেন ? --রোদে ঘরে ঘরে বঝি–আচ্ছা, আমার কথা তোমার মনে ছিল ? অপর একটু হাসিল । কোন নাটুকে ধরণের কথা সে মুখে বলিতে পারে না। আর এই সময়েই যত মনুখচোরা রোগ আসিয়া জোটে ! কতকাল পরে তো লীলাকে একা কাছে