পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত పిఫిసి অপকে খাইতে দিয়া গলপ করিতে করিতে তিনি বললেন, ও, ভুলে গিয়েছি তোমাকে বলতে, আমাদের নিশ্চিশিদপুরের ভুবন মল্লখয্যের মেয়ে লীলা যে কাশীতে আছে, জান না ? অপর বিস্ময়ের সরে বলিল—লীলাদি । নিশ্চিন্দিপুরের ? কাশীতে কেন ? জ্যাঠাইমা বলিলেন—ওর ভাশরে কি চাকরি করে এখানে I, বড় কট মেয়েটার, স্বামী তো আজ ছ'সাত বছর পক্ষাঘাতে পঙ্গ, বড় ছেলেটা কাজ না পেয়ে বসে আছে, আরও চারপাঁচটি ছেলমেয়ে সবসুদ্ধ, ভাশরের সংসারে ঘাড় গ:জে থাকে। যাও না, দেখা ক’রে এসো আজ বিকেলে, কালীতলার গলিতে ঢুকেই বাঁদিকের বাড়িটা। বাল্যজীবনের সেই রানীদির বোন লীলাদি । নিশ্চিন্দিপুরের মেয়ে। বৈকাল হইতে অপর দেরি সহিল না, জ্যাঠাইমার বাড়ি হইতে বাহির হইয়াই সে কালীতলার গলি খুজিয়া বাহির করিল—সর ধরণের তেতলা বাড়িটা। সিড়ি যেমন সঙ্কীণ, তেমনি অন্ধকার, এত অন্ধকার যে পকেট হইতে দেশলাই-এর কাঠি বাহির করিয়া না জালাইয়া সে এই বেলা দুইটার সময়ও পথ খুজিয়া পাইতেছিল না ! একটা ছোট দয়ার পার হইয়া সর একটা দালান। একটি দশ বারো বছরের ছেলের প্রশ্নের উত্তরে সে বলিল, এখানে কি নিশ্চিন্দিপুরের লীলাদি আছেন ? আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি বলো গিয়ে । অপর কথা শেষ না হইতে পাশের ঘর হইতে নারী-কণ্ঠের প্রশ্ন শোনা গেল, কে রে খোকা ? সঙ্গে সঙ্গে একটি পাতলা গড়নের গৌরবণ মহিলা দরজার চৌকাঠে আসিয়া দাঁড়াইলেন, পরনে আধ-ময়লা শাড়ি, হাতে শাখা, বয়স বছর সাইরিশ, মাথায় একরাশ কালো চুল । অপর চিনিল, কাছে গিয়া পায়ের ধলা লইয়া প্রণাম করিয়া হাসিমুখে বলিল, চিনতে পার লীলাদি ? ■ পরে তাহার মুখের দিকে বিস্ময়ের দটিতে চাহিয়া আছে এবং চিনিতে পারে নাই দেখিয়া বলিল, আমার নাম অপ, বাড়ি নিশ্চিন্দিপুরে ছিল আগে— লীলা তাড়াতাড়ি আনন্দের সরে বলিয়া উঠিল—ও ! অপু, হরিকাকার ছেলে ! এসো এসো ভাই, এসো। পরে সে অপর চিবকে পশ করিয়া আদর করিল এবং কি বলিতে গিয়া ঝর ঝর করিয়া কাঁদিয়া ফেলিল । অদ্ভুত মহত । এমন সব অপৰব সপবিত্র মহত্তও জীবনে আসে ! লীলাদির ঘনিষ্ঠ আদরটুকু অপর সারা শরীরে একটা স্নিগ্ধ আনন্দের শিহরণ আনিল । গ্রামের মেয়ে, তাহাকে ছোট দেখিয়াছে, সে ছাড়া এত আপনার জনের মত অন্তরঙ্গতা কে দেখাইতে পারে ? লীলাদি ছিল তাহাদের ধনী প্রতিবেশী ভুবন মল্লখয্যের মেয়ে, বয়সে তাহার অপেক্ষা অনেক বড়, অলপ বয়সে বিবাহ হইয়াছিল, তারপরেই খবশরেবাড়ি চলিয়া আসিয়াছিল ও সেইখানেই থাকিত। শৈশবে অলপদিন মাত্র উভয়ের সাক্ষাৎ কিন্তু আজ অপর মনে হইল লীলাদির মত আপনার জন সারা কাশীতে আর কেহ নাই । শৈশব-স্বপ্নের সেই নিশ্চিন্দিপুর, তারই জলে বাতাসে দু'জনের দেহ পষ্ট ও বন্ধিত হইয়াছে একদিন । , তারপর লীলা অপর জন্য আসন আনিয়া পাতিয়া দিল, দালানেই পাতিল, ঘরদোর বেশী নাই, বিশেষ করিয়া পরের সংসার, নিজের নহে। সে নিজে কাছে বসিল, কত খোঁজ-খবর লইল । অপর বারণ সত্বেও ছেলেকে দিয়া জলখাবার আনাইল, চা করিয়া দিল । - তারপর লীলা নিজের অনেক কথা বলিল। বড় ছেলেটি চৌদ্দ বছরের হইয়া মারা গিয়াছে, তাহার উপর সংসারের এই দদশা । উনি পক্ষাঘাতে পঙ্গ, ভাশরের সংসারে চোর হইরা থাকা, ভাশর লোক মূন্দ নন, কিন্তু বড়জা—পায়ে কোটি কোটি দণ্ডবৎ । দদেশার একশেষ । সংসারের যত উৎ কাজ সব তাহার ঘাড়ে, আপন জন কেহ কোথাও নাই, বাপের বাড়িতে এমন কেহ নাই যাহার কাছে দই দিন গিয়া আশ্রয় লইতে পারে। সতু বি. র ৩–৯