পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৩৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৩৬ বিভূতি-রচনাবলী এই কি জীবন সে যাপন করিতেছে এখানে ? প্রতিদিন একই রকম একঘেয়ে নীরস, বৈচিত্র্যহীন—আজ যা, কালও তা । অথ"হীন কোলাহলে ও সাথকতাহীন ব্রিজের আড্ডার * আবহাওয়ায়, টাকা রোজগারের মগর্তৃষ্ণিকায় লব্ধ জীবন-নদীর স্তব্ধ, সহজ, সাবলীল ধারা যে দিনে দিনে শুকাইয়া আসিতেছে, এ কি সে বুঝিয়াও বুঝিতেছে না ? 蠱 ঘুমের ঘোরে কাজল বিছানার মাঝখানে আসিয়া পড়িয়াছে, তাহাকে এক পাশে সরাইয়া শোয়াইল। একেই তো সন্দের, তার উপর কি যে সুন্দর দেখাইতেছে খোকাকে ঘনমস্ত অবসহায় ! কাশী হইতে ফিরিবার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে অপর বিভাবরী, ও বঙ্গ-সহৃং’ দখানা পত্রিকার তরফ হইতে উপন্যাস লিখিতে অনর্যন্ধ হইয়াছিল। দখোনাই প্রসিদ্ধ মাসিক পত্র, দখোনারই গ্রাহক সারা বাংলা জড়িয়া এবং পথিবীর যেখানে যেখানে বাঙালী আছে,সবর। বিভাবরী তাহাকে সম্প্রতি আগাম কিছু টাকা দিল—‘বঙ্গ-সহৎ’-এর নিজেদের বড় প্রেস আছে—তাহারা নিজের খরচে অপর একখানা ছোট গল্পের বই ছাপাইতে রাজী হইল । অপর বইখানির বিক্রয়ও হঠাৎ বাড়িয়া গেল, আগে যে সব দোকানে তাহাকে পাছিতও না— সে সব দোকান হইতে বই চাহিয়া পাঠাইতে লাগিল । এই সময়ে একটি বিখ্যাত পুস্তকপ্রকাশক ফামের নিকট হইতে একখানা পত্র পাইল, অপ, যেন একবার গিয়া দেখা করে। অপ; বৈকালের দিকে দোকানে গেল। তাহারা বইখানির দ্বিতীয় সংস্করণ নিজেদের খরচে ছাপাইতে ইচ্ছক—অপর কি চায় ? অপর ভাবিয়া দেখিল । প্রথম সংস্করণ হয়-হ কাটিতেছে—অপণার গহনা বিক্রয় করিয়া বই ছাপাইয়াছিল, লাভটা তার সবই নিজের । ইহাদের দিলে লাভ কমিয়া যাইবে বটে, কিন্ত দোকানে ছাটাছুটি, তাগাদা—এসব হাঙ্গামাও কমিবে । তা ছাড়া নগদ টাকার একটা মোহ আছে, সাত পাঁচ ভাবিয়া সে রাজী হইল । ফামের কত্তা তখনই একটা লেখাপড়া করিয়া লইলেন—আপাততঃ ছ'শো টাকায় কথাবাত্তা মিটিল, শ'-দুই সে নগদ পাইল । দশো টাকা খচরা ও নোটে । এক গাদা টাকা । হাতে ধরে না। কি করা যায় এত টাকায় ? প্রানো দিন হইলে সে ট্যাক্সি করিয়া খানিকটা বেড়াইত, রেস্টুরেটে খাইত, বায়োকোপ দেখিত। কিন্ত আজকাল আগেই খোকার কথা মনে হয়। খোকাকে কি আনন্দ দেওয়া যায় এ টাকায় ? মনে হয় লীলার কথা। লীলা কত আনন্দ করিত আজ ! একটা ছোট গলি দিয়া যাইতে যাইতে একটা শরবৎ-এর দোকান। দোকানটাতে পান বিড়ি বিস্কুট বিক্ৰী হয়, আবার গোটা দই তিন সিরাপের বোতলও রহিয়াছে। দিনটা খুব গরম, অপর শরবৎ খাওয়ার জন্য দোকানটাতে দাঁড়াইল । অপর একটু পরেই দটি ছেলেমেয়ে সেখানে কি কিনিতে আসিল । গলিরই কোন গরীব ভাড়াটে গহস্থ ঘরের ছোট ছেলে মেয়ে —মেয়েটি বছর সাত, ছেলেটি একটু বড়। মেয়েটি আঙ্গুল দিয়া সিরাপের বোতল দেখাইয়া বলিল—ওই দ্যাখ দাদা সবজে-বেশ ভালো, না ? ছেলেটি বলিল—সব মিশিয়ে দ্যায় । বরফ আছে, ઉદ્દે বে —ক’ পয়সা নেয় ? —চার পয়সা । অপর জন্য দোকানী শরবৎ মিশাইতেছে, বরফ ভাঙিতেছে, ছেলেমেয়ে দটি মন্থনেলে দেখিতে লাগিল। মেয়েটি অপর দিকে চাহিয়া বলিল—আপনাকে ওই সবজি বোতল থেকে দেবে না ? 藝 যেন সবুজ বোতলের মধ্যে শচীদেবীর পায়স পোরা আছে। অপর মন কর্ণাদ্র হইল। ভাবিল—এরা বোধ হয় কখনও কিছু দেখে নি—এইরং-করা