পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত ఏరిd; এক অদ্ভুত ভঙ্গী করিয়া আদরের প্রতীক্ষায় থাকে, আর এত আদর খাইতেও পারে। অপ বলিল, শোন খোকা গপ করি,—ঘমস নে— কাজল হাসিমুখে বলে, বলো দিকি বাবা একটা অথ* ? হাত কন কন মানিকতলা, এ ধন তুমি পেলে কোথা, রাজার ভান্ডারে নেই, বেনের দোকানে নেই— অপ মনে মনে ভাবে—খোকা, তুই—তুই আমার সেই বাবা। ছেলেবিলায় চলে গিয়েছিলে, তখন তো কিছু বুঝি নি, বঝতামও না—শিশ ছিলাম। তাই আবার আমার কোলে আদর কাড়াতে এসেছ বুঝি ? মুখে বলে, কি জানি, জাতি বুঝি ? —আহা-হা, জাতি কি আর দোকানে পাওয়া যায় না ! তুমি বাবা কিচ্ছ জান না— —ভাল কথা, কেক এনেছি, দ্যাখ্য, বড়লোকের বাড়ির কেক, ওঠ,— —বাবা তোমার নামে একখানা চিঠি এসেছে, ঐ বইখানা তোলো তো ।” আর্টিস্ট বন্ধটির পত্র । বন্ধ লিখিয়াছে,—সমুদ্রপারের বৃহত্তর ভারতবর্ষ" শধ্যে কুলী-আমদানীর সাথকতা ঘোষণা করিয়া নীরব থাকিয়া যাইবে ? তোমাদের মত আটিস্ট লোকের এখানে আসার যে নিতান্ত দরকার। চোখ থাকিয়াও নাই-শতকরা নিরানব্বই জনের, তাই চক্ষ,মান মানুষদের একবার এ-সব স্হানে আসিতে বলি । পত্রপাঠ এসো, ফিজিতে মিশনারীরা স্কুল খলিতেছে, হিন্দী জানা ভারতীয় শিক্ষক চায়: দিনকতক মাসটারী তো করো, তারপর একটা কিছু ঠিক হইয়া যাইবে, কারণ চিরদিন মাস্টারী করিবার মত শান্ত ধাত তোমার নয়, তা জানি । আসিতে বিলম্ব করিও না । পত্র পাঠ শেষ করিয়া সে খানিকক্ষণ কি ভাবিল, ছেলেকে বলিল, আচ্ছা খোকা, আমি তোকে ছেড়ে কোথাও যদি চলে যাই, তুই থাকতে পারবি নে ? যদি তোকে মামার বাড়ি রেখে যাই ?— কাজল কাঁদ কাঁদ মুখে বলিল, হ্যা তাই যাবে বৈকি ! তুমি ভারী দেরি কর, কাশীতে বলে গেলে তিন দিন হবে, ক'দিন পরে এলে ? না বাবা— অপর ভাবিল, অবোধ শিশু ! এ কি কাশী ? এ বহৃদরে, দিনের কথা কি এখানে ওঠে ?—থাক, কোথায় যাইবে সে ? কাহার কাছে রাখিয়া যাইবে খোকাকে ? অসম্ভব ! কাজল ঘুমাইয়া পড়িলে ছাদে উঠিয়া সে অনেকক্ষণ একা বসিয়া রহিল। দরে বাড়িটার মাথায় সাঁকুলার রোডের দিকে ভাঙা চাঁদ উঠিতেছে, রাত্ৰি বারোটার বেশী —নিচে একটা মোটর লরী ঘস ঘস আওয়াজ করিতেছে । এই রকম সময়ে এই রকম ভাঙা চাঁদ উঠিত দরে জঙ্গলের মাথায় পাহাড়ের একটা জায়গায়, যেখানে উটের পিটের মত ফুলিয়া উঠিয়াই পরে বসিয়া গিয়া একটু খাঁজের সষ্টি করিয়াছে—সেই খাঁজটার কাছে, পাহাড়ী ঢালতে বাদাম গাছের বনে দিনমানে পাকা পাতায় বনশীষ যেখানে রক্তাভ দেখায়। এতক্ষণে বন-মোরগেরা ডাকিয়া উঠিত, কক, কক, কক- இ. সে মনে মনে কল্পনা করিবার চেণ্টা করিল, সাকুলার রোড নাই, বাড়িঘর নাই, মোটর লরীর আওয়াজ নাই, ব্রিজের আড্ডা নাই, লিলি পণ্ড" নাই, তার ছোট খড়ের বাংলো ঘরখানায় রামচরিত মিশ্র মেজেতে ঘমোইতেছে, সামনে পিছনে ঘন অরণ্যভূমি, নিৎজ’ন, নিস্তদ্ধ, আধ-অন্ধকার রাত্রি। ক্লোশের পর ক্লোশ যাও, শুধ উচু নীচু ডাঙ্গা, শুকনা ঘাসের বন, সাজা ও আবলসের বন, শালবন, পাহাড়ী চামেলি ও লোহিয়ার বন—বনফুলের অফুরন্ত জঙ্গল । সঙ্গে সঙ্গে মনে আসিল সেই মুক্তি, সেই রহস্য, সে সব অনুভূতি, ঘোড়ার পিঠে মাঠের পর মাঠ উন্দাম গতিতে ছটিয়া চলা, সেই দঢ়-পেরিষে জীবন, আকাশের সঙ্গে, ছায়াপথের সঙ্গে, নক্ষত্ৰজগতের সঙ্গে প্রতি সন্ধ্যায় প্রতি রাত্রে যে অপাব মানসিক সম্পক ।