পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Şab বিভূতি-রচনাবলী কেদার বললেন, আমি—তা—না হয় দেউড়িতে গিয়ে বসি মা—তুই ঘমো— —না তা হবে না। আমি মাথা কুটে মরবো, এই এত রাত্রে অন্ধকারে সাপখোপের মধ্যে তুমি এখন জঙ্গলের মধ্যে দেউড়িতে বসে বেহালা বাজাবে ? রাখ ওসব— কেদার অগত্যা বেহালা রেখে দিলেন । মেয়েমানুষদের নিয়ে মহা মুশকিল । এরা না বোঝে সঙ্গীতের কদর, না বোঝে কিছল । তাঁর মাথায় সত্যিই একটা চমৎকার সরে খেলছিল, এই দুপর নিস্তধ নিজন রাত্রি, সরটা বেহাগ—রক্তমাংসের শরীরে এ সময় তারের ওপর ছড় চালানোর প্রবল লোভ সামলানো যায় ? মেয়েমানুষ কি বুঝবে ? কেদার বিকেলবেলা গেয়োখালির হাটে যাবার পথে সাধ সেকরার দোকানে একবারটি ঢুকলেন, উদ্দেশ্য তামাক খাওয়াও বটে, অন্য একটি উদ্দেশ্যও ছিল না যে এমন নয়। সাধ সেকরার বয়েস হয়েছে, নিজে সে একটি হরিনামের বুলি নিয়ে একটা জলচৌকিতে বসে মালাজপ করে, তার বড় ছেলে নন্দ দোকান চালায় । ব্রাহ্মণসহজনে সাধর বড় ভক্তি— কেদারকে দেখে সে হাত জোড় করে বললে—আসন, ঠাকুরমশায়, প্রণাম হই—ওরে টুলটা বার করে দে—ব্রাহ্মণের হকোতে জল ফেরা— "কেদার বললেন—তার পর, ভাল আছ সাধন ? তোমার কাছে এসেছিলাম একটা কাজে— আমার কিছু টাকার দরকার—তোমার এ বছরের খাজনাটা এই সময়— সাধর অবস্হা ভালই, কিন্ত মুখে মিন্ট হলেও পয়সাকড়ি সম্বন্ধে সে বেজায় হ:শিয়ার। কেদারকে যা হয় কিছল বুঝিয়ে দেওয়া কঠিন নয় তা সে বিলক্ষণ জানে—সে বিনীত ভাবে হাত জোড় করে বললে, বড্ড কষ্ট যাচ্ছে ঠাকুরমশায়, ব্যবসার অবস্হা যে কি যাচ্ছে, সোনার দর এই উঠচে এই নামচে, সোনার দর না জোয়ারের জল ! আর চলে না ঠাকুরমশাই—এই সময়টা একটু রয়ে বসে নিতে হচ্ছে—আপনি রাজা লোক, আপনার খেয়েই মানুষ— কেদার চক্ষ লজ্জায় পড়ে আর খাজনা চাইতে পারলেন না। হাটে ঢুকে আরও দু-একজনের কাছে প্রাপ্য খাজনা চাইলেন—সকলেই তাদের দ,ঃখের এমন বিস্তারিত ফন্দ দাখিল করলে যে কেদার তাদের কাছেও জোর করে কিছু বলতেই পারলেন না । হাটের জিনিসপত্রও সতরাং বেশী কিছু কেনা হ’ল না—হাতে পয়সাকড়ি বিশেষ নেই। সতীশ কলার দোকানে ধারে তেল নিয়েছিলেন ওমাসে—এখনও একটি পয়সা শোধ দিতে পারেন নি, অথচ সষের তেল না নিয়ে গেলে রান্না হবার উপায় নেই, মেয়ে বলে দিয়েছে । সতীশ বললে, আসন দাদাঠাকুর, তেল দেবো নাকি ? সতীশের দোকানে কোণের দিকে যে ঘাপটি মেরে বন্ধ জগন্নাথ চাটুজে বসেছিলেন, তা প্রথমটা কেদার দেখতে পান নি, এখন মুশকিল জগন্নাথ চাটুজে লোক ভাল নয়, গায়ের গেজেট, তার সামনে সতীশকে ধারের কথা বলতে কেদারের বাধল—অথচ না বললেও নয় । জগন্নাথ উঠলে না হয় বলবেন এখন । জগন্নাথ চাটুজে হেকে বললেন, ওহে কেদার রাজা, এস এস, এদিকে এস ভায়া—তামাক খাও— কেদার বললেন, জগন্নাথ দাদা যে ! ভাল সব ? —ভাল আর কই, আবার শনেছ তো ওপাড়ার নীলমণি গোঁসাইয়ের বাড়ির ব্যাপার । শোন নি ? তা শুনবে আর কোথা থেকে—শুধু মাছ ধরা নিয়ে আছ বই তো নয়—সরে এস ইদিকে বলি—ঘোর কলি হে ভায়া ঘোর কলি,জাতপাত আররইল নাগায়ের বামনেরজগন্নাথ চাটুজের কথা শোনবার কোন আগ্রহ ছিল না কেদারের—পরের বাড়ির কুৎসা ছাড়া তিনি থাকেন না। কিন্ত একে এখান থেকে সরাবার উপায় না দেখলে তো তেল