পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা - ১৮৭ বন্ধের চোখে জল দেখা দিল। শরতের মাথায় হাত দিয়ে বললে, এমন সেবা আমার আপনার লোক কখনো করে নি। আমার পয়সা নেই, পয়সা থাকলে হয়তো তারা করতো । তুমি যে বড় বংশের মেয়ে তা তোমার অন্তর দেখেই বোঝা যায়। তুমি আমার যা করলে, কখনো তা পাই নি কারো কাছ থেকে । তোমায় আর কি বলে আশীবাদ করবো মা, ভগবান যেন তোমায় দেখেন । কেদার বললেন, আপনি কি এখন বাড়ি যাবেন ? —না রাজামশায়—বেরিয়ে পড়েছি যখন, তখন ভাল করে সব দেখে নিই। অনেক . কিছু দেখলাম আরও অনেক কিছ দেখব। আপনাকে আর মাকে যা দেখলাম এই তো আমার কাছে একেবারে নতুন । বাড়ি থেকে না বেরলে কি আপনাদের মত মানষের দশন পেতাম ? ফেরবার পথে আপনাদের সঙ্গে দেখা না করে যাবো না । অনেক দিন পরে বাড়ি থেকে বেরবার অবকাশ পেলেন । বন্ধের অসুখ সেরে গেলেও রশ্ন অতিথিকে একা ফেলে কেদার কোথাও যেতে পারতেন না বড় একটা । সম্ভব"দা কাছে বসে কথাবাত্তা বলতেন । আজ একটা বড় দায়িত্বের বোঝা যেন ঘাড় থেকে নেমে গেল । ছিবাস মদির দোকানের আড্ডায় জগন্নাথ চাটুজে বললে—আরে এই যে কেদার রাজা, এসো এসো—কি হ’ল, অতিথি চলে গেল ? যাক, বাঁচা গিয়েছে—আচ্ছা অতিথি জটিয়েছিলে বটে ! বাপরে, একেবারে একটি মাসের মত জড়ে বসলো—যাবার নামটি করে না । 鲇 কেদার হেসে বললেন, কি করে যায় বলো—বেচারী এসেই পড়ে গেল অসুখে । লোক বড় ভাল, তার কোনো ত্রুটি নেই। তার পর, জগন্নাথ-খড়ো—এখানে কি মনে করে ? তোমাকে তো দেখিনে এখানে আসতে ? জগন্নাথ বললে, মাঝে মাঝে আসি আজকাল। একা বাড়ি বসে থাকি আর ওই একটু সতীশের দোকান নয় তো পঞ্চানন বিশ্বেসের বাড়ি—কোথায় যাই বলো আর ? একটু বেহালা ধরো দিকি হে বাবাজী—তোমার বাজনা শুনি নি অনেক দিন।-- শরৎ সম্প্রধ্যাবেলায় উত্তর দেউলে প্রতিদিনের মত প্রদীপ দিতে গেল । দীঘির পশ্চিম পাড় ঘরে সেই বড় বড় ছাতিম গাছতলা দিয়ে প্রায় তিন রশি পথ যেতে হয়—বন্ড বন এখানটাতে। বাদড়নখাঁর জঙ্গলে শুকনো বাদড়নখী ফল অকিড়ে ধরে রোজ শরতের পরনের কাপড়। রোজ ছাড়াতে হয় । যে গন্বজোকৃতি মন্দিরটার নাম উত্তর দেউল', সেটা একেবারে এই পায়ে চলা সর পথের পাশেই, গড়ের খালের ধারের ধ্বংসস্তুপ থেকে একটু দরে, স্বতন্ত্র ভাবে দণ্ডায়মান । বাদড়নখাঁর কাঁটাজাল ভেঙে পথটা এসে একেবারে মন্দিরের ভাঙা পৈঠায় উঠেছে। মাটি থেকে খুব উচু রোয়াক, তার ওপর গোল গম্বুজাকৃতি মন্দির—দুটি কুঠুরি পাশাপাশি। কি উচু ছাদ —শরতের মনে হয় মন্দিরের মধ্যে ঢুকতেই । চামচিকের বাসা—দোর খলতেই খোলা দরজা দিয়ে একপাল চামচিকে উড়ে পালালো। "ভেতরের কুঠুরিতে বেশ অন্ধকার । গা ছমছম করে সাহসিকার, তবুও তো ওর হাতে মাটির প্রদীপ মিটমিট জলছে, আচল দিয়ে আড়াল করে আনতে হয়েছে পাছে বাতাসে নেবে। আলো হাতে ভয় কিসের ? হঠাৎ যেন পাশের কুঠুরিতে কার পায়ের শব্দ শোনা গেল অন্ধকারে । শরতের বকের মধ্যে ঢিপ ঢপ করে উঠল—তবুও সে সাহসে ভর করে কড়া-সরে হেকে বললে—কে ওখানে ? ওর হাত কপিছে 1*** কোনো সাড়া না পেয়ে শরৎ সাহসে ভর করে আর একবার ডেকে বলল—কে পাশের